হোসেনপুর এস.পি ইউনিয়ন ডিগ্রি কলেজ মৃত ব্যক্তিরাও ভোটার
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২২, ০৫:২৯ পিএম
# দানের জমিও আত্মসাত, চলছে হরিলুট
# প্রশাসনেও অভিযোগ দিলেও না দেখার ভান
দীর্ঘদিন ধরেই সোনারগাঁয়ের ঐতিহ্যবাহী হোসেনপুর এস.পি ইউনিয়ন ডিগ্রি কলেজের জমি আত্মসাৎসহ নানা রকমের অনিয়ম নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় চলছে। জমি আত্মসাতসহ নানা রকমের অনিয়মের মূলে রয়েছে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মো. আব্দুল আউয়াল।
পাশাপাশি তার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডকে সফল করতে পিছন থেকে কলকাঠি নেরে সহযোগীতা করছেন অত্র প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. আবদুল লতিফ। এখানেই শেষ নয় সম্প্রতি হোসেনপুর এস.পি ইউনিয়ন ডিগ্রি কলেজের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনকে গিরে ভোটার তালিকা প্রকাশে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে অত্র প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে।
কারণ অত্র প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে রিটানিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল আউয়ালের সাথে যোগসাজশ করে নিয়ম বহিঃভূত ভাবে প্রতিষ্ঠাতা এবং দাতা ভোটার তালিকায় ১৮জন মৃত ব্যাক্তিকে অর্ন্তভুক্ত করেছে।
পাশাপশি হিতৈষী ভোটার তালিকায় ৪ জন ভোটরকে অদৃশ্য কারণে ভোটার তালিকায় অর্ন্তভুক্ত না করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।সূত্রে জানা যায়, আগামী ৬/১১/২২ তারিখে হোসেনপুর এস.পি ইউনিয়ন ডিগ্রি কলেজের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
আর এই গভনিং বডির নির্বাচনে ১১টি পদে ১৫জন নির্বাচিত সদস্যের সমন্বয়ে গভনিং বডি গঠিত হবে। যার মধ্যে ৫টি পদে স্ব স্ব ভোটারদের ভোটে নির্বাচিত হতে হবে বাকি ৬টি পদে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক অথবা পদাধিকার বলে নির্বাচিত হবে।
ইতিমধ্যেই নির্বাচনকে গিরে গত ৮/১০/২২ তারিখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠাতা, দাতা, এবং হিতৈষী ভোটার তালিকা গঠনে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠাতা ১৭জন ভোটারের মধ্যে ৭ জনই মৃত্যুবরণ করেছে ১০ জন ভোটর জীবিত আছে।
এছাড়া দাতা ভোটার তালিকায় ৪৪ জনের মধ্যে ১১জন মৃত্যুবরণ করেছে ৩৩জন ভোটার জীবিত রয়েছে। এছাড়া হিতৈষী ভোটার তালিকায় ৪ জন সদস্যকে ভোটার তালিকায় অর্ন্তভুক্ত না করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এর আগে ৪ জন সদস্য হিতৈষী সদস্য হওয়ার জন্য সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেও অদৃশ্য কারণে তাদের ভোটার তালিকায় তাদের নাম অর্ন্তভুক্ত করা হয়নি। এ প্রসঙ্গে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতি হস্তক্ষেপ কামনা করেও কোন পরিত্রান পায়নি এই ৪জন সদস্য।
ইতিমধ্যেই অভিযোগ উঠেছে গভনিং বডির নির্বাচনে রিটানিং অফিসার হিসেবে দায়িত্বরত অধ্যক্ষ মো. আবদুল লতিফ এবং গভনিং বডির সভাপতি আব্দুল আউয়ালের নির্দেশক্রমে এ ধরণের ভোটার তালিকা তৈরী করেছে। কারণ অত্র প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ এবং গভনিং বডির সভাপতি অনিয়মের মহাউৎসব গড়ে তুলে প্রতিষ্ঠানটি লুটেপুটে খাওয়ার পায়তারা করছে।
এর আগেও জমি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছিল সভাপতি আব্দুল আউয়ালের বিরুদ্ধে আর এই জমি আত্মসাতেও অধ্যক্ষ আবদুল লতিফের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর বরাতে জানা যায়, বর্তমান সভাপতি আব্দুল আউয়াল তার প্রভাব খাটিয়ে অধ্যক্ষ আবদুল লতিফের সাথে যোগসাজেশ করেই কলেজের জমি আত্মসাত করে নেয়।
সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৪ সালে ঐতিহ্যবাহী হোসেনপুর এস.পি ইউনিয়ন ডিগ্রী কলেজের জন্য ৭১ শতক নাল জমির মধ্যে ৩০ শতক জমি দান করেন। মরহুম আলহাজ্ব আফাজউদ্দিন আহম্মেদের ছেলে আফতাবউদ্দিন আহম্মেদ দানকৃত জমির দলিলও করেন।
কিন্তু নানা টালবাহানা করে পরবর্তীতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি বর্তমান সভাপতি আলহাজ্ব মো. আব্দুল আউয়াল, মো. আবদুল বাতেন, মো.আবদুল মতিন, মো. রেজাউল করিম, মো. ইকবাল হোসেন, মো, সেলিম ২০১৭ সালের ১৪/১২/২০১৭ তারিখে নিজেদের নামে জায়গা আত্মসাত করে জমি নিজেদের নামে নামজারি করে নেন।
আর এই জমি আত্মসাতের কারণে এলাকাবাসীর সাথে শালিসেও বসতে হয়েছে সভাপতি আব্দুল আউয়ালকে কিন্তু এলাকাবাসীকে ভাওতা দিয়ে তিনি দিব দিচ্ছি বলে এলাকাবাসীকে এড়িয়ে চলতে থাকেন। আর যারাই এই জমি আত্মসাত এবং তাদের কুটকৌশলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে তাদেরকেই কলজের বিভিন্ন কর্মকান্ডকে কৌশলে দূরে সড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি হোসেনপুর এস.পি ইউনিয়ন ডিগ্রি কলেজের গভনিং বডির নির্বাচনকে সামনে রেখে আবারও জমি আত্মসাতের বিষয়টি সামনে চলে এসেছে। কিন্তু সে এলাকাবাসীকে কলেজের জমি ফিরিয়ে দেয়ার নামে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবে ব্যবহার করছে।
এতে প্রতিয়মান হয় যে, হোসেনপুর এস.পি ইউনিয়ন ডিগ্রি কলেজের গভনিং বডির সভাপতি এবং অধ্যক্ষ একক আধিপত্য গড়ে তুলেছেন। আর এই আধিপত্যের প্রভাব তারা গভনিং বডির নির্বাচনে প্রয়োগ করতে চাচ্ছেন। তারা কুটকৌশল করে যে ধরণের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন আজীবনই তারা সভাপতি এবং অধ্যক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত করবেন।
এ প্রসঙ্গে হোসেনপুর এস.পি ইউনিয়ন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল লতিফ বলেন, প্রতিষ্ঠাকালীনদের মৃতদের ভোটারদের তালিকার বিষয়ে বলেন, এখানে ১১জন বা ৯ জন মৃত আছে। কারণ এখানে অনেক দূরের লোকও আছে দেখা গেল তিনি জীবিত আছে কি বা নাই।
সেটা আমরা জানতে পারছি না এর জন্য যারা নির্বাচনে দাড়িয়েছে তাদেরকে বলেছি শনাক্ত করতে আর সংশোধনের বিষয়ে বলেন এটাত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয় এটা প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আমরা ওখানেই পাঠাবো পাঠানোর আগে সংশোধন করেই পাঠাবো।
আর প্রতিষ্ঠাতা নির্বাচন হচ্ছে না কারণ একজন ফরম কিনেছে একজনই নির্বাচিত হয়েছে। দাতা ভোটার তালিকার মধ্যে এরকমই সংখ্যা আছে সেখানে সংশোধনের বিষয়ে কমিটির সাথে কথা বলছি তারা বলছে আমরা নিজেরাই উপস্থিত থেকে যাচাই বাছাই করব। দাতা ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য প্রক্রিয়াধীন আছে আশা করি নির্বাচনের আগে সংশোধন হবে।
হিতৈষী চারজনকে ভোটার তালিকায় অর্ন্তভুক্ত না করার বিষয়ে বলেন নির্দিষ্ট সময়ের পরে এরা আমাকে এক ধরণের চাপ প্রয়োগ করে এটা করিয়েছে। আর এই চারটার জন্য রাত ৭টার দিকে আসে সে সময় তো আর ব্যাংকে টাকা পাঠানো যায় না যার কারণে এই চারজনকে অর্ন্তভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। এন.এইচ/জেসি


