# এই অনুষ্ঠানের কার্ড সবাই ঠিকমতো পেয়ে উঠতে পারেনি : শামীম ওসমান
সাধারণত কোন বিষয় যদি চলতি নিয়ম-রীতি অনুযায়ী চলে, তাহলে সেই বিষয়টি সংবাদের শিরোনাম হয় না। কিন্তু বিষয়টি যদি নিয়মের বাইরে গিয়ে অস্বাভাবিকভাবে বলে মনে হয়, তখনই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা সমালোচনা কিংবা সংবাদের শিরোনাম হয়।
তাই কোন্টা নেতিবাচক কোনটা ইতিবাচক তা নির্ভর করে যিনি বিষয়টি নিয়ে ভাবছে তিনি কোন দিক থেকে বিচার বিশ্লেষণ করছেন তার উপর। কিন্তু বিষয়টা যদি অধিকাংশের মনেই প্রশ্নবোধক কিংবা অস্বাভাবিক বলে মনে হয় তাহলে সেটা নিয়ে সমালোচনা হবে এটাই স্বাভাবিক।
গত ১০ অক্টোবর উদ্বোধন করা হয় বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম নাসিম ওসমান সেতু। যা তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু নামে পরিচিত। অথচ যার নামে সেতুটির নামকরণ করা হয়েছে প্রয়াত সেই নেতার সহধর্মিনী পারভীন ওসমান বা তার সন্তানদের কাউকে সেখানে দেখা যায়নি।
এতে করে স্বাভাবিকভাবেই গণমাধ্যম কর্মীসহ সাধারণ মানুষের চোখে দৃষ্টি কটু মনে হয়েছে। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পারভীন ওসমানকে কোন প্রকার দাওয়াতই করা হয়নি।
তাই এর পরের দিন ১১ অক্টোবর দৈনিক যুগের চিন্তাসহ বেশ কিছু সংবাদ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে লেখালেখি হয়। তবে যুগের চিন্তার বিশ্লেষণধর্মী লেখাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলে এবং সংবাদ কর্মীসহ সচেতন সমাজের অনেকেই বিষয়টি শেয়ারসহ অনেক নেতিবাচক কমেন্ট করেন।
তবে এসব সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে যে ধরণের যুক্তি ও কারণ তুলে ধরা হয়েছে তা খুবই হাস্যকর বা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মতো মনে হয়েছে বলে অনেকেই মতামত ব্যক্ত করেছেন।
সেতুটি উদ্বোধন করার আগে নামকরণের বিষয়ে পারভীন ওসমান তার স্বামী, তার আবেগ, ভালবাসার মানুষের নামে নামকরণ করার কারণে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘এর চেয়ে বড় শান্তির বিষয় আর হতেই পারে না।’
অথচ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে না যাওয়ার কারণ যখন জিজ্ঞাসা করা হয় তিনি বলেন, ‘আমাকে কেউ দাওয়াত করেননি, আমাকে কেউ জানাননি। কথা বলার সময় কান্নায় যে তার কন্ঠ জড়িয়ে যাচ্ছিল তা পুরোপুরি টের পাওয়া যাচ্ছিল।’
তিনি জানান, ‘প্রশাসন থেকেও কেউ তাকে জানাননি বা কার্ড দেননি, এতে তিনি অনেকটাই কষ্ট পেয়েছেন। এই বিষয়ে নাসিম ভক্তদের মনে খুবই দাগ কেটেছে।’
তাদের মতে বর্তমান সামাজিক রীতি বা প্রচলন অনুযায়ী আমরা দেখি যখনই কাউকে সম্মানিত করা হয় তখন তার পরিবারের সদস্যদের খোঁজ করে তাদের সেখানে উপস্থিত রাখার জন্য বিশেষ নজরদারীর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
আর পরিবারের এসব সদস্যদের মধ্যে স্ত্রী ও সন্তানকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ধরা হয়। এটা কোন সংগঠন বা সরকারী বেসরকারী সংস্থাই হোক না কেন সকল ক্ষেত্রেই এই বিষয়টি প্রচলিত আছে। কেননা স্বামীর কাজে স্ত্রী-ই বড় অংশীদার।
এই বিষয়টির ব্যখ্যা দিতে গিয়ে গতকাল নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান এক অনুষ্ঠানে বলেন, নারায়ণগঞ্জের কিছু পত্রিকা নিউজটাকে অন্যভাবে টার্ন করছে, আমার কাছে এটা ভাল লাগছে না যে, আমার ভাইয়ের পরিবার, আমি নিজেও কিন্তু এই অনুষ্ঠানের কার্ড পাইনি।
এখানে চন্দনও মনে হয় কার্ড ঠিক মতো পায়নি। আসলে তিনদিনের মধ্যে অনুষ্ঠানটি হয়েছে। তাই এই অনুষ্ঠানের কার্ড সবাই ঠিকমতো পেয়ে উঠতে পারেনি। সেই কারণে আমরা নিজেও পাইনি। কিন্তু এটাকে একটা কেমন করে কালার দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
আমার কথা হচ্ছে সেই কালারটা না দেয়া উচিৎ। এখানে তারা কেউ ঠিকভাবে দাওয়াত পাননি বলে প্রচার করছেন তিনি। ‘এমনকি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সদ্য নির্বাচিত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানও এ বিষয়ে ঠিকভাবে দাওয়াত পাননি’ বলে জানান সাংসদ শামীম ওসমান।
এখানে ঠিকভাবে বলতে কি বুঝানো হয়েছে তা তিনিই বলতে পারেন। অথচ সেতুটি উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে গত ৬ অক্টোবর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক মো. মঞ্জুরুল হাফিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভায়ও উপস্থিত ছিলেন তিনি।
গণমাধ্যম থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এই বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. মঞ্জুরুল হাফিজও জানিয়েছেন যে, নাসিম স্যারের ভাই শামীম স্যার ও সেলিম স্যারকে জানানো হয়েছে। যেহেতু তারা একই পরিবারের। তারপরও যদি নাসিম স্যারের স্ত্রী এই বিষয়ে না জেনে থাকেন তাহলে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।
তিনি এ বিষয়টি এভাবে ভাবেননি বলেও জানান তিনি। শামীম ওসমান বলেছেন তারা সঠিকভাবে দাওয়াত পাননি। অথচ জেলা প্রশাসক বলছেন, নাসিম ওসমানের পরিবারের লোক হিসেবে সেলিম ওসমান ও শামীম ওসমানকে জানানো হয়েছে। এখানে তথ্যের মধ্যে একটি গরমিল রয়ে গেছে।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য, শামীম ওসমানের বড় ভাই ও পারভীন ওসমানের দেবর একেএম সেলিম ওসমান এই বিষয়ে একটি গণমাধ্যমকে বলেছেন, এত বড় অনুষ্ঠান, নিমন্ত্রণ যায়নি, মিসটেক হতেই পারে।
তাই এখানে প্রশ্ন, মিসটেক কিন্তু সেলিম ওসমানের বেলায় হয়নি, শামীম ওসমানের বেলায়ও হয়নি। কিন্তু যার নিরলস প্রচেষ্টায় এই সেতুটি করা সম্ভব হয়েছে বলে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেছেন এবং যাকে সম্মান দিয়ে তার নামানুসারে সেতুর নামকরণ করা হয়েছে।
যার প্রতি ওসমান পরিবারের দুই সাংসদের অবজ্ঞা ও নিগ্রহ করার চেষ্টার অভিযোগ বিভিন্ন সময় মিডিয়ায় প্রকাশ পেয়েছে এবং যিনি এই সম্মানিত ব্যক্তির সহধর্মিনী সেই পারভীন ওসমানের বেলায়ই কেন মিসটেক হয় এই বিষয়টা নিয়েই জনমনে প্রশ্ন।
কারণ হিসেবে তারা জানান, তাদের এধরণের কর্মকাণ্ড নতুন কিছু নয়, এর আগে পারভীন ওসমানকে হেয় করার জন্য অনেক অশালীন বক্তব্যসহ অনেক কীর্তিই মিডিয়ায় এসেছে, তাই বিষয়টা কাকতালীয় হওয়ার কোন সুযোগ নেই। তাই বিষয়টি ইতিবাচক হওয়ার কোন প্রশ্নই উঠে না।
যাকে সম্মানিত করা হয়, তার অবর্তমানে তার স্ত্রী-সন্তানকে না খুঁজে ভাইকে খোঁজাটা কোন অবস্থাতেই ভাল লক্ষণ হতে পারে না। এটা যে নেতিবাচক, যারা বিষয়টি নিয়ে একটু ভাবেন তারা সকলেই বুঝতে পারেন। বুঝতে পারেন নিগৃহীত হওয়া পারভীন ওসমান নিজেও। এন.এইচ/জেসি


