বক্তাবলী ইউপি সেবা পেতে লাগে বাড়তি অর্থ: ছাড় নেই দরিদ্র,অসহায়দেরও
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২২, ০৭:৪০ পিএম
# সেবার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ: ইউপি সচিব ও কম্পিউটার অপারেটর এর বিরুদ্ধে
জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার বলেছেন সরকারি ফি ছাড়া অতিরিক্ত কোন টাকা যেন না নেয়া হয়। অতিরিক্ত টাকা দাবীর তথ্য পেলে চেয়ারম্যান, ইউপি সচিব, মেম্বারদের চাকুরি থাকবে না। জন্ম নিবন্ধনে সরকারি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা, আর জন্ম তারিখ সংশোধন ফি ১০০ টাকা। তাছাড়া পিতার- মাতার নাম সংশোধন ফি ৫০ টাকা।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে জেলার ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে সরকারি ফি ধারে কাছেও নেই। তারা অতিরিক্ত টাকা নিয়ে জন্ম নিবন্ধনের সেবা দিচ্ছে। তার মাঝে এবার বক্তাবলী ইউনিয়নে জন্ম নিবন্ধন সহ নানা সেবার নামে অতিরিক্ত টাকার নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে জানা যায়, বক্তাবলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শওকত আলীর বিরুদ্ধে নানা ইস্যুতে অভিযোগ তুলে, তার দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ দিয়েছে স্থানীয়রা। যা নিয়ে এখনো তদন্ত চলছে, যদিও এই ক্ষমতাসীন দলের নৌকার এই চেয়ারম্যানের দাবী তিনি নির্দোষ তাকে ফাসানোর জন্য এই অভিযোগ করা হয়েছে। এমনকি তার নামে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে।
তবে এবার বক্তাবলী ইউনিয়নের মানুষের কাছ থেকে জন্ম নিবন্ধনে ৫০০ টাকা করে নেয়ার অভিযোগ তুলেন স্থানীয়রা। একই সাথে জন্ম নিবন্ধন পেতে মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হয়। কেউ কেউ ৫ থেকে ৭ দিনের জায়গায় ১৫ দিন পার হয়ে গেলেও জন্ম নিবন্ধন হাতে পান না। এতে করে মানুষকে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়।
সেই সাথে ওয়ারিশ সনদেও বেশি টাকার নেয়া অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। আর এতে করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাকে উপেক্ষা করে তারা নিজেদের মত করে অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এলাকাবাসী জানান, বক্তাবলীর মানুষ কৃষিকাজ করে জীবন নির্বাহ করেন। এখানকার বেশির ভাগ মানুষ দিন আনে দিন খায়। অনেকের নুন আনতে গিয়ে পান্তা ফুরায় অবস্থা।
তার মাঝে যখন ইউনিয়ন পরিষদের সেবা পেতে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয়। ইউনিয়ন পরিষদের কম্পিউটার অপারেটর মিরাজ হাওলাদার ও ইউপি সচিব মিলে জন্ম নিবন্ধন থেকে ৫০০ টাকা করে নেন বলে এই প্রতিবেদকের নিকট অভিযোগ জানান এলাকাবাসী। কেউ যদি কম টাকা দিতে চায় তার জন্ম নিবন্ধন মাসের পর মাস আটকে রেখে হেনস্থা করেন; উল্লেখিত ব্যাক্তিদ্বয়।
জলিল হোসেন নামে এক ব্যক্তি জানান, মিরাজ হাওলাদার বরিশাল থেকে এসে রাধানগর এলাকায় প্রথমে মাটি ভাড়া নিয়ে থাকতেন। কিন্তু বক্তাবলি ইউনিয়ন পরিষদে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কাজ করে এখন জায়গা কিনে চার তলা ফাউন্ডেশন করে বাড়ি করেছেন।
তাই এলাকাবাসী প্রশ্ন তুলেন তিনি কি করে এত টাকার মালিক হলেন; মাটি ভাড়া থেকে এখন জায়গার মালিক হয়ে বিল্ডিং পর্যন্ত করে ফেললেন। আবার কেউ কেউ বলেন, তার চেয়ারম্যানের নামে যেমন দুদকে অভিযোগ দিয়েছে; তার বিরুদ্ধেও দুদকে অভিযোগ দেয়া প্রয়োজন।
এই সকল অপকর্মের দায়ভার বক্তাবলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শওকত আলীও এড়িয়ে যেতে পারেন না। কেননা তার ইউনিয়ন পরিষদে কোন অনিয়ম হলে তার দায়ভার, তার উপরও বর্তায়।
আরেকজন এলাকাবাসী বলেন, যারা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাকে তোয়াক্কা করে না; তারা সকল ধরনের অপকর্ম করতে পারেন। এদের মত কিছু লোকের জন্য মানুষকে কষ্ট পেতে হয়। এসময় কয়েকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এখানে মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে সেবা মিলে। যে টাকা দিবে না তার কাজ হবে, অনেক পরে।
কেউ প্রতিবাদ করলেও তাকে আরও বেশি হেনস্থার শিকার হতে হয়। তাই ভয়ে কেউ প্রতিবাদও করে না। এক কথায় শওকতের পরিবর্তে মিরাজ হাওলাদার ও ইউনিয়ন সচিব ওই সকল কাজ করে থাকেন। সপ্তাহে তিন দিন চেয়ারম্যানের দেখা মিলে ইউনিয়ন পরিষদে; তবে অন্যদের ক্ষেত্রে তাও মিলে না। কাশিপুর, গোগনগর সহ আশ পাশের ইউনিয়নে চেয়ারম্যানদের দেখা পান না স্থানীয়রা।
উল্লেখ্য এর আগে শওকত চেয়ারম্যানের দুদুকে অভিযোগ, তদন্ত চলমান শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়, শওকতের হানায় কালো বুড়িগঙ্গার বাতাস, ম্যানেজে শওকতের দৌড়ঝাঁপ, শামীম ওসমানের দুই ঘনিষ্ঠ দুদকের তদন্তের আওতায়, সর্বশেষ গতকাল বক্তাবলীতে অনেক হত্যাকান্ডের পিছনে কলকাঠি শওকতের টানা ৫ দিন সংবাদ প্রকাশ নিয়ে রীতিমত সর্ব মহলে হৈ চৈ শুরু হয়ে যায়।
এই সংবাদ গুলোতে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো তুলে ধরা হয়। সেই সাথে তাকে নিয়ে নানা আলোচনা সমালোচনা তৈরি হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে তার নামে যদি মিথ্যা অভিযোগ দেয়া হয় থাকে; তবে তা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণ করা উচিত। তিনি (শওকত চেয়ারম্যান) তাই করবেন বলে আশাবাদী।
এবিষয়ে জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনকল রিসিভ করেননি। সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিফাত ফেরদাউসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।
বক্তাবলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শওকত চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার সহ-ধর্মিনী ফোন ধরে বলেন, “চেয়ারম্যান সাব অসুস্থ আছেন।” এন.এইচ/জেসি


