# অভিনব পন্থায় চাঁদাবাজি
যদি বলা হয় শহরের সবচেয়ে বড় সমস্যা কোনগুলি। তাহলে সবচেয়ে উপরের দিকে উঠে আসবে শহরে অবৈধ অটো ও ইজিবাইক প্রবেশের ঘটনা। যার নেপথ্যে সাংবাদিক ও প্রশাসনকেই দায়ি করছে সচেতন মহল। তবে সম্প্রতি এ বিষয়ে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।
সাংবাদিকদের ষ্টিকার সম্বলিত অটো ও ইজিবাইক শহরে অবাধ প্রবেশ থাকলেও বর্তমানে প্রশাসনের তৎপরতায় কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণ করা গেছে। তবে প্রবেশ সম্পূর্নরূপে আটকানো যায়নি। এর কারণ হিসেবে খোদ প্রশাসনকেই দায়ী করছে শহরবাসী। এর পিছনে যথেষ্ট যুক্তি ও আছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সুধীজন জানান, আমরা খেয়াল করেছি শহরে প্রচুর পরিমানে ইজিবাইক প্রবেশ করে যা মূলত প্রবেশ নিষিদ্ধ। ট্রাফিক দায়িত্বরত অবস্থায় এসব বাহন কিভাবে প্রবেশ করছে। তাহলে কি প্রশাসন তাদের দায়িত্বে অবহেলা করছে। তিনি আরো বলেন, যে ইজিবাইক গুলো প্রবেশ করছে তাদের গাড়িতে কোনো না কোনো ষ্টিকার যুক্ত করা থাকে।
এসব ষ্টিকারযুক্ত গাড়ি প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে ঘুরে বেড়ায়। তারা এসব চলাচলে কোনো রকম বাধা প্রদান করে না। অথচ ষ্টিকার বিহীন কোনো গাড়ি প্রবেশ করলে তাদের আটকে দেয়া হচ্ছে। এ থেকে প্রমাণ হয় এসব ষ্টিকার সম্বলিত পরিবহনে যে চাঁদাবাজি হচ্ছে তার সাথে প্রশাসন এর স্বার্থযুক্ত রয়েছে এবং তারা এর সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জড়িত তবে প্রশাসন শুরু থেকেই এর দায় নিতে নারাজ।
একপক্ষ যখন আরেক পক্ষকে দোষারোপে ব্যস্ত ঠিক তখনি শহরে চাঁদাবাজির এক নতুন রূপ নিয়ে হাজির ৮৩ সংখ্যা। বেশ কয়েকদিন ধরেই দেখা যাচ্ছে শহরে প্রবেশ নিষিদ্ধ কয়েকশ ইজিবাইকে ৮৩ সংখ্যা সম্বলিত চাবির রিং।
এসব চাবির রিং যুক্ত ইজিবাইক কোনো বাধা ছাড়াই প্রবেশ করছে শহরে। প্রতি মাসে চাবির রিং পরিবর্তন করা হয়। বর্তমানে অক্টোবর মাস চলমান সে হিসেবে চাবির রিং এ লেখা অক্টোবর ৮৩।
এ বিষয়ে ৮৩ সংখ্যা যুক্ত চাবির রিং ধারী এক ইজিবাইক চালক এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, ‘আগে সাংবাদিকদের ষ্টিকারযুক্ত গাড়ি চালাতাম । বর্তমানে মাঝে মাঝে গাড়ি ধরে । এজন্য সেটা পরিবর্তন করে এখন ৮৩ নাম্বার যুক্ত চাবির রিং নিয়েছি। ৮৩ মূলত ওয়াসিম এর ফোন নাম্বার এর শেষ ২ টি সংখ্যা।
এটা নিতে প্রথমে ২০০০ টাকা দিতে হয়েছে। এরপর প্রতি ১০ দিন পরপর ৫০০ টাকা করে দিতে হয়। এটা মূলত সাংবাদিকদের গাড়ি না। এই রিং প্রশাসন এর। ওয়াসিম নামের একজন আমাকে দিয়েছে। উনি এই রিং থেকে প্রাপ্ত টাকা নিয়ে থাকেন। অর্থাৎ প্রশাসন এই চাঁদাবাজির সাথে জড়িত।
এ ব্যাপারে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (এডমিন) করিম যুগের চিন্তাকে জানান, আগে ষ্টিকার সম্বলিত অনেক ইজিবাইক থাকলেও আমরা এখন এই সংখ্যা একবারে শূন্যে নামিয়ে আনতে না পারলেও উল্লেখ্যযোগ্য পরিমান ষ্টিকার আমরা নষ্ট করেছি। আমরা অনেক বেশি তৎপর। এখন পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রনে।
তিনি আরো বলেন, ৮৩ সংখ্যা সম্বলিত চাবির রিং এর সাথে প্রশাসনের সম্পৃক্ততার যে কথা উঠেছে এটা সত্য নয়। আমরা কয়েকটি গ্যারেজে খবর নিয়েছি । তারা মূলত তাদের চাবির রিং যেনো ড্রিস্টিবিউট করতে পারে এজন্য প্রশাসনের নাম ব্যাবহার করছে। আমরা এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে আছি। আমাদের এ বিষয়ে তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। এন.এইচ/জেসি


