শওকতের হানায় কালো বুড়িগঙ্গার বাতাস
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২২, ০৭:৪২ পিএম
# ফসলি জমি কাটার অভিযোগ
# বৈধ ভাবে অনুমোদন নিয়ে ব্যবসা করে আসছি: শওকত চেয়ারম্যান
যদি প্রশ্ন করা হয় আমাদের জন্য সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ কোনটি? এমন প্রশ্নে অনেকে অনেক রকমের জবাব দেয়ার চেষ্টা করলেও বাস্তব সত্য হচ্ছে- নির্মল বায়ু, বিশুদ্ধ পানি এবং উর্বর মাটি এবং সবুজ ভূমি। কিন্তু তথাকথিত অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতাপে এসব অমূল্য-মহামূল্য সম্পদগুলো আমাদের কাছ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে।
প্রতিদিন আমরা বিনামূল্যে নি:শ্বাসের সাথে যে অক্সিজেন গ্রহণ করছি তা বেঁচে থাকার জন্য কত অপরিহার্য! আমাদেরকে ভোগবাদের অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় ফেলে বাতাসে অক্সিজেনের মধ্যে নানা রকম বিষাক্ত অপদ্রব্য ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। এ কারণে প্রতি বছর কোটি কোটি মানুষ নানা রকম দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে ধুঁকে ধুঁকে মরছে।
বায়ু দূষণ, মাটি ও পরিবেশ দূষণের শিকার সমগ্র মানব সম্প্রদায়। এবার পরিবেশ দূষনের অভিযোগ তুলে শওকত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে পরিবেশ ও জলবায় পরিবর্তন মন্ত্রণালয় অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
এদিকে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকে বিভিন্ন উপায়ে সাধারণ থেকে অসাধরণ হয়ে গেছেন ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বক্তাবলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শওকত আলী। তিনি প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ লোক বলে পরিচিত, ফলে তার প্রভাবও রয়েছে বিশাল।
এবার বক্তাবলীর মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে এই জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে বিভিন্ন উপায়ে অর্থ দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দুদকে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। গতকাল দৈনিক যুগের চিন্তা পত্রিকায় নৌকার শওকতের এত টাকা শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এই সংবাদ নিয়ে নগরীতে তাকে নিয়ে ব্যপক আলোচনা সামলোচনা তৈরী হয়।
এছাড়া নাগরিক সমাজ থেকে প্রশ্ন উঠেছে তিনি একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে কি করে এত টাকা দুর্নীতি করেন। কেননা জনপ্রতিনিধিরা স্বাভাবিক ভাবে জনগণের সেবা করে থাকেন। অথচ এই সেবার নামে তারা দুর্নীতি করে থাকেন, মানুষ খুবই কম জানে। যখনি গণমাধ্যমে তা প্রকাশিত হয় তখনি সকলের টনক নড়ে।
জানাযায়, এবার ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বক্তাবলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শওকত আলীর মালিকানাধীন নূরানী ব্রিক ফিল্ড নামক অবৈধভাবে ইটভাটা স্থাপনের ফলে এলাকায় দূষণ সৃষ্টি করায় পরিবেশ বন, ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রাণালয় অভিযোগ দেয়া হয়। বক্তাবলীর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব গোপাল নগর এলাকাবাসী তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ প্রদান করেন।
অভিযোগে উল্লেখ্য করা হয়, ‘বক্তাবলী ইউনিয়ন এর ৩নং ওয়ার্ড উত্তর গোপালনগর এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়মনীতি অমান্য করিয়া অবৈধভাবে পরিবেশ অধিদপ্তর হইতে লাইসেন্স তৈরী করিয়া নূরাণী ব্রিক ফিলড নামক ইটভাটা স্থাপন করিয়া আফাজুল ইসলাম গং দীর্ঘদিন যাবত ইটভাটা পরিচালনা করিয়া আসিতেছে।
ইটাভাটাটি স্থাপনের ফলে ওই এলাকায় বসবাসকারী জনগণের স্বাস্থ্যহানির সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগে বলা হয়। আর এতে করে অনেকেই ইটভাটার ধোয়ার কারণে শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগিতেছে। ইটভাটাটি গ্রামের প্রায় ৫০ ফুটের মধ্যে স্থাপন করা হইয়াছে। ইটাভাটা স্থাপনে ২০১৩ সনে সরকার কর্তৃক পাশকৃত ইটভাটা স্থাপনের ৮(১) আইনের কোন নিয়ম-কানুন মানা হয়নি,’ বলে জানান স্থানীয়রা।
এলাকাবাসী অনেক চেষ্টা তদ্বির করেও ইটাভাটাটি বন্ধ করতে পারতেছে না। সব সময় ইটভাটা হইতে বাহির হওয়া ধোঁয়া বাড়ীঘরে ঢুকে এলাকায় এককারাচ্ছন্ন পরিবেশের সৃষ্টি করে। এলাকার ফলাদি গাছগাছরা ধোয়ার কারনে আগের মত ফলন হয় না। শুধু তাহাই নয় এলাকায় বসবাসকারী ছোট ছোট শিশুরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
যে জমিতে ফসল হইত সেই সমস্ত জমির মাটি কাটিয়া নিয়া বিশালাকার জলাশয় সৃষ্টি করেন তার ইটভাটা। সদয় জ্ঞাতার্থে এতদসংগে ২০১৩ সনে সরকার কর্তৃক পাশকৃত ইটভাটা স্থাপনের ৮(১) এর একটি ফটোকপি সংযুক্ত জমা দেয়া হয়।
অন্যদিকে পরিবশে বিশ্লেষকদের মতে, জমির মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ায় ভূমির উর্বরা শক্তি কমে যাচ্ছে। এতে করে কৃষি জমি ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য বাড়তি খাদ্যের চাহিদা মেটানোর অভাব পড়তে পারে।
ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও বক্তাবলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শওকত আলী জানান, ‘আমি ১৯৮২ সন থেকে ইট ভাটার ব্যবসা করে আসছি। তখন এই অঞ্চল ছিল পুরো চক ছিল। মানুষের তেমন একটা বসবাস ছিলনা। আর আমার ব্যবসার সকল ধরণের বৈধতাসহ লাইেেসন্স নিয়ে, ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি।
এমনকি পরিবেশ অধিদপ্তর থেকেও আমার ইটভাটার অনুমোদন আছে। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল আমার সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য তারা মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছে। তারা মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে সত্যকে ঢাকতে পারবে না।’
পরিবেশ অধিদপ্তরের জেলা পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনকল রিসিভ করেননি। এন.এইচ/জেসি


