Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

অপকর্মে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে কুতুবপুর

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২২, ০৭:০৪ পিএম

অপকর্মে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে কুতুবপুর
Swapno


# আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তেমন তৎপরতা নেই


বাংলাদেশের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা ধনী জেলার তালিকায় প্রথমে রয়েছে। অর্থনীতি, রাজনীাতি সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই জেলার সুনাম থাকলেও কিছু কিছু বিষয়ে  এই জেলার দূর্নামও রয়েছে। বিশেষ করে গুম,খুন ,মাদক ,কিশোর গ্যাং সহ নানান অপরাধ সংগঠিত হয়ে থাকে এই নারায়ণগঞ্জে।

 

 

প্রশাসন অপরাধ রোধ করতে বিভিন্ন সময় ব্যাপকভাবে অভিযান চালালেও তা স্থায়ীভাবে আর হয়ে উঠেনা। আর এই নারায়ণগঞ্জ এর মধ্যে অপরাধ জগতের ভান্ডার যদি বলা হয় তাহলে সবার আগে নাম আসবে ফতু্ল্লাহ থানার কুতুবপুর ইউনিয়নের এখানে এমন কোন অপরাধ নেই যে এই এলাকাতে না হয়ে থাকে। বিশেষ করে মাদক এই এলাকার জন্য ভয়ানক আকার ধারন করেছে যা কোন ভাবেই রোধ করা সম্ভব হচ্ছেনা ।

 

 

কুতুবপুর এলাকাটি নারায়ণগঞ্জ এর বর্ডার সাইড হওয়ার কারণে এই এলাকাতে অপকর্ম করে, খুব সহজেই অন্য এলাকায় চলে যাওয়া যায়। এর  আগে এই কুতুবপুরের আকনগলি এলাকায় প্রকাশ্য দিনে দুপুরে মাদকের কেনা বেচা চলতো, প্রশাসনের তৎপরতার কারণে তা এখন প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসলেও কুতুবপুরের রসুলপুরের বিভিন্ন এলাকায় মাদকের কেনা-বেচা ব্যাপক আকার ধারন করেছে।

 

 

এই সকল এলাকায় বিভিন্ন সময় মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন স্থানীয় বাসিন্দারা তারপরও কতিপয় কিছু সন্ত্রাসী তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন সময় এই সকল মাদক ব্যবসায়ীরা গ্রেফতার হলেও খুবই অল্প সময়ে মধ্যে জামিন পেয়ে আবারো জড়িয়ে পড়ছে সেই  মাদক বিক্রিতে। এলাকার যুবকরা জড়িয়ে পড়ছে মাদকের মরণ ছোবলে।

 

 

এই এলাকায় শুধু মাদকের কথা বললে ভূল হবে। নানান  অপরাধ সংগঠিত হয় কুতুবপুরে। পাগলা বাজার এলাকায় রাত হলেই সক্রিয় হেতে থাকে এই সকল চিহ্নিত অপরাধীরা। বিশেষ করে  পাগলা মেরীএন্ডাসন  রাস্তার পাশে এলাকায় সরকারী জায়গায় গড়ে উঠেছে অবৈধ বেশ কয়েকটি ভাঙ্গারির দোকান আর এই সকল দোকানে বিভিন্ন জায়গা চুরি করা মালামাল ক্রয় বিক্রয় করা হচ্ছে।

 

 

আর তাদের এই ভাঙ্গারির ব্যবসা গভীর রাত হলে শুরু হয়। পাগলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠা ভাঙ্গারির ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ওইসব দোকানি ও সিন্ডিকেট সদস্যরা স্বল্প বেতনে কিংবা স্থানীয় মাদকসেবী ,বখাটে যুবক ও ছিচকে চোরদের কাজে লাগিয়ে এবং তাদের ব্যবহার করে বিভিন্ন বাসা বাড়ি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ,দোকান পাট, সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন প্রকার ,লোহার মালামাল টিন,স্টিল, তামা ,সহ বিভিন্ন মালামাল চুরি করানো হয়ে থাকে।

 

 

অতপর, কম দামে ক্রয় করে মজুদ করে দেশের বিভিন্ন কলকারখানায় বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এমনকি ভাঙ্গারি ব্যবসার আড়ালে কেউ কেউ বসিয়েছে মাদক এবং তিন তাসের খেলাে এসব বসিয়ে সর্বশ্য হাতিয়ে নিচ্ছে সাধারন মানুষের।

 

 

অন্যদিকে থেমে নেই অটো চোরা কারবাররা নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থান অটো গাড়ি চুরি করে কুতুবপুরে এনে তা বিক্রি করা হচ্ছে।এমনকি এই কুতুবপুরের অটো চোরদেরদের নিয়ে এক সাংবাদিক সংবাদ প্রকাশ করায় সেই সাংবাদিককে চোখ উঠিয়ে ফেলার হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে।

 

 

শুধু তাই নয় এই এলাকায় কিছু কিছু সন্ত্রাসী বাহীনির আধিপত্যকে বিস্তার নিয়ে বিভিন্ন সময় দেখা যায় কিশোর গ্যাংদের মহড়া।অনেকেই মনে করছেন এই এলাকাটি দিন দিন খুবই ভয়ংকর হয়ে উঠছে। এই এলাকার সাধারন মানুষ সব সময়ই একটা আতংকের মধ্যে প্রতিটা মুহূর্ত পার করেছে। তবে এতো অপরাধ সংগঠিত এলাকায় প্রশাসনের তেমন কোন রকম তৎপরতা দেখা যায় না যার কারনে অপরাধীরা তাদের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।

 

 

তাই এলাকার সাধারন মানুষের একটাই দাবি প্রশাসনের উচিৎ ব্যাপক ভাবে সাড়াশি অভিযান চালানো।  আর এই অভিযানের মাধ্যমে এই এলাকার যে সকল সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, চোর, জুয়ারি, ছিনতাইকারী কিশোর গ্যাং রয়েছে তাদের আইনের আওতাও এনে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দেওয়া। তাহলেই এই কুতুবপুরের মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।  এন.এইচ/ জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন