Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

বক্তাবলীর অনেক হত্যকাণ্ডের পেছনে কলকাঠি শওকতের- অভিযোগ এলাকাবাসীর

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২২, ০৩:১৮ পিএম

বক্তাবলীর অনেক হত্যকাণ্ডের পেছনে কলকাঠি শওকতের- অভিযোগ এলাকাবাসীর
Swapno


# সর্প হয়ে দংশন করে ওঝা হয়ে ঝাড়েন, অভিযোগ এলাকাবাসীর

 

সদর উপজেলার ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বক্তাবলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শওকত আলীর বিরুদ্ধে দুদকে দেয়া অভিযোগ নিয়ে ইতোমধ্যে হৈ চৈ শুরু হয়ে গেছে। টানা তিন বারের বক্তাবলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হয়ে জনপ্রতিনিধিত্ব করে যাচ্ছেন। এর আগেও তিনি চেয়ারম্যান হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।

 

 

তবে দীর্ঘ দিন টানা তিন বার জনপ্রতিনিধি থাকায় এখন বক্তাবলীর সব কিছু তার নিয়ন্ত্রণে বলে জানান স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে তার শেল্টারেই আকবনগরের সামেদ আলীর টেঁটা বাহিনী গড়ে উঠেছে। এই বাহিনীর হাতে জাকির হত্যাসহ একাধিক হত্যার ঘটনা ঘটেছে। আবার এই হত্যাকারীদের ছাড়িয়ে আনার জন্য কিংবা জামিনে নেয়ার জন্য আইনজীবী, শওকতই ঠিক করে দেন।

 

 

আবার অনেক ক্ষেত্রে তিনি নিজে বসে বা তার প্রতিনিধি দিয়ে বিভিন্ন বিচার সালিশসহ হত্যা মামলা আপোষ করে দেন। তাই বলা হয় সর্প হয়ে দংশন করে ওঝা হয়ে ঝাড়েন এই জনপ্রতিনিধি।  এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, তার একক আধিপত্যের কাছে বক্তাবলীবাসী জিম্মি হয়ে আছে।  

 

 

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার জন্য সরকারি দলের কিছু নেতা সর্প হয়ে দংশন করে, ওঝা হয়ে ঝাড়ে। এভাবেই তারা রাজনৈতিক কিছু ব্যক্তিকে এজেন্ডা দিয়ে মাঠে নামিয়ে, নিজেরা ফায়দা হাসিল করে থাকেন। যাদের কাজই হলো- ‘মায়ের ডাক’ ‘বাবার ডাক’ এক ডাক। অর্থাৎ বাংলা ভাষার সেই প্রবাদ শব্দের মত চোরে বলে চুরি কর আবার গৃহস্থরে বলে সজাগ থাক।

 

 

অর্থাৎ অপরাধে শেল্টার দিয়ে সেই অপরাধ থেকে তারাই আবার ছলে বলে কৌশলে অপরাধীদের বাঁচিয়ে নিয়ে আসেন। আর এতে করে অপরাধীরাও অপকর্ম করার সাহস পেয়ে যান। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সম্প্রতি বক্তাবলী এলাকায় একাধিক হত্যার ঘটনা ঘটছে। এর আগে এই ভাবে হত্যার ঘটনা ঘটে নাই। একটি ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আরেকটি ঘটনা ঘটে যায়।

 

 

ইদানিং কালের ঘটনা গুলোতে জনপ্রতিনিধিরাও জড়িয়ে রয়েছেন কিংবা তাদের ফাসানোর জন্য জড়ানো হয়েছে। তবে হত্যা মামলার এজহার বলছে জনপ্রতিনিধিরা হত্যায় জড়িয়ে পড়েছেন। কেননা তাদের নাম, আসামীর তালিকায় রয়েছে।

 

 

গত ২১ মার্চ বক্তাবলীর লক্ষিনগর এলাকার আলমগীর নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় বক্তাবলী ইউপির মেম্বার ফারুক হোসেনকে আসামী করে ফতুল্লা থানায় মামলা হয়। এই ঘটনায় তাকে ১ এপ্রিল ঢাকা থেকে র‌্যাব গ্রেপ্তার করে। যদিও পরে তিনি শওকতের চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় উকিলের মাধ্যমে আদালত থেকে জামিন পেয়ে যান।

 

 

এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ১৯ সেপ্টেম্বর চর বক্তাবলী এলাকার জাকির হোসেন নামের এক ব্যক্তির লাশ পাওয়া যায় বন্দর কলাগাছিয়া থেকে। তার আগে ১৬ সেপ্টেম্বর জাকির হোসেন নিখোঁজ হন। যার প্রেক্ষিতে ফতুল্লা মডেল থানায় জিডি হয়। পরবর্তীতে ২১ সেপেটম্বর জাকির হোসেনের স্ত্রী মোর্শেদা বেগম বাদী হয়ে বন্দর থানায় মামলা করেন। যার মামলা নম্বর ২৯।

 

 

নিহত জাকির হত্যা মামলায় বক্তাবলী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার রশিদ আহম্মেদ এবং সামেদ আলীর ছেলে ওসমান গনি সহ ১৯ জনকে আসামী করে মামলা করা হয়। মামলার এজহার কপিতে বলা হয় রশিদ মেম্বারের অফিস থেকে বের হলে জাকির হোসেন নিখোঁজ হন। তার কয়েক দিন পরে তার লাশ উদ্ধার হয়।

 

 

অভিযোগ রয়েছে এই হত্যার পিছনে বক্তাবলী আকবনগরের কুখ্যাত সন্ত্রাসী সামেদ আলীর ছেলে ওসমান গনি জড়িত রয়েছে। সামেদ আলীরা শওকত চেয়ারম্যানের শেল্টার পাওয়ায় তারা যাকে তাকে হত্যা করেও পার পেয়ে যান।

 

 

ভুক্তভোগীর অভিযোগ পুরোবক্তাবলি চলে শওকত চেয়ারম্যানের ইশারায়। আলমগীর হত্যার পর ফারুক মেম্বারকে জামিন পাওয়ার জন্য তিনি উকিল ঠিক করে দেন। এতে করে বিশাল অংকের টাকার লেনদেন হয় বলে জানান এলাকাবাসী। একই ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে এবার জাকির হত্যায়।

 

 

এখানে রশিদ মেম্বারকে বাচাঁনোর জন্য বিভিন্ন ভাবে দেন দরবার থেকে শুরু করে টাকার ছড়াছড়ি চলছে। এই দুই মেম্বারই তার কাছের লোক। তার ইন্ধনে হত্যা করে; আবার তিনি (শওকত চেয়ারম্যান) হত্যার বিচারেরও দাবী করেন। এমনকি হত্যাকারীদের জামিন পেতে প্রভাবশালী আইনজীবীও ঠিকও করে দেন। সত্যিই সেলুকাস!

 

 

এতে করে হত্যাকারীরা জামিন পেয়ে আবার হত্যাকান্ডে জড়িয়ে পরেন। তাই এবার বক্তাবলীর মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই জনপ্রতিনিধি সর্প হয়ে দংশন করে আবার ওঝা হয়ে ঝাড়েন তারই ভূমিকায় রয়েছেন। তাই সচেতন মহলের মতে বলা হয় যে, ক্ষতি করে সে-ই আবার সেই ক্ষতির প্রতিকার করিতে অগ্রসর হয়ে মিত্রতা দেখায়।

 

 

এই বিষয়ে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত জানান, ‘তিনি কোন সন্ত্রাসীকে শেল্টার দেন না। যে হত্যা গুলো হয়েছে তার বিচারের দাবী জানিয়েছেন তিনি। তাছাড়া তার বিরুদ্ধে আনা দুদকে দেয়া অভিযোগও মিথ্যা বলে জানান তিনি।’ এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন