Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

ওসমান পরিবার মানুষ হত্যা করে শীতলক্ষ্যায় লাশ ফেলে

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২২, ০১:৪৬ পিএম

ওসমান পরিবার মানুষ হত্যা করে শীতলক্ষ্যায় লাশ ফেলে
Swapno


তানভীর মুহাম্মতদ ত্বকী হত্যা ও বিচারহীনতার ১১৫ মাস উপলক্ষে গতকাল সন্ধ্যায় আলী আহাম্মদ চুনকা নগর মিলনায়তন প্রঙ্গণে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শাহীন মাহমুদের সঞ্চালনায় ও সভাপতি ভবানী শংকর রায়ের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাষ্টি ডা. সারোয়ার আলী, নিহত ত্বকীর বাবা সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব রফিউর রাব্বি, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি এড. এবি সিদ্দিক, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি জিয়াউল ইসলাম কাজল, সাধারণ সম্পাদক মনি সুপান্থ, ন্যাপ জেলা সাধারণ সম্পাদক এড. আওলাদ হোসেন, গণসংহতি আন্দোলন জেলার সমন্বয়ক তরিকুল সুজন, শ্রুতি সাংস্কৃতিক একাডেমির সভাপতি মাইনুদ্দিন মানিক, সামাজিক সংগঠন সমমনার সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দ সাহা প্রমূখ।

 

 

সারোয়ার আলী বলেন, `বিচার বন্ধ রাখা বা বিলম্বিত করা এইটি কোন গণতন্ত্রের চরিত্র নয়। সরকারকে ত্বকী হত্যার বিচার করতে হবে। ত্বকী সহ সকল হত্যার বিচার করতে হবে।' 

 

 

`আজকে দেশে সরকার বিচার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। এর স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করে তাদের নিয়ম অনুযায়ী। এটিকে তারা পরিচালনা করছে। কয়েকদিন আগে সাগর-রনি হত্যাকাণ্ডের। অভিযোগপত্র দাখিলের আবার নতুন তারিখ নির্ধারিত হয়েছে।

 

 

সাড়ে দশ বছরে ৯২ বার এর তারিখ পরিবর্তন হলো। কেন পরিবর্তন হল তদন্ত শেষ করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে আমরা দেখছি প্রধানমন্ত্রী অথবা সরকারের কোনো মন্ত্রী ব্যাক্তিবর্গের বিরুদ্ধে কেউ যদি কোনো কটূক্তি করে সমালোচনা করে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তাদের লোকজন চামচারা মামলা দেয়।

 

 

এই আইনে বলা হয়েছে এই মামলায় তদন্ত সাক্ষেপে দোষী প্রমাণিত হলে তাকে বিচারের আওতায় আনা হবে কারাদন্ড দেওয়া হবে। কিন্তু অবাক বিষয় যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা সন্ধ্যায় দিলো রাতে তাকে গ্রেফতার করা হল। যদি সরকারের সমালোচনা করা তাদের সমালোচনা করার তদন্ত যদি দুই চার ঘন্টায় শেষ হতে পারে।

 

 

তাহলে সাগর রনি হত্যা কান্ডের তদন্ত সাড়ে দশ বছরে কেন শেষ হবে না। আজকে মানুষের সমস্ত গণতান্ত্রিক অধিকারকে তারা ধংর্স করছে। ত্বকী হত্যার বিচার সাড়ে নয় বছর আটকে রাখার কারণটা হচ্ছে। ত্বকী হত্যাকারীরা হচ্ছে সরকার সংশ্লিষ্ট। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ত্বকী হত্যা বন্ধ করে রাখা হয়েছে। তারা মানুষের ঘাড়ে বন্দুক রেখে ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে চাচ্ছে।

 

 

নারায়ণগঞ্জের একটি ঘাতক খুনি পরিবারের পক্ষ নিয়ে সরকার সমস্ত জনগণের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে। সরকার তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রক্রিয়ায়। আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে যেই কমর্ককান্ড পরিচালনা করেছে। আর তাদের পেটুয়া বাহিনী বানিয়েছে পুলিশকে এবং সরকারের বিভিন্ন সংস্থাগুলোকে।

 

 

অথচ এই বাহিনীগুলোর টাকা জনগণের টাকায় হয়। এই বাহিনীগুলোকে জনগণের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছে। তারা জনগণের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গা কর্মকান্ড পরিচালনা করছে। সরকারের পক্ষ নিয়ে গুম করছে খুন করছে।

 

 

রফিউর রাব্বি বলেন, ‘এই যে নারায়ণগঞ্জের ঘাতক খুনি পরিবার রয়েছে ওসমান পরিবার তারা ত্বকীসহ বিভিন্ন জনকে হত্যা করে শীতলক্ষ্যায় লাশ ফেলেছে আমরা তার বিচার চাচ্ছি। আমরা জানি এখন সরকারের পায়ের তলায় মাটি নাই। তাই তাদের বাহিরের শক্তির উপর নির্ভর করতে হয়। তারা বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে দলকে টিকিয়ে রাখতে চাচ্ছে।

 

 

কোন দল বাহিনী দিয়ে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে পারে নাই। কোনো আমলারা সরকারের পক্ষে থাকে না। তারা তখনই থাকে যখন আপনি তাকে সুযোগ সুবিধা দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী আপনি ২০১৩ সালে ও বলেছেন ২০১৮ সালে ও বলেছেন আমি আর থাকতে চাচ্ছি না।

 

 

আপনার এই কথার অর্থটা হচ্ছে আপনি আবার থাকতে চাচ্ছেন। আপনার লোকজন, আপনি বলবেন তাদের অনুরোধ উপেক্ষা করতে পারি না। জোর করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা সম্ভব নয়। আমরা ওসমান পরিবারের বিচার দাবি করছি।’

 

 


উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরীর শায়েস্তা খাঁ রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দু’দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

 

 

রফিউর রাব্বি  আরো বলেন, ‘ওই বছরের ১২ নভেম্বর আজমেরী ওসমানের সহযোগী সুলতান শওকত ভ্রমর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে জানায়, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়।

 

 

৫ মার্চ ২০১৪ তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাব সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের নির্দেশে তাদেরই টর্চারসেলে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করেছে। অচিরেই তারা অভিযোগপত্র আদালতে পেশ করবে।

 

 

কিন্তু সে অভিযোগপত্র আজো আদালতে পেশ করা হয় নাই। ত্বকী হত্যার পর থেকে বিচার শুরু ও চিহ্নিত আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতি মাসের ৮ তারিখ আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট।’ এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন