Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

যেভাবে গিয়াসউদ্দিন শামীম ওসমানের তুলনায় এগিয়ে

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২২, ০৬:৪৮ পিএম

যেভাবে গিয়াসউদ্দিন শামীম ওসমানের তুলনায় এগিয়ে
Swapno



# আদমজী ইপিজেড, আলিরটেকের সেতু গিয়াসউদ্দিনের অনন্য কাজ

# বৃষ্টি এলেই পানিতে ভাসে ফতুল্লা, ঢাকায় থেকে ঠাওর করতে পারেননা এমপি
 

ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ হয়ে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ায় তৃণমূলে মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি সবসময় আঁচ করতে পেরেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। আর সে কারণেই  ২০০১ সালে প্রথমবারের মতো সাংসদ নির্বাচিত হয়েই তিনি তার নির্বাচনী এলাকার মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে অবকাঠামোগত উন্নয়নে মনোনিবেশ করেছেন।

 

 

এছাড়া ক্রমাগত লস গুনতে থাকা আদমজী জুট মিল বন্ধ করে বিশাল সেই জায়গায় ইপিজেড তৈরির প্রস্তাব দিয়ে পুরো সিদ্ধিরগঞ্জবাসীর জীবনমানের উন্নোয়ন ঘটাতে সক্ষম হয়েছিলেন। ফতুল্লার বিরাট এলাকার মানুষের চলাচলের জন্য অসংখ্য রাস্তা তৈরি করে যোগাযোগে সেতুবন্ধন রচনা করেছিলেন।

 

 

তাছাড়া নারায়ণগঞ্জের সাথে যুক্ত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অগ্রযাত্রায় পিছিয়ে যাওয়া আলিরটেকবাসীর জন্যও একটি সেতু তৈরি করে দিয়েছিলেন; যার কারণে এখন পর্যস্ত আলিরটেকের সাথে মুন্সিগঞ্জের যোগাযোগ অনেক সহজ হয়ে পড়েছিলো। আর একারণেই দীর্ঘ ১৬ বছর পরে সমান জনপ্রিয় সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন।

 

 

ছাত্রাবস্থা থেকে শিক্ষকতাকে  পছন্দ করা এই রাজনীতিক এখনও শিক্ষকতাটাকে মনেপ্রাণে ধারণ করেন। আর তার হাত ধরেই নারায়ণগঞ্জের অন্যতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গিয়াসউদ্দিন ইসলামিক মডেল স্কুল এন্ড কলেজ জায়গা দখল করে রয়েছে।

 

 

আর গিয়াসউদ্দিন এসব করতে পারার পেছনে বিশ্লেষকরা মনে করেন,  ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর তার অভিজ্ঞতা দিয়েই তিনি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। অবকাঠামোগত উন্নয়নে এবং জনদুর্ভোগ লাঘবের কারণে সেই সময় সারা বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।

 

 

এছাড়া উপজেলা চেয়ারম্যানদের সংগঠনের মহাসচিব পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এসব অভিজ্ঞতার কারণেই তিনি সিদ্ধিরগঞ্জ, ফতুল্লাবাসীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কাজ করতে পেরেছিলেন।


 

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ওসমান পরিবারের সদস্য সাংসদ শামীম ওসমান তিন মেয়াদে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু এতো দীর্ঘ সময়েও ফতুল্লার বাসী দুর্ভোগে নাজেহাল হওয়ার সংবাদগুলো নৈমত্তিক হয়ে পড়েছে। ফতুল্লাবাসী  এতে চরম হতাশা প্রকাশ করছে।

 

 

ওই এলাকার অনেক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হয়ে জানান, শামীম ওসমানের বক্তব্য নিঃসন্দেহে সারাদেশের মানুষ মনোযোগ সহকারে শোনেন। কিন্তু রাজনীতির বাইরে শামীম ওসমান জনগণকে নিয়ে ভাবেন কম। যার ফলে তার নির্বাচনী এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকার বছরের পর বছর অবহেলিত।

 

 

সমস্যা যখন প্রকট হয়, চারিদিকে চিৎকার শুরু হয় তখন শামীম ওসমান এসব বিষয়ে কিছু করছেন বলে, নিজেকে প্রকাশ করেন। আদতে সমস্যার দীর্ঘমেয়াদী সমাধান যে হয়নি তা কিছুদিন পরপরই স্পষ্ট হয়। ফতুল্লা, এনায়েতনগর, বিসিক, কুতুবপুর এলাকার  যোগাযোগ ব্যবস্থা, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রতিটি ব্যবস্থাই নাজুক।  

 

 

কিন্তু আদতে কোন কিছুর সুরাহা করতে পারেননি তিনি। ফতুল্লার মতো কর্মব্যস্ত জনপদে আজো পর্যন্ত একটি সরকারী হাসপাতাল তৈরি করতে পারেননি তিনি। অথচ গণমাধ্যমের বরাতে তিনিই জনসম্মুখে বলেছিলেন, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জে দুটি হাসপাতালের নামে চিকিৎসক, নার্স বেতন নেন সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে; অথচ হাসপাতালের অস্তিুত্ব নেই।

 

 

শুধু তাই নয়, এতোদিন পরেও এই বিষয়ে কোন সুরাহা হয়নি। করোনার কঠিন দিনগুলোতে মানুষ হাসপাতালের নানা অনিয়ম নিয়ে নানা অভিযোগ করেছে কিন্তু শামীম ওসমান ফতুল্লাবাসীর জন্য আদতে এগিয়ে আসতে পারেননি। ঢাকা-লিংকরোড ৬ লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলছে ধীরগতিতে। মানুষ কী পরিমাণ দুর্ভোগে পড়ছে ৮ কিলোমিটার রাস্তায়, তা অবর্ণনীয়।

 

 

এসব সমস্যা সমাধানে শামীম ওসমান কদাচিৎ কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ তিনি নিয়ে এসেছেন, এই হচ্ছে, ওই হচ্ছে কিন্তু আদতে মফস্বল জেলা গুলোর থানা এলাকার চাইতেও পিছিয়ে রয়েছে ফতুল্লার জনপদ।
 

 

অনেকে আক্ষেপ করে বলেন, শামীম ওসমানসহ তার কাছের নেতা-কর্মীরা ঢাকাতেই থাকেন। কাজে-কর্মে নারায়ণগঞ্জে আসেন আবার ঢাকাতেই ফিরে যান। কিন্তু জনগণের এই দীর্ঘমেয়াদী দুর্ভোগ লাঘবে তিনি ঘুরে ঘুরে মানুষের কষ্ট -দুর্দশার কথা শুনেছেন কিংবা লাঘবের চেষ্টা করেছেন এমনটা দেখা যায়নি।

 

 

তাই অনেকেই মনে করেন, শামীম ওসমানের বক্তব্য যতই ভাইরাল হোক না কেন তার তুলনায় সাবেক সাংসদ গিয়াসউদ্দিন জনবান্ধব ও মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে মোক্ষম ব্যক্তি। ২০০১ সালে শামীম ওসমানের এমন কর্মকাণ্ড মনে করেই তাকে ভোট দেয়নি এই এলাকার মানুষ।

 

 

২০০৮ সালে দেশে না থাকায় প্রয়াত অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরীকে বেছে নিয়েছিলো এখানকার মানুষ। মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে মনে করেই কিনা ফতুল্লাবাসীর উন্নয়নে মনোনিবেশ না করে ২০১১ সালের সিটি নির্বাচনে অংশ নেন শামীম ওসমান। সেখানেও হারেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে।

 

 

কিন্তু এরপরে ২০১৪ সালের পর থেকে এখন অবধি কোন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হতে হয়নি শামীম ওসমানকে। যার দরুণ শামীম ওসমান মাঠ পর্যায়ের মানুষের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকায় মানুষের দুর্ভোগ, দুঃখ-কষ্টের বিষয়গুলো ঠাওর করতে পারেননা বলে মনে করেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা।  এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন