Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

স্বপ্ন পূরণের দ্বারপ্রান্তে এসে বাধা

Icon

লতিফ রানা

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৯:৫৭ পিএম

স্বপ্ন পূরণের দ্বারপ্রান্তে এসে বাধা
Swapno


# শহর-বন্দরবাসীর ভোগান্তি কমাতে এই সেতু ছিল আশা জাগানিয়া

শীতলক্ষ্যা নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা নারায়ণগঞ্জ শহর শত শত বছর পূর্ব থেকেই খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং দেশের অন্যতম শিল্প ও বাণিজ্যিক এলাকা। এই শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে অবস্থিত নদী বন্দরটি খুব প্রসিদ্ধ হওয়ায় নদীর পূর্ব পারের এলাকাটিও বন্দর নামে পরিচিতি লাভ করে বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়।

 

 

 

তাই শীতলক্ষ্যা নদী বন্দর তথা সমগ্র নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্যই আশীর্বাদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। তবে একটি কারণে বন্দরবাসী শীতলক্ষ্যাকে আবার অভিশাপ হিসেবেও দেখে। কেননা শহরবাসীর কাছ থেকে বন্দরবাসীকে বিভক্ত করে রেখেছে এই শীতলক্ষ্যা নদী। এরফলে শহরের উন্নয়নের সুবিধা ও সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।

 

 

 

গুরুতর রোগী, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যদ্রব্য কিংবা জরুরী কোন ইকুয়েপমেন্ট নিয়ে দ্রুত সময়ে শহর-বন্দরে যাতায়াতের কোন ব্যবস্থা নেই। যদিও এখন বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে এখন হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ ঘাটে ফেরি সার্ভিসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

 

 

 

এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বৃহত্তর ও ভারি সামগ্রী নিয়ে শহরে যাতায়াত করা সহজ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তাতে দ্রুত সময়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বা নিজেদের ইচ্ছে মতো সময়ে যাতায়াতের ব্যবস্থা হয়নি। ঘাটে এসে একটি ফেরি মিস করলে ৩০ মিনিট থেকে এক ঘন্টা পর্যন্ত সময় অপেক্ষা করতে হয়।

 

 

 

তাছাড়া ফেরিতে উঠার রাস্তায় কোন সমস্যা দেখা দিলে কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে কতদিন যাবত ভূগতে হবে তার কোন ঠিক-ঠিকানা নেই। তাই বন্দরবাসীর প্রাণের দাবি নবীগঞ্জ থেকে লঞ্চ টার্মিনাল মধ্যকার যেকোন এলাকা দিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীর উপর দিয়ে একটি সেতু করে দেওয়ার।

 

 

 

বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, রাজনৈতিক নেতা বন্দরবাসীকে স্বপ্ন দেখায় এখানে সেতু তৈরি করে দেওয়ার। এরই মধ্যে সরকার আসে সরকার যায়, নেতা আসে নেতা যায়, নির্বাচন আসে নির্বাচন যায়, কিন্তু বন্দরবাসীর সেই স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়, সেতু আর হয় না।

 

 

 

তাই এখন নদী পথে যাতায়াতের সময় অনেক বন্দরবাসীকেই আক্ষেপ করে বলতে শোনা যায়, নির্বাচন আসলেই নেতাদের মুখে সেতুর কথা শুনি, তারপর যেই লাউ সেই কদু। আমাদের কপালে আর সেতু নাই।

 

 

 

অনেকেই আবার তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুকে (নাসিম ওসমান সেতু) বন্দরবাসীর সেই চাহিদার ফসল হিসেবে দেখিয়ে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করেন। আসলে সেই সেতুটি বন্দর ও শহারবাসীর মধ্যকার গণযোগাযোগে কোন ভূমিকা রাখতে পারবে না বলে মনে করেন বন্দরবাসী। এটা শুধু বাণিজ্যিক ও মালবাহী পরিবহনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে বলে দাবি করেন তারা।

 

 


২০০৬ সালের অক্টোবরের দিকে বিএনপি সরকারের শেষ সময়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ ঘাট এলাকায় সেতু ভিত্তিপ্রস্তরে উদ্বোধন করেন। একই সাথে পরবর্তী মেয়াদে ক্ষমতায় আসলে এই সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। এরপর লম্বা একটা সময় যাবত সরকারের বাইরে আছে বিএনপি। ফলে তাদের মাধ্যমে সেতুর কাজ করা সম্ভব হয়নি।

 

 

 

এরপর তত্ত্ববধায়ক সরকারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক জটিলতায় পার হয়ে যায় প্রায় তিন বছর। এরপর টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় আছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে সদর-বন্দর আসনের সংসদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়রও এই সেতু করার ঘোষণা দেন।

 

 

 

কিন্তু তা বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ দেখতে পাননি বন্দরবাসী। ২০১৬ সালের নাসিক নির্বাচনের আগে এই সেতুর বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন মেয়র আইভী। নবীগঞ্জ ঘাট ও ৫নং খেয়াঘাট বিভিন্ন যাচাই বাছাইয়ের পর ঘোষণা করা হয় ৫নং খেয়াঘাট এলাকা দিয়ে হবে সেতু; এর নামকরণ করা হয় কদম রসুল সেতু।

 


 
এরপর ২০১৮ সালের ৯ অক্টোবর একনেকের সভায় ৫৯০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে কদম রসুল সেতু নির্মাণের অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্যে মূল সেতুর জন্য খরচ ধরা হয় ৪৩০ কোটি টাকা এবং বাকি ১৬০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয় জমি অধিগ্রহণসহ অন্যান্য খরচের জন্য।

 

 

 

৫নং ঘাট থেকে বন্দরের একরামপুর হয়ে ১৩৮৫ মিটার দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করা হয়। যার মূল সেতুর দৈর্ঘ্য ৩০০ মিটার। তবে বিভিন্ন জটিলতার কারণে সেই কাজ ধরা বা টেন্ডার দেওয়া সম্ভব হয়নি।

 


 
কদম রসুল সেতুর বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আবদুল আজিজ বলেন, ‘আমরা সেতুর মোট তিনটি নকশা তৈরি করেছি। আমরা প্রথমে ইউটিউবসহ বিভিন্ন মাধ্যমে যে নকশাটি দেখেছেন সেটিকে নির্ধারণ করেছিলাম।

 

 

 

পরে এলজিইডি থেকে নকশা পরিবর্তন করে আমাদেরই তৈরি করা অন্য আরেকটি নকশা নির্ধারণ করেছে। তিনি আরও জানান, জমি অধিগ্রহণের জটিলতায় দীর্ঘ একটি সময় চলে গেছে। এখন বিষয়টি এলজিইডি দেখছে।’

 


 
এলজিইডি’র কদম রসুল সেতুর দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী বিল্লাল হোসেন জানান, ‘কুমুদিনীর জায়গা নিয়ে সমস্যা হওয়ায় দেরি হয়েছে। এখন রেলওয়ের সাথে মিমাংসা হলেই সমস্যা সমাধান হবে।’

 


 
কদম রসুল সেতুর বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে গত ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বাজেট  ঘোষণা অনুষ্ঠানে মেয়র ডা. সেলিনা হায়াতা আইভী বলেন, ‘সেতুটি কাজ আরও এক বছর আগেই শুরু হওয়ার কথা ছিল।

 

 

 

কিন্তু এই সেতু নির্মাণের বিষয়ে প্রথমে বাধা দেওয়া হয় কুমুদিনীকে দিয়ে, সেই বাধা শেষ করতে প্রায় এক বছর কেটে গেছে। এতে করে সেতুর নির্মাণ ব্যয় বেড়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকা। তারপর বাধা হয়ে দাঁড়ায় রেলওয়ে ও খাদ্য গুদাম বিভাগ। খাদ্য গুদামের বিষয়টা মিমাংসা হয়ে যাবে।

 

 

 

কিন্তু রেলওয়ে এক চুক্তিতে ১৬ একর জায়গা দিয়ে দিয়েছে রাস্তা নির্মাণ করার জন্য। অথচ কদম রসুল সেতু করতে আমাদের ১ একর জায়গা লাগবে সেটা রেলওয়ে দিচ্ছে না। রেলওয়ের সার্টিফিকেট পেলেই আমরা টেন্ডারে চলে যেতে পারবো। এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন