Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

নয়া সেতুতে দুর্ভোগের আশঙ্কা

Icon

লতিফ রানা

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২২, ০৩:০১ পিএম

নয়া সেতুতে দুর্ভোগের আশঙ্কা
Swapno


# আগামী জুনের মধ্যে ২৪ ফুটে উন্নীত হবে : নির্বাহী প্রকৌশলী

# রাস্তা মেরামত ও প্রশস্ত না করে সেতু চালু করলে গাড়ি চলবে না, দাঁড়িয়ে থাকবে : এমএ রশিদ

# এই রাস্তাটিতে সুদৃষ্টি না দিলে সরকারের উন্নয়ন মলিন হয়ে যাবে- বন্দরবাসী
 

এখনো শেষ হয়নি দুই পাশের সংযোগ সড়কের কাজ। তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর (বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম নাসিম ওসমান সেতু) অনুমোদনের একযুগেও ধরা হয়নি এর সাথে সম্পর্কিত সেতুর পূর্ব পাশের মদনগঞ্জ-মদনপুর সড়কের ছয় লেনে উন্নীতকরণের কাজ।

 

 

সেতুর পশ্চিম পাশের সংযোগ সড়কের কাজও বাকি। তাই এই অবস্থায় সেতুটি উন্মুক্ত করণে কতটা ফল পাওয়া যাবে তা নিয়ে চিন্তিত বন্দরবাসী। স্থানীয় জনগণসহ জনপ্রতিনিধিরাও বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন।

 

 

অন্যদিকে মদনগঞ্জ-মদনপুর সড়কের কার্পেটিংয়ের টেম্পার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় যেখানে স্থানীয় সাধারণ যানবাহন চলাচলেই দুর্ভোগ পোহাতে হয় সেখানে রাস্তা মেরামত কিংবা প্রশস্তকরণ ব্যতীত এই সেতু চালু করা অরণ্যে রোদন হবে বলে মনে করেন স্থানীয় জনগণ।

 


 
সূত্র মতে ২০১০ সালে একনেকে অনুমোদন হয় তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর। সেই থেকেই সেতুটি চালু করার পূর্বে এই মদনগঞ্জ-মদনপুর রাস্তাটি ছয় লেনে উন্নীত করা প্রয়োজন হবে বলে পরিকল্পনা করা হয়। সেতু অনুমোদনের পর কাজ শেষ হতে সময় লাগে প্রায় ১২ বছর। অথচ এই ১২ বছরেও ছয় লেনে প্রশস্তকরণের সেই বিষয়টি এখনও পরিকল্পনাতেই থেকে যায়।

 

 

যে সময় সেতু উদ্বোধন হচ্ছে সে সময় ধরা হচ্ছে রাস্তার দুই পাশে তিন ফুট করে ছয় ফুট প্রশস্তের কাজ। তবে এর আগে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন যে, রাস্তার কার্পেটিংয়ের অবস্থা এতটাই নাজুক, যা মেরামতের যোগ্য না।

 

 

কোন কোন জায়গায় কার্পেটিংয়ের নিচের লেয়ারও নষ্ট হয়ে গেছে। তাই যে পর্যন্ত পুরো কার্পেটিং নতুন করে, করা না যাবে, সে পর্যন্ত এই কার্পেটিং মেরামত করেও কোন ফল পাওয়া যাবে না।

 


 
ট্রাক চালক ইউসুফ মিয়া জানান, মদনপুর থেকে মদনগঞ্জের যে দুরত্ব তা স্বাভাবিকভাবে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের রাস্তা। কিন্তু রাস্তার উচুনিচু টিউমার ও গর্তের কারণে এখানে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ মিনিট সময় পার হয়ে যায়।

 

 

তার উপর রাস্তাটি সরু হওয়ায় দুটো গাড়ি পাস হওয়ার সুযোগ না থাকায় বিভিন্ন সময়ই রাস্তায় জ্যাম থাকে। এর ফলে ঘন্টার পর ঘন্টা রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।


 


স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুল হক জানান, নবীগগঞ্জ থেকে প্রতিদিন সকালে কাঁচপুরে অফিসে যেতে হয়। রাস্তার ঝাঁকুনি খেতে খেতে বুক ব্যাথা উঠে যায়, ভাল মানুষও রোগী হয়ে যেতে হয়। এর উপর লক্ষণখোলা এলাকা থেকে যে জ্যাম শুরু হয় তাতে কোন কোন সময় প্রায় এক ঘন্টা সময় নষ্ট হয় শুধু জ্যামের কারণে।

 

 

তাই এই সড়কটির প্রতি প্রশাসনের সদয় দৃষ্টি দেওয়া খুবই জরুরী। না হলে বর্তমান সরকার তার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে যে সেতুটি উপহার দিয়েছে; তার ভাল দিকটা মলিন হয়ে যাবে।

 


 
এর আগে এই বিষয়ে বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ রশিদ জানিয়েছিলেন, রাস্তাটি সরু এবং খারাপ থাকায় বর্তমানে বন্দরবাসীকে যেভাবে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে, রাস্তাটি স্থায়ী মেরামত না করলে এবং প্রশস্ত না করে, সেতু চালু করলে গাড়ি চলবে না, দাঁড়িয়ে থাকবে। ভোগান্তি বহুগুনে বেড়ে যাবে।


 


নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহানা ফেরদৌস জানান, ‘সেতু চালু হওয়ার কারণে অবশ্যই একটা ফল পাওয়া যাবে। এখন রাস্তাটা আমাদের খারাপ আছে এটা সত্যি। যেহেতু সেতু উদ্বোধন হয়েছে সেহেতু এখান দিয়ে আমাদের গাড়ি চলবেই। মদনপুর থেকে এই সেতু পর্যন্ত ছয় লেনের রাস্তা করার পরিকল্পনা আছে।

 

 

 

তবে এই প্রজেক্ট অনেক বড় হওয়ায় তা বাস্তবায়ন করতে কয়েক বছর সময় লাগবে। এটা দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা। তবে বর্তমানে স্বল্প মেয়াদী পরিকল্পনা হিসেবে ১৮ ফুটের যে রাস্তাটি আছে তা ২৪ ফুট করার পরিকল্পনা নিয়েছি। এখন এই প্রকল্পের কাজ চলতেছে। আমরা খুব দ্রুত এই কাজ শেষ করার চেষ্টা করবো।

 

 

 

আশা করছি আগামী জুনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। আসলে এই রাস্তাটা রেল লাইনের উপর হয়েছে। হাইওয়ের নিয়ম অনুযায়ী বানানো হয়নি। এখন যেহেতু এই রাস্তাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেছে, তাই এটা ছয়লেনে হয়ে যাবে। শর্ট টাইম পরিকল্পনা অনুযায়ী স্বল্প মেয়াদী হিসেবে এই কাজ করছি।

 

 

তবে এই সময়ের মধ্যে আমরা নিয়মিত রাস্তাটি মেরামতের ব্যবস্থা রাখবো। যাতে জনগণের ভোগান্তিটা কমে যায়। আপাতত ২৪ ফুট প্রশস্তকরণ কাজে আমরা টোটাল কার্পেটিং নতুন করে করবো। কিছু কিছু জায়গায় যেখানে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেখানে শুধু কার্পেটিং নয়, নিচের লেয়ারও মেরামত করবো।

 

 

দীর্ঘ ১২ বছরেও কেন ছয় লেনের কাজের অগ্রগতি হয়নি সেই প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এখন বাংলাদেশের সক্ষমতার লেবেল অনেক উপরে চলে গেছে। যা ১০ বছর আগে চিন্তাও করা যায়নি। কিন্তু বর্তমান সরকারের আমলে সড়ক বিভাগে একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসছে। এই প্রজেক্টটি অনেক বড় প্রজেক্ট।

 

 

এটি শুধু, এই সেতু থেকে মদনপুর পর্যন্ত করলেই হবে না। একটি এক্সপ্রেসওয়ে করার জন্য আমরা ভাবছি, একেবারে হেমায়েতপুর হতে কালাকান্দি হয়ে মদনপুর পর্যন্ত আসতে পারি তাহলে আমরা এর বেনিফিট বেশি পাবো। শুধু নারায়ণগঞ্জ এর জন্য নয়, একেবারে জাতীয় পর্যায়ের জন্য বেনিফিট হবে।

 

 

তাই এরকম একটি বড় প্রজেক্টে ফান্ড ম্যানেজ করা বা কোন পলিসিতে হবে সেটার একটি বিষয় আছে। তাই নিয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী একটি ফান্ডের ব্যবস্থা করতেছেন। এটা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আমরা আশা করি যখনই দাতা সংস্থা পাওয়া যাবে, তখনি আমরা শুরু করতে পারবো। এটা কোন ছোট প্ল্যান না।

 

 

এটার প্রস্তাবনা রেডি হচ্ছে, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে এটা নিয়ে কাজ করছেন। তাই বেশি কিছু পেতে হলেতো একটু সময় লাগবেই। আশাকরি জনগণের তেমন একটা ভোগান্তি হবে না। কারণ আমার একটি টিম, ফুল টাইম এখানে থাকবেন রাস্তা মেরামতের জন্য। এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন