# দ্বিতীয় মেয়াদে এমপি হওয়ার পর বিতর্ক দ্বিগুণ
টানা দ্বিতীয় বারের মত নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জাতীয় পার্টির এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা। টানা দ্বিতীয় মেয়াদে এই আসনে সাংসদ হিসেবে অধিষ্ঠ হতে জাতীয় পার্টির নেতাদের থেকে সবচেয়ে বেশী ভূমিকা ছিল আওয়ামী লীগের একাংশের নেতাদের। কিন্তু দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বছর খানেক আগে থেকেই নিজ দল জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী করতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ইতিমধ্যেই জাতীয় পার্টির মূলদল ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনগুলোর তৃণমূল পর্যায়ে কমিটি গঠন করে জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দের নিয়ে তার সংসদীয় আসন সোনারগাঁয়ে শক্তি সঞ্চার করতে চাচ্ছেন। কিন্তু আগামী সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দদের নিয়ে নির্বাচনী বৈতরনী পার করা নিয়ে সঙ্কায় রয়েছে। কারণ আওয়ামী লীগের একাংশের সমর্থন ছাড়া কোন ভাবেই তার সংসদ নির্বাচনের বৈতরনী পার করা সম্ভব নয় এমনটাই ধারণা করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বোদ্ধমহল।
সূত্রে জানায়, ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোট থেকে মনোনয়ন পেয়ে প্রথম বারেরর মত সংসদ নির্বাচিত হন লিয়াকত হোসেন খোকা। তাকে সংসদ বানানোর মূল ভূমিকায় ছিল তার রাজনৈতিক গুরু নাসিম ওসমান পাশাপাশি তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু শামীম ওসমান। কিন্তু তার রাজনৈতিক গুরু নাসিম ওসমানের মৃত্যুর পর তার পরম বন্ধু শামীম ওসমানের ছত্রছায়ায় রাজনীতি পরিচালনা করছেন।
সূত্র জানায় যে, সংসদ হওয়ার আগে কখনো তার সোনারগাঁয়ে কোন বিচরণ ছিল না খোকার। সে সোনারগাঁবাসীর কাছে এক অপরিচিত মুখ ছিল। কিন্তু সংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর নানা ধরনের কৌশল করে সভা সমাবেশ করে মানুষের নজরে আসতে চাচ্ছিলেন কিন্তু তিনি বরাবরই ব্যর্থ হচ্ছিলেন। সে সময় তিনি একটি নতুন কৌশল আটেন সোনারগাঁ সকল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, ওয়ার্ড মেম্বার থেকে শুরু করে পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলর উপজেলার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সোনারগাঁ জনপ্রতিনিধি ঐক্য ফোরাম তৈরী করেন।
যেখানে আওয়ামী লীগ, বিএনপির চেয়ারম্যান মেম্বারাও এই ফোরামে ছিল। পরবর্তীতে এই ফোরামের সভাপতি হন সাসংদ লিয়াকত হোসেন খোকা এবং বর্তমান উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রউফকে সাধারণ সম্পাদক করে সোনারগাঁয়ের সকল জনপ্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করে এই ফোরাম গঠন করে।
সূত্রে আরো জানায়, এই কমিটি গঠনের ছত্রছায়ায় ছিল তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমান। কারণ তার ভয়ে আওয়ামী লীগের অনেক জনপ্রতিনিধি ফোরামে অন্তর্ভুক্ত না হতে চাইলেও পরবর্তীতে অদৃশ্য কারণে তারাও এই ফোরামে অন্তর্ভুক্ত হয়। আর এই ফোরামের মাধ্যমেই আওয়ামী মনোনয়ন বঞ্চিত ও সাবেক এমপির বলয়কে দূর্বল করা হত।
আর এই ফোরামের মাধ্যমেই ২০১৮ সালের নির্বাচন পর্যন্ত দাপটের সাথে সোনারগাঁয়ে এমপি গিরি করেন খোকা। পরকর্তীতে ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে আবার মহাজোট থেকে মনোনয়ন পেয়ে যান খোকা। কিন্তু ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে ছাড় দিতে নাড়াজ ছিলেন সাবেক এমপি। তারপর সাবেক এমপির সাথে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়। সে সময় সাবেক এমপি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সিংহ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে কিন্তু সেই সিংহ মার্কার গঞ্জনে তটস্থ হয়ে যান খোকা।
তারপর আবারও সেই সোনারগাঁ জনপ্রতিনিধি ঐক্য ফোরামের জনপ্রতিনিধিরা একাট্রা হয়ে মাঠে নামেন লাঙ্গের পক্ষে। এই সংসদ নির্বাচনে তার পরম বন্ধু শামীম ওসমান তার নির্বাচনী আসন রেখে তার পক্ষে সোনারগাঁয়ে এসে লাঙ্গলের ভোট চান এবং তার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের শাসিয়ে যান। তারপর নির্বাচনের দুদিন আগে তার প্রধান প্রতিপক্ষ সাবেক এমপি নির্বাচন থেকে শরে দাড়ান।
তারপর এমনিতেই তার জয় নিশ্চিত হয়ে যায় তারপর আবারও দ্বিতীয় মেয়াদে এমপি হয়ে যান। কিন্তু দ্বিতীয় মেয়াদে এমপি হওয়ার পর থেকেই নানা ঘটনায় তিনি বির্তকিত হয়ে বিপাকে পড়তে থাকেন। সাংসদ নির্বাচনের কয়েক মাস পড়েই সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাচন চলে আসে সেই উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তার জনপ্রতিনিধি ফোরামে ফাটল ধরে।
সেই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পান সাবেক এমপির চাচা মোশারফ হোসেন। তখন এমপি খোকার পক্ষের প্রার্থী মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় সে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে নামায় সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কালামকে। তখন আবারও সেই ঐক্য ফোরামের বেশ কিছু জনপ্রতিনিধিদের নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়। তখন তার কুটকৌশল সফল হয়নি তার স্বতন্ত্র প্রার্থী পরাজিত হোন।
স্বতন্ত্র প্রার্থীর পরাজয়ের পর ভেঙ্গে যায় তার ফোরাম। তারপর সেই স্বতন্ত্র প্রার্থী তাকে ছেড়ে আবার সেই সাবেক এমপির বলয়ে যোগ দেন। তারপর থেকেই ক্ষমতাসীন দলের ছাঁয়া তার মাথার উপর থেকে অনেকটা সরে যায়। তখন তিনি নতুন কুটকৌশল আটতে থাকেন বিএনপির নেতাদের জাতীয় পার্টিতে যোগদান করিয়ে তার দল বারি করতে থাকেন। তার পরবর্তীতে সোনারগাঁ থানা জাতীয় পার্টির কমিটি গঠন করেন বিএনপি ও আওয়ামীলীগ থেকে যোগদান করা নেতাদের নিয়ে।
২০২০ সালের ১৭ অক্টোবর আব্দুর রউফকে সভাপতি এবং আবু নাঈম ইকবালকে সাধারন সম্পাদক করে সোনারগাঁ জাতীয় পার্টির কমিটি ঘোষণা করেন। এই কমিটির সভাপতি সাবেক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ছিলেন পাশাপাশি কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাইম ইকবাল সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন। তার পরবর্তীতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ থেকে নেতাদের ভাঙ্গিয়ে এনে ধারাবাহিক ভাবে একের পর এক কমিটি গঠন করতে ইউনিয়ন থেকে ওয়ার্ড পর্যায়ে।
আর সেই মহুর্তেই আসে খোকার রাজনীতিতে আচমকা বড় ধরনের ধাক্কা। ৩ এপ্রিল ২০২১ মামুনুল হক কান্ডে তার নেতাকর্মীরা মামলা খেয়ে গ্রেপ্তার হতে থাকেন সেই মহুর্তেই খোকার রাজনীতি গতি হুমুড়ি খেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। বেসামাল হয়ে পড়েন রাজনৈতিক ভাবে খোকা পাশাপাশি তার নির্বাচনী এলাকায় বিচরনও কমিয়ে দেন। তারপর সোনারগাঁয়ের রাজনীতিতে আবারও সাবেক এমপির প্রভাব বেড়ে যায়।
দীর্ঘদিন বেশ দাপটের সাথে বুক ফুলিয়ে সোনারগাঁয়ে রাজনীতি করেন সাবেক এমপি। তারপর আবারও এই মামলা কাটিয়ে নেতাকর্মীদের নিয়ে সোনরগাঁয়ে বিচরণ করতে থাকেন এমপি খোকা। তারপর আবারও রাজনীতিতে সংক্রিয় হওয়ার সুযোগ এসে পড়ে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের মাধ্যমে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী চেয়ারম্যান প্রার্থীদের সাথে সখ্যতা বাড়িয়ে দিয়ে তাদের গোপনে সমর্থন দেন।
পাশাপাশি যেখানে আওয়ামী চেয়ারম্যান প্রার্থীদের সমর্থন দেন নাই সেখানে তার প্রার্থী দিয়ে নির্বাচন করান এবং একটি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নির্বাচিতও করান। তখন তিনি আরেকটি সুযোগ নেন আওয়ামী মনোনয়ন বঞ্চিত নেতা ও নির্বাচনে পরাজিত মেম্বাদের তার দলে বিড়িয়ে আবারও রাজনীতিতে সংক্রিয় হয়ে পড়েন। তাদেরকে বিভিন্ন ইউনিয়ন কমিটিতে স্থান করে দেন।
পাশাপাশি বর্তমানে সেই নেতা কর্মীদের নিয়ে জাতীয় পার্টির সকল সহযোগী অঙ্গসংগঠনকে পূর্ণাঙ্গ করে জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী করার পদক্ষেপ নিচ্ছেন। কিন্তু সে তার জাতীয় পার্টির কর্মীদের বেশ একটা সাড়া ফেলতে পাড়বেন না যার কারণে সংঙ্কায় আছেন। কারণ এক সময় আওয়ামী লীগের একটা অংশের তার সুসম্পর্ক ছিল। এসব নেতাদের মাধ্যমে তার যত রকমের বাধা বিপত্তি ছিল নিরসন কওে ফেলতে পাড়তেন এখন সেটা সম্ভব হচ্ছে না।
সামনে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এমনিতেই চাপে আছেন জাতীয় পার্টি এখন আওয়ামীলীগের সাথে জোটে নাই তার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের এই বক্তব্যের পর থেকে চাপে আছেন বর্তামানে মহাজোট থেকে লাঙ্গল প্রতীকের নির্বাচিত এমপিরা। যার কারণে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে এমপি হওয়া নিয়ে শংঙ্কায় পড়ে গেছেন খোকা। শেষতেক জাতীয় পার্টি যদি আওয়ামীলীগের নির্বাচনের আগ মুহুর্তে জোটে করে তারপরও তার শঙ্কা রয়ে যায় কারণ আওয়ামীলীগের একাংশের সমর্থন ছাড়া নির্বাচন বৈতরনী পার হতে পারবে না এমপি খোকা।


