যুবকদের বাসা থেকে বের করে নিয়ে যাচ্ছে ওরা : র্যাব ডিজি
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২২, ০৬:৪১ পিএম
র্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) এম খুরশিদ হাসান বলেন, র্যাব প্রতিষ্ঠাতা থেকে মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। চলো যাই যুদ্ধে, মাদক বিরুদ্ধে এই স্লোগানকে সামনে রেখে মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করে আইনের কাছে সোর্পদ করা হচ্ছে। র্যাব সহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানকে কেন্দ্র করে মাদক ব্যবসায়ীরা নতুন কৌশল অবলম্বন করছে।
সেই বিভিন্ন কৌশল চিহিৃত করে মাদকের ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করেছেন। সেই নিদের্শনা মেনে র্যাব সহ সকল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা মাদক বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জিরো টলারেন্স থেকে আমরা একবিন্দু পিছু হটবো না।
সোনারগাঁও চেকপোষ্টে দুই মালবাহী কন্টেটিনাইর থেকে ৩৭ হাজার বোতল বিদেশী মদ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য ৩৭ কোটি টাকা। পরবর্তী ওয়ারী ও বিমানবন্দর অভিযান চালিয়ে অন্যতম মূলহোতা সহ দেশী-বিদের্শী মূদ্রা সহ গ্রেফতার করা হয়। আজ বিজ্ঞ আদালতের নিদের্শে এসব মাদক ধ্বংস করা হচ্ছে।
বুধবার (২৬ অক্টোবর) সিদ্ধিরগঞ্জে অবস্থিত র্যাব-১১'র সদর দপ্তরে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশ মোতাবেক নারায়ণগঞ্জ জেলার বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম ফারহানা ফেরদৌস, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট এবং জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের (প্রসিকিউশন) উপস্থিতিতে প্রায় ৩৭ কোটি টাকার বিদেশী মদ ধ্বংস করা হয়। এতে উপস্থিত হয়ে একথা বলেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, মাদক সহ সকল অপরাধের মূল। সেখানে মাদক আছে সেখানে অবৈধ অস্ত্র আছে, চোরাচালান, নারী পাচার, ছিনতাই, ডাকাতি সহ বিভিন্ন অপরাধ প্রবণতা বেশি থাকে। মাদক ব্যবসায়ীদের কঠোর হুশিয়ারী করে বলতে চাই, মাদক ব্যবসায়ী ও কারবারী কাউকে বিন্দু মাত্র ছাড় দেয়া হবে না। যারা সিন্ডিকেট পরিচালনা করে, যারা মূলহোতা তাদের বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ।
বিভিন্ন বিভাগের ড্রোপ টেষ্ট করা শুরু হয়েছে, সেখানে দেখা গেছে কেউ না কেউ সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারী, এমনকি শিক্ষকরা মাদকের সাথে জড়িত হয়ে পড়েছে। র্যাব ফোর্স এক মূল মন্ত্রে আমরা এগুতে চাই। র্যাব হবে মানুষের নিরাপত্তা প্রতীক, র্যাব হবে সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক, র্যাব হবে সকল পেশার মানুষের ভালোবাসার প্রতীক। যারা অপশক্তি, যারা এই মাদক কারবারী, মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে, যারা জঙ্গিবাদ তাদের জন্য র্যাব হবে আতংকের প্রতীক।
সাংবাদিক প্রশ্নের উত্তরে র্যাব ডিজি বলেন, আগষ্ট মাসে পত্রিকায় লিখনির মাধ্যমে জানতে পেরেছিলাম কুমিল্লা নিখোঁজ রয়েছে। ৫৫ জন নাম আসলো আমাদের কাছে তারা নিখোঁজ। তাদের প্রতিজনের বাড়িতে গিয়ে গিয়ে জানতে পারি ৫৫জন নয় ৩৫ জন হিজরতের নামে চলে গেছে। তারা আসলে কোথায় গেলো সেগুলো খুঁজতে গিয়ে দেখলাম দূর্গাম পাহাড়ী অঞ্চল টার্গেট করে।
কোন একটি সংগঠনের ছাত্রছায়া বান্দরবান রামুতে একটি জায়গা নিয়েছে, সেখানে গাড়ি বা হেঁটে যেতে পারবে না। হেঁটে যেতে হলে প্রায় ৮ থেকে সাড়ে ৮ ঘন্টা লাগে। সেনাবাহিনী ও আমরা ড্রোনের মাধ্যমে জায়গা নির্ধারণ করে অভিযান চালাই। বেশ কিছু গ্রেফতার ও ২১ টা অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে, এখানো অভিযান চলমান রয়েছে।
জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের সেনাবাহিনী ও র্যাবের অভিযান এটা। বিস্তারিত সব কিছু আমরা পরবর্তিতে জানাবো। ১৭-২২ বছরের যুবকদের বাসা থেকে বের করে নিয়ে যাচ্ছে ওরা। আমরা এখন আপাতত আমাদের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছি। সেনাবাহিনী এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রেখেছে, একজন ১০দিন যাবৎ না খেয়ে স্বইচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছেন। আরেকজনের লাশ আমরা উদ্ধার করেছি কিছুদিন আগে।


