# অনেক মানুষের চাহিদার জন্যই নাসিম ওসমান এই সেতুর চেষ্টা করেছেন : সেলিম ওসমান
# এই সেতুর জন্য নাসিম ওসমানের অক্লান্ত পরিশ্রম, আমি দেখেছি : পারভীন ওসমান
# একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার নামে নামকরণ, প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন : এড. দিপু
# এই সেতুর জন্য নাসিম ওসমান নিরলস পরিশ্রম করেছেন : ভিপি বাদল
অবশেষে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে নাসিম ওসমান সেতু (তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু)। আগামীকাল সকাল ১০টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেতুটি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে বিভিন্ন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এই সেতুটি চালু করা হলে দক্ষিণাঞ্চল থেকে পদ্মা সেতু হয়ে আসা যানবাহনের জন্য ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মদনপুর পয়েন্টের দুরত্ব কমে যাবে প্রায় ৯ কিলোমিটার। একই সাথে ঢাকার প্রবেশ পয়েন্ট যাত্রাবাড়িসহ যানজটের চাপ কমবে নারায়ণগঞ্জ মূল শহরের।
অন্যদিকে এই সেতুর মাধ্যমে সিলেট, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামসহ পূর্বাঞ্চলের যাতায়াত ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটবে। কাঁচপুর ও মদনপুর বাইপাস সড়কের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থারও উন্নতি ঘটবে।
শুরুতে সেতুটির নাম তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু থাকলেও গত বছরের ২৫ মে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম নাসিম ওসমানের (প্রয়াত) নামে নাসিম ওসমান সেতু নামকরণ করা হয়।
তাই সেতুটি উদ্বোধন এবং প্রয়াত সাংসদের নামে নামকরণ করায় প্রধানমন্ত্রীর নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন নাসিম ওসমানের পরিবারের সদস্যসহ শুভাকাঙ্খীগণ।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে যখন পদ্মা সেতুর অনুমোদন দেওয়া হয় তখনই নারায়ণগঞ্জের নাসিম ওসমান সেতু প্রকল্পের অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। সেই প্রস্তাবনা অনুযায়ী সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ করার কথা ছিল ২০১৩ সালের মধ্যে।
তবে সৌদি কোম্পানীর সাথে বিভিন্ন জটিলতার কারণে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয় ২০১৭ সালে। ১২৯০ মিটার দৈর্ঘ্যরে সেতুটির মূল অংশের দৈর্ঘ্য ৪০০ মিটার এবং প্রস্থ ২২ মিটার। অনুমোদনের সময় এর নির্মাণ ব্যায় ধরা হয়েছিল ৩৭৭ কোটি টাকা।
যেখানে বাংলাদেশ সরকারের তহবিল থেকে দেওয়ার কথা ছিল ৬৫ কোটি টাকা। এরপর ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারিতে যখন সৌদির উন্নয়ন তহবিল ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ উদ্যোগে সেতুটি নির্মাণের চুক্তি হয় তখন এর নির্মাণ ব্যায় ধরা হয়েছিল ৫শত ৯৯ কোটি ২৭ লাখ টাকা।
সে সময় ২০২০ সালে (করোনা মহামারী হানা দেওয়ার আগেই) এর নিমার্ণ কাজ সম্পন্ন করা হবে বলে জানানো হয়েছিল। এরপরে বিভিন্ন অসুবিধার কারণে উদ্বোধনের সময় পিছিয়ে সর্বশেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয় ১০ অক্টোবর।
অন্যদিকে নির্ধারিত সময়ে সেতুর কাজ শেষ করতে না পারায় প্রকল্পটির সর্বশেষ ব্যয় এখন দাঁড়িয়েছে প্রায় সড়ে ছয়শত কোটি টাকায়। যা অনুমোদনের প্রস্তাবের তুলনায় প্রায় ডাবল।
এই সেতুতে যানবাহন চলাচলের জন্য থাকছে ৪টি লেন। দুই পাশে সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য থাকছে ফুটপাত। সেতুটি নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে মোট ৩৮টি স্পেন।
এই সেতুটি উন্মুক্ত করার মাধ্যমে প্রত্যক্ষভাবে বন্দরবাসীর সাথে নারায়ণগঞ্জ শহরবাসীর যোগাযোগের তেমন প্রভাব না পড়লেও নারায়ণগঞ্জ তথা সমগ্র বাংলাদেশের শিল্প-বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় ঘটবে আমুল পরিবর্তন। পরিবর্তন ঘটবে দক্ষিণাঞ্চলের সাথে উত্তর, উত্তর-পূর্ব, পূর্ব ও দক্ষিণ পূর্বাংশের যোগাযোগে।
বিশেষ করে ফরিদপুর, মুন্সিগঞ্জ, খুলনা, যশোর, বরিশাল, পটুয়াখালী ও দক্ষিণাঞ্চলের জেলা গুলোর সাথে বাইপাস সড়ক হয়ে উত্তরাঞ্চলের জেলা গুলোর সাথে সাথে ব্যপকহারে উন্নয়ন ঘটবে নরসিংদী, ভৈরব, হবিগঞ্জ, সিলেট, সুনামগঞ্জ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনীসহ চট্টগ্রাম এলাকার জেলাগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থার।
অর্থাৎ নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর-মদনপুর হয়ে যেসব যানবাহনগুলো যাতায়াত করে, সেসব যানবাহনের পরিবহন দুরত্ব কমে যাবে প্রায় ৯ কিলোমিটারের মতো। আর এর ফলে নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি-পাগলা ও ঢাকার যাত্রাবাড়ির যানজট অনেকটাই উপশম হবে। শহরের পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর পর্যন্ত উড়াল সেতু নির্মিত হলে তা এই সেতুটির সৈয়দপুরের প্রান্ত যোগ করা হবে।
সেতুর উদ্বোধন এবং নামকরণের বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল বলেন, ‘১০ তারিখ নাসিম ওসমান সেতুর উদ্বোধন আমাদের জন্য আনন্দ, মহা আনন্দ। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে শুকরিয়া, আপনাদের কাছেও (মিডিয়ার কাছে) শুকরিয়া।
এই কাজের জন্য সাবেক এমপি নাসিম ওসমান (প্রয়াত) যে নিরলস পরিশ্রম করেছেন তার জন্য তিনি অমর হয়ে থাকবেন। উনার কৃত কর্মের মাধ্যমেই তিনি চির ভাস্বর ও চিরঞ্জীব হয়ে থাকবেন।’
আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য এডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু বলেন, ‘এটা আমাদের একটা অর্জন। জননেত্রী শেখ হাসিনা এলাকার মানুষের সমস্যা বা দুর্ভোগ লাঘবের জন্য এই সেতু নির্মাণ করেছেন।
এই সেতুটি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার নামে নামকরণ করেছেন সে জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন। এর পাশাপাশি কদম রসুল সেতু যেন দ্রুত সম্পন্ন হয় তার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট আহবান জানাই।’
এই বিষয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে প্রয়াত এমপি নাসিম ওসমানের সহধর্মিনী পারভীন ওসমান বলেন, ১০ তারিখ আমার স্বামীর নামে নামকরণ করা সেতু উদ্বোধন করা হচ্ছে আলহামদুলিল্লাহ। এটা আমার শান্তি। ওনি না আগালে, ওনি হাত না দিলে এই সেতু কোনদিনও হতো না।
নাসিম ওসমানের অক্লান্ত পরিশ্রম আমি দেখেছি। ওনি নিজে মন্ত্রনালয় গিয়েছেন, পিএসকে প্রতিনিয়ত পাঠিয়েছেন, কথা বলেছেন এবং নাসিম ওসমানের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল পেয়েছি আমরা। আমাদেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অবশেষে এই সেতু আমাদের উপহার দিলেন।
এজন্য আমার পরিবার, সমগ্র বন্দরবাসী ও নারায়ণগঞ্জবাসির পক্ষ হতে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। এজন্য আমরা অনেক কৃতজ্ঞ। কোন সরকারই এই সেতু করতে পারেনি। তাই নাসিম ওসমানের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসলের কারণে নারায়ণগঞ্জ ও বন্দরবাসী যতদিন বেঁচে থাকবেন ওনাকে এর মাধ্যমে অবশ্যই নাসিম ওসমানকে স্মরণ করবেন। আমার স্বামীর নামে সেতু হয়েছে এই জন্য আমি খুবই আবেগে আপ্লুত, আমি খুবই গর্ব বোধ করছি ‘
এই বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান জানান, ‘এটা আমাদের জন্য, বন্দরবাসীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর একটি উন্নয়ন। এর সাথে যদি আমাদের শান্তির চরের উন্নয়ন হয়, তাহলে নারায়ণগঞ্জে অভাব বলে কিছু থাকবে না। নারায়ণগঞ্জের আয় অনেক বেড়ে যাবে।
আমাদের শান্তির চর, লাঙ্গলবন্ধ ও কদমরসুল সেতু এই তিনটি জিনিস রয়ে গেল। এগুলো অনুমোদন হয়ে গেছে কিন্তু করোনাসহ বিভিন্ন কারণে বন্ধ হয়ে রয়েছে। এটা অনেক মানুষের চাহিদা ছিল, সেই চাহিদার জন্যই নাসিম ওসমান এই সেতুর চেষ্টা করেছেন।
নাসিম ওসমান যেটা করে গেছেন সেটা সাধারণ মানুষের জন্য। আজকে সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়েছে তারাও নাসিম ওসমানের জান্নাত লাভের জন্য দোয়া করবেন। কারও স্বপ্ন যদি বাস্তবায়িত হয়ে যায়, সাধারণ মানুষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে যদি সেটা তার নামে হয়, তার মাধ্যমে অবশ্যই নাসিম ওসমানকে সম্মান করা হলো।’ এন.এইচ/জেসি


