# সহজ সরল মানুষকে টার্গেট করে ছিনতাইকারীরা: এডিশনাল এসপি
সারাদেশে ৬৪টি জেলার মাঝে ঢাকার সবচেয়ে নিকটতম জেলা নারায়ণগঞ্জ হওয়ায় এই শহরটি ঘনবসিতি অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ শহর শিল্প বানিজ্যিক এলাকা হওয়ায় দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠির বসবাস এখানে।
দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে জীবন জীবীকার তাগিদে জেলার শহরে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে চাকুরীর সন্ধানে ছুটে আসে মানুষ। তবে প্রান্তিক এলাকা থেকে ছুটে আসা মানুষ গুলো ভোর রাতে শহরের বিভিন্ন সড়কে নেমে থাকেন।
অভিযোগ রয়েছে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে কিশোর গ্যাং গ্রুপ ভোর ৪ টা থেকে ৬টা পর্যন্ত ছিন্তাইয়ের জন্য ওত পেতে থাকে। সেই অনুযায়ী তারা গ্রামের সহজ সরল মানুষ বুঝে তাদের কাছ থেকে যা কিছু পায় তাই নিয়ে যায়।
আবার অনেক ক্ষেত্রে দস্তাদস্তি করে ভুক্তভোগিকে জীবন হারাতে হয়। কিন্তু এত কিছুর পরেও কোন ক্রমইে ছিন্তাইকারীদের হাত থেকে মানুষ রক্ষা পাচ্ছে না। তাই সচেতন মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে ছিন্তাকারীদের আশ্রয় দাতা কারা। কাদের শেল্টারে এই ছিন্তাইকারীরা এত সাহস পায়।
এদিকে গতকাল ভোরে কুষ্টিয়া থেকে নারায়ণগঞ্জ শহরে ভোরে ছিন্তাই কারীদের হাতে গার্মেন্টস কর্মী নিহত হয়। জানা যায়, জয়নুর রহমান জনি শুক্রবার রাতে ৭ টায় নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশ্যে বাসে উঠেন। পরে ভোরে এসে শহরের চাষাঢ়ায় নামেন।
২৯ শে অক্টোবর শনিবার ভোর চারটায় মহিলা কলেজ সংলগ্ন রেল লাইনের পাশে জয়নুর রহমান জনির রক্তমাখা লাশ উদ্ধার করে রেলওয়ে পুলিশ। নিহত শ্রমিক ফতুল্লা বিসিক শিল্পনগরীর ফেইম অ্যাপারেলস লিমিটেডে জুনিয়র কিউআই পদে চাকরি করতেন। তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার চর প্রাগপুর।
চাষাড়া রেলস্টেশনের গেটম্যান সিরাজুল ইসলাম জানান, শনিবার ভোর সাড়ে ৫টায় দায়িত্বে এলে রেললাইনের পাশে কাঁধে ব্যাগ থাকা একজন যুবকের লাশ পড়ে থাকতে দেখি। পরে স্টেশন মাস্টারকে জানালে তিনি রেলওয়ে পুলিশ পাঠান।
চাষাড়ায় রেলস্টেশনে দায়িত্বরত রেলওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মোকলেছুর রহমান বলেন, ‘চাষাড়া রেললাইনে সরকারি মহিলা কলেজের সামনে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার কাঁধে একটি ব্যাগ ছিল, পরে তল্লাশি চালিয়ে ফতুল্লা বিসিক শিল্পনগরীর ফেইম অ্যাপারেলস লিমিটেডের জুনিয়র কিউআই পদ উল্লেখ করা পরিচয়পত্র পাই।
পরিচয়পত্রে জরুরি নম্বরে ফোনে কথা হয় নিহতের ভাই হাবিবুর রহমান হাবিবের সাথে কথা হলে তিনি জানান, শুক্রবার রাত ৭টায় নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লা বিসিকের উদ্দেশে কুষ্টিয়া থেকে বাসে উঠেছিলেন জনি।
পুলিশের ধারণা, শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে চাষাড়ায় বাস থেকে নেমে সরকারি মহিলা কলেজের সামনে যানবাহনের অপেক্ষাকালে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে নিহত হন জনি।
এ সময় তাদের ধস্তাধস্তির কারণে একপর্যায়ে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় ছিন্তাইকারীরা। দীর্ঘ সময় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় যেকোনো একসময় তিনি মারা যান।
এছাড়া ৭ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ঝাউগড়া সড়কে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে মোমেন মোল্লা (৩১) নামে এক কাঁচামাল ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। আড়াইহাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনজুরুল মোর্শেদের তথ্যমতে প্রতিদিনের মতো ভোরে অটো দিয়ে কাঁচামাল আনার জন্য ভুলতা যাচ্ছিলেন মোমেন।
এ সময় ঝাউগড়া পৌঁছালে ৩/৪ জনের ছিনতাইকারীর দল অটোটি গতিরোধ করে তার সঙ্গে থাকা টাকা-পয়সা দিতে বলেন। তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করলে ছিনতাইকারীরা তাকে ছুরিকাঘাত করেন। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে মরদেহ উদ্ধার করে।
তার মাসেক আগে ১৪ আগষ্ট ফতুল্লায় ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে সাইফুল ইসলাম (২৬) নামে এক যুবক খুনের ঘটনা ঘটেছে। ভোরে ফতুল্লার পঞ্চবটি মেথরখোলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে শেরপুর থেকে চাকুরির উদ্দেশ্যে মুন্সিগঞ্জে যাওয়ার পথে সে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে।
নিহত সাইফুল ইসলাম শেরপুর জেলার সদর থানার গাজীর খামার গ্রামের মোতালেব হুসাইনের ছেলে।ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ রিজাউল হক জানান, সাইফুলের বাম হাতে ও পায়ে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে।
এতে ধারণা করা হচ্ছে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। হত্যাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এদিকে একাধিক ছিনতাইকারীদের হাতে হত্যার ঘটনা ঘটায় জনমনে আতঙ্ক তৈরী হয়েছে। তবে নগরবাসী জানান শহরের চাষাঢ়া মোড়ে ৬টি স্ট্যান্ড রয়েছে।
আর এই স্ট্যান গুলো শহরের প্রভাবশালী চাদাঁবাজদের নিয়ন্ত্রণে চলে। তারা অভিযো তোলেন, এই চাদাঁবাজদের শেল্টারে শহরের রাইফেল ক্লাবের সামনে সিএনজি স্ট্যান্ড, মহিলা কলেজ মোড় স্ট্যান্ডসহ চতুর দিকে স্ট্যান্ড থাকায় একাধিক ছিনতাইকারী চক্র গড়ে উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানাযায়, এই চাদাঁবাজদের শেল্টারে শহরের বড় ভাইয়েরা জড়িত রয়েছেন। তাদের ইন্ধনে এই অপরাধ জগত গড়ে উঠে। ছিনতাইকারীরা হত্যার পর পার পায়ে যাওয়া তারাও এই অপরাধ জগতকে পেশা হিসেবে নিয়ে নেন।
তাই সচেতন মহল মনে করেন প্রশাসনের ভুমিকা দূর্বল থাকায় ছিনাইকারীরা পার পেয়ে যায়। তাদের শেল্টার দাতাতের পরিচয় প্রশাসনের গোয়েন্দা সংস্থার জানা থাকার কথা বলে মনে করেন সচেতন মহল। নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার তরিকুল জানান, শহরের চাষাঢ়ায় অনেকগুলো ছিনতাইকারী চক্র গড়ে উঠেছে।
তারা বিশেষ করে ভোরে গ্রাম থেকে সহজ সরল মানুষকে টার্গেট করে ছিনতাই করে থাকে। নেশার টাকার জন্য তারা অপরাধে জড়িয়ে পড়েন এই চক্রটি। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে।
এদিকে সূত্র জানিয়েছে . নারায়ণগঞ্জ সদর থানার,শহরের দুই নং রেল গেটের মোড়,দেওভোগ আখড়ার সামনে,কৃষ্ণ চূড়ার মোড়, দেওভোগ পানির ট্যাকিং,উকিল পাড়ার মোড়, আমলা পাড়া থেকে মেট্রো হল মোড়, বরফ কল ডিসির বাংলোর আশপাশের সড়ক।
কিল্লারপুল,সৈয়দপুর কড়ইতলা,ফকির বাড়ীর মোড়,পাইকপাড়া বড় কবরস্থানের মোড়, নিতাইগঞ্জের মোড়, মন্ডলপাড়া পুল সংলগ্ন রেলী বাগানের মোড় প্রতিদিনই চলে ছিনতাই। সূত্রের আরো দাবী, ফতুল্লার, সাইনবোর্ড গিরিধারা,তুষার ধারা,মাসদাইর বাড়ৈভোগ, তক্কার মাঠ, পোষ্ট অফিস রোড, কাশিপুর জেলে পাড়া ব্রিজ।
মাসদাইর পাকাপুল,শাসনগাও আরএস গার্মেন্টস ও বনশ্রীর মোড়, মুসলিম নগর মোল্লা গার্মেন্টস এর সামনের ব্রিজের উপর, পঞ্চবটি মেথর খোলার মোড়, শাসনগাঁও ভাঙ্গা ক্লাব,কাশিপুর বাংলাবাজার,পঞ্চবটি বহুতল ভবনের সামনের সড়ক, জামতলা ঈদগাহ, ইসদাইর পৌর ওসমানী স্টেডিয়ামের সামনের সড়ক।
নবীনগর কবরস্থানের সামনের সড়ক, নাগবাড়ির মোড় এছাড়াও সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি,পাইনাদী, পাওয়ার হাউজের, হাজী পাড়া, এসওর মোড়, নাভানা, পাঠানটুলী, চৌধূরীর মোড়, ঢাকেশ্বরী বাজারের মোড়, আদমজী বিহারী পট্রি, সুমিল পাড়ার মোড় এলাকায় রাত ২ টা থেকে ভোর ৬ টা পর্যন্ত থেমে থেমে ঘটে থাকে ছিনতাইয়ের ঘটনা।
ছিনতাইয়ের কাজে বেশির ভাগই ইজি বাইক ও সিএনজি ব্যবহার করে ছিনতাইকারীরা। এদের মধ্যে বেশির ভাগই কিশোর বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র। ছিনতাইকারীদের কবল থেকে ভোর বেলা পাইকারী মাছ,সব্জি বিক্রেতা থেকে শুরু করে ঘরে ফেরা মানুষ কেউ-ই রক্ষা পায়না। এন.এইচ/জেসি


