Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

স্বামীর নামের সেতু উদ্বোধনেও দাওয়াত পাননি পারভীন ওসমান

Icon

লতিফ রানা

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২২, ০৩:৩৭ পিএম

স্বামীর নামের সেতু উদ্বোধনেও দাওয়াত পাননি পারভীন ওসমান
Swapno


# প্রশাসন থেকেও আমাকে কোন কার্ড দেওয়া হয়নি : পারভীন ওসমান


# জাতীয় পার্টির সম্মেলনেও দাওয়াত করা হয়নি তাকে


 
উন্মুক্ত করা হলো বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম নাসিম ওসমান সেতু (তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু)। প্রয়াত এই রাজনৈতিক নেতা ছিলেন ওসমান পরিবারের জ্যেষ্ঠ ছেলে। যিনি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে জাতীয় পার্টির সমর্থনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন চারবার।

 

 

 

 

 

তারই একান্ত পরিশ্রমের ফসল হিসেবে আজকের এই সেতুটি নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছে বলে শুধু ওসমান পরিবারই নয়, স্বীকার করেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। একজন স্ত্রী হিসেবে পারভীন ওসমানকে স্বামীর সকল কাজেই সহযোগিতা করতে হয়েছে।

 

 

 

 

 

ভাগ করে নিতে হয়েছে স্বামীর সকল দুঃখ-কষ্ট। ১৫ আগস্ট যখন ঘাতকদের হাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্ব-পরিবারে নিহত হন। তার আগের দিন ১৪ আগস্ট নাসিম ওসমানের পরিবারে বধু হিসেবে আসেন পারভীন ওসমান।

 

 

 

 

 

১৫ আগস্ট এই কলঙ্কময় ঘটনার খবর শুনে নাসিম ওসমান তার নবপরিণিতা স্ত্রী পারভীন ওসমানকে রেখেইে ভারত চলে যান হত্যার প্রতিবাদ জানাতে। এরপর এক সময় শক্ত হাতে ওসমান পরিবারের হাল ধরেন এই নাসিম ওসমান। অথচ আজকে স্বামীর নামে নামকরণ হওয়া এই সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাকে জানানো হয়নি।

 

 

 

 

 

তাকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে কিনা বা সেখানে থাকার জন্য কোন অনুরোধা জানানো হয়েছে কি না, তা জানার জন্য বিভিন্ন সময় যখন বিভিন্ন সংবাদ কর্মী ফোন করে তার কাছে জানতে চান তখন তিনি আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। কষ্ট চেপে রেখে হয়তো বলতে হয়, না আমাকে তো কোন কার্ড দেওয়া হয়নি।

 

 

 

 

 

আর এই সময় হয়তো সংসার, সমর্থক ও দলের জন্য তার স্বামীর অবদানের কথা কল্পনা করে নিরবে অশ্রু জড়ান। এর আগেও যখন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় তখনও দাওয়াত দেওয়া হয়নি প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমানের সহধর্মিনী পারভীন ওসমানকে।

 

 

 

 

 

অথচ তার স্বামী একেএম নাসিম ওসমানই নারায়ণগঞ্জে এই জাতীয় পার্টির রাজনীতির কর্ণধার ছিলেন। এর আগে তার স্বামীর নামের সেতু উদ্বোধনের বিষয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে প্রয়াত এমপি নাসিম ওসমানের সহধর্মিনী পারভীন ওসমান আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন।

 

 

 

 

 

তিনি বলেন, ‘এটা আমার শান্তি। নাসিম ওসমানের অক্লান্ত পরিশ্রম (এই সেতুর জন্য) আমি দেখেছি। নাসিম ওসমানের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসলের কারণে নারায়ণগঞ্জ ও বন্দরবাসী যতদিন বেঁচে থাকবেন এর মাধ্যমে অবশ্যই নাসিম ওসমানকে স্মরণ করবেন। আমার স্বামীর নামে সেতু হয়েছে এই জন্য আমি খুবই আবেগে আপ্লুত, আমি খুবই গর্ব বোধ করছি।’

 

 

 

 


 
ওসমান পরিবারের বড় ছেলে নাসিম ওসমান জাতীয় পার্টিতে যোগ দেওয়ার পর ১৯৮৬, ১৯৮৮, ২০০৮ ও ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টির টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের এপ্রিলে নাসিম ওসমানের আকস্মিক মৃত্যুতে তার অনেকটা প্রক্সি হিসেবেই জাতীয় পার্টির হাল ধরেন তারই ছোট ভাই এবং ওসমান পরিবারের মেজো ছেলে একেএম সেলিম ওসমান।

 

 

 

 

 

নাসিম ওসমান জীবিতকালে রাজনৈতিক অঙ্গনে না জড়ালেও তার মৃত্যুর পর নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে সক্রিয় হতে শুরু করেন তার সহধর্মিনী পারভীন ওসমান। এরপর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে যখন পারভীন ওসমান জাতীয় পার্টির মনোনয়ন দাবী করেন, তারপর থেকেই ওসমান পরিবারের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। বলা চলে প্রকাশ্যে আসে।

 

 

 

 

 

 

 

রাজনীতিতে তিনি তেমন একটা প্রভাব বিস্তার করতে না পারলেও এখনও দলের একটি বড় অংশ, যারা নাসিম ওসমান জীবত থাকাবস্থায় তার খুব কাছের ছিলেন, তাদের সহানুভূতি রয়েছে পারভীন ওসমানের প্রতি। এরপর ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের পারভীন ওসমানকে জাতীয় মহিলা পার্টির উপদেষ্টা হিসেবে নির্বাচিত করেন এবং গত ২৪ মার্চ জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচিত হন।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

পারভীন ওসমানের স্বামী নাসিম ওসমানও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন। গত জুনে অনুষ্ঠিত জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির সম্মেলনে দাওয়াত করা হয়নি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য পারভীন ওসমানকে।

 

 

 

 


 
নসিম ওসমান সেতু উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্যে বলেন, ’৭৫ এর ১৫ আগস্ট আমাদের জন্য কালোরাত্রি। ১৪ আগস্ট নাসিম ওসমানের বিয়ে হয়। নাসিম ওসমানের বিয়েতে কামালও (শেখ কামাল) গিয়েছিল। কামাল ফিরে আসে।

 

 

 

 

 

এরমধ্যে নাসিম ওসমান ১৫ আগস্টের ঘটনা শুনে নবপরিণিতা স্ত্রীকে রেখে এই হত্যার প্রতিবাদ জানাতে চলে গিয়েছিল ভারতে। সেখানে তিনি এই হত্যার প্রতিবাদ করে। আমি সেইসব কথা সবসময়ই আমি স্মরণ করি।’

 

 

 

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘যদিও একসময় আমাদের পার্টি করতো না, অন্য পার্টিতে করতো, কিন্তু আমার সাথে সবসময় যোগাযোগ ছিল, বড় বোন হিসেবে সম্মান করতো। এই সেতুটির বিষয়ে কথা বলার জন্য সে বার বার আমার সঙ্গে দেখা করেছিল।

 

 

 

 

 

যখন আমরা সেতুটার কাজ শুরু করি, তখনই তিনি ইহলোক ছেড়ে চলে গেলেন। এজন্য তার নামেই সেতুটি উৎস্বর্গ করেছি। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা।’

 

 

 


 
এই বিষয় জানতে চাইলে প্রয়াত সাংসদ একেএম নাসিম ওসমানের স্ত্রী পারভীন ওসমান জানান, আমাকে দাওয়াত করা হয়নি, আমি সেখানে কীভাবে যাব। প্রশাসন থেকেও আমাকে কোন কার্ড দেওয়া হয়নি। আমাকে আজকে তিনদিন যাবত বিভিন্ন পত্রিকার অনেক সাংবাদিকই ফোন করে জানতে চেয়েছে। এই বিষয়ে একটি উত্তর আর কত দিব।    এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন