Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

বক্তাবলীর জাকির হত্যা নিয়ে ধোঁয়াশা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২২, ০৫:২৬ পিএম

বক্তাবলীর জাকির হত্যা নিয়ে ধোঁয়াশা
Swapno


# মেয়ের জামাই জাকির পলাতক অভিযোগ এলাকাবাসীর
# নিহত জাকিরের ডিএনএ পরীক্ষার দাবি
#  এর আগেও জাকির আত্মগোপনের ছিলেন


নারায়ণগঞ্জে ঘুমের ঘটনার অভিযোগের পর আবার ফিরে আসার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। তবে প্রতিটি ঘটনায় দাবী করা হয়েছে পূর্ব সূত্রতার জের ধরে গুম করে হত্যার অভিযোগ তুলা হয়। আবার অনেক বছর কিংবা কয়েক মাস পর ফিরে আসার ঘটনাও ঘটেছে। তাই অভিযোগ গুলোর ক্ষেত্রে সঠিক তদন্তের দাবী উঠেছে।

 

 

গত বছরের ২০ মে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেকে কথিত গুমের ১৪ বছর পর ফিরে এসেছে আল আমিন রুবেল নামের এক যুবক। ২০০৭ সালে যখন গুমের অভিযোগ করা হয় তখন তার বয়স ছিল মাত্র ৭ বছর। ১৪ বছর পর ফিরে আসার সময় তার বয়স হয় ২১ বছর।

 

 

সে দেশের বিভিন্ন এলাকাতে বসবাস ও আত্মগোপন করে ছিল জানান আল আমিন রুবেল। ইতোমধ্যে বিয়েও করেছেন এই যুবক। তিনি নিজে তার মায়ের সাথে রাগ করে বাসা থেকে বের হয়ে যান বলে পরবর্তিতে সিকারিক্ত প্রদান করেন। আল আমিনকে গুমের মামলা ১৯ জনকে বিবাদী করে সদর থানা মামলা হয়।

 

 

ওই মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে বিবাদীদের মাঝে অনেকে কারাভোগও করেন। তার আগে নারায়ণগঞ্জে দেওভোগ পাক্কারোড এলাকার স্কুল শিক্ষার্থী জিসামনি ধর্ষণ ও হত্যার পর লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হয়। তিন আসামির আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী এবং ৫১ দিন পর নিখোঁজ জিসামনি ফিরে আসে।

 

 

পরবর্তীতে উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে জেলাজুড়ে টক অব দ্যা টাউন পরিণত হয়েছে। তখন পুলিশের তদন্ত ও আদালতে তিন আসামির দেয়া জবানবন্দি দেয়া নিয়ে দিনভর ছিলো আলোচনা ও সমালোচনার ঝড়। জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগস্থ পাক্কা রোড বসিন্দা পনের বছর বয়সের কিশোরী জিসা মনি ২০২০ সনের ৪ জুলাই বিকেলে তাদের বাসা থেকে নিখোঁজ হয়।

 

 

দীর্ঘদিন খোঁজাখুঁজি করে মেয়ের সন্ধান না পেয়ে এক মাস পর ৬ আগস্ট থানায় অপহরণ মামলা করেন বাবা জাহাঙ্গীর হোসেন।গ্রেফতারের পর এই তিন আসামি দুই দফা রিমান্ড শেষে কিশোরী জিসামনিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে শীতলক্ষ্যা নদীতে লাশ ভাসিয়ে দেয়ার কথা স্বীকার করে গত ৯ আগস্ট আদালতে জবানবন্দী দেয় বলে পুলিশ গণমাধ্যমকে জানায়।

 

 

তবে ঘটনার প্রায় দেড় মাস পর (২৩ আগস্ট) মোবাইল ফোনে খবর পেয়ে বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জ এলাকা থেকে ওই কিশোরীকে জীবিত ফিরে পাওয়ার পর তার বাবা-মা বিষয়টি রাতে সদর থানায় গিয়ে জানান। যা নিয়ে তখন ব্যপক আলোচনা তৈরী হয়। একই সাথে জিসামনি ধর্ষণ, হত্যা এবং জীবিত ফিরে আসার বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে জেলাজুড়ে।

 

 


এদিকে এবার জেলার ফতুল্লা থানার বক্তাবলীর জাকির হত্যা নিয়ে এলাকাবাসির মাঝে ধোয়াশা তৈরী হয়েছে। কেননা বক্তাবলীর জাকির হত্যার লাশ তার পরিবারের সদস্যরা সনাক্ত করলেও তার মরদেহ কেউ দেখতে পায় নাই। তাছাড়া স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, এই জাকির হোসেন ২০২০ সনে জুলাই মাসে নিজে আত্মগোপনে করে থাকেন।

 

 

পরে তার পরিবার তাকে গুম করে ফেলা হয়েছে বলে ফতুল্লা থানায় জিডি করেন। যার জিডি নম্বর ৩৩৩।  তার আগে তাদের হুমকি দেয়া হয় বলে উল্লেখ্য করে একই বছরের মে মাসে ৪ জনের নাম উল্লেখ্য থানায় জিডি করেন জাকির হোসেনের মেয়ে জাকিয়া সুলতানা। তখন তারা স্থানীয়ভাবে টাকা পয়সা নিয়ে তা আপোস মিমাংসা করেন।

 

 

তাই এবার জাকির হোসেনের নিখোজ হওয়া নিয়ে বক্তাবলীর মানুষের মাঝে ধোঁয়াশা তৈরী হয়ে আছে। একই সাথে এলাকাবাসি প্রশ্ন তুলেন যদিও তার লাশ পাওয়া গেছে দাবী করছে তার পরিবার। তবে জানাযায় আত্মীয় স্বজন না আসায় মানুষের মাঝে সেন্দহ তৈরী হয়েছে। তাই স্থানীয়রা জাকির হত্যার বিষয়ে ডিএনএ পরীক্ষার দাবী তুলেছেন।

 

 

   
অপরদিকে নারায়ণগঞ্জের বক্তাবলীর উত্তর গোপালনগর থেকে নিখোঁজের ৩৪ দিন পর ব্যবসায়ি জাকির মিয়া (৫২)’র লাশ উদ্ধারের ঘটনায় ১৯ জনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় প্রধান আসামী করা হয়েছে ফতুল্লার বক্তাবলী ইউনিয়নের উত্তর গোপালনগর এলাকার আওলাদ হোসেনকে।

 

 

দুই নাম্বার হচ্ছেন বক্তাবলী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড সদস্য রশিদ মেম্বার। শুক্রবার বিকালে নিহতের স্ত্রী খোরশেদা বেগম বাদী বন্দর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলার অন্য আসামীরা হলো-আকবর নগরের রাজিব (৩৫), গনি (৪২), আরিফ (৪০), সজিব (৩২), হৃদয় (৩০), আবুল হোসেন (৪৫)।

 

 

আরও ছিলেন হোসেন (৩৮), নবী হোসেন (৪০), রাজু খাঁ (৩২), আমিন (৩৫), সাইদুল (৩৮), উত্তর গোপাল নগরের কাদির সিপাই (৪৫), আবুল হোসেন (৪৮), মধ্যনগরের সোহেল (৩৫), পুর্বগোপাল নগরের জসিম ওরফে কালা জসিম (৪২), মধ্যনগর ফকির বাড়ির কবির হোসেন (৪২) ও উত্তর গোপাল নগরের আশিক (২৮)।

 

 

নিখোঁজের ৩৪দিন পর বুধবার বন্দরের কলাগাছিয়া থেকে  জাকির মিয়ার অর্ধগলিত রাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে বৃহস্পতিবার জাকির মিয়ার স্ত্রী খোরশেদা বেগম লাশটি তার স্বামীর বলে সনাক্ত করেন। নিহত জাকির মিয়ার মেয়ের জামাই জাকির হোসেনের দাবী তার শ্বশুর জাকির মিয়াকে হত্যা করা হয়েছে।

 

 

মারধর করার অভিযোগে বক্তাবলী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড সদস্য রশিদ মেম্বারের বিরুদ্ধে তার শ্বশুর ফতুল্লা মডেল থানায় একটি জিডি করেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিত্রে বক্তাবলী গিয়ে এলাকাবাসীর সাথে কথা হলে তারা জানান, নিহত জাকির হোসেনের লাশ শনাক্ত হলেও তার চেহারা কেউ দেখে নাই। তাছাড়া তারকা আত্মীয়-স্বজনও আসে নাই।

 

 

তাছাড়া এর আগে জাকির হোসেনের মেয়ের জাকিয়া সুলতানার জামাই হাজ্বী জাকির হোসেন জিডি করে মামলার ভয়ে দেখিয়ে অর্থের বিনিময়ে আপোষ মিমাংসা করেছে। তাই এবার হত্যার বিষয়ে এবার জাকির হোসেনের ডিএনএ পরীক্ষার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সত্য রহস্য উৎঘাটনের দাবী তুলেন ভুক্তভোগী পরিবার।

 

 

কেননা কোন জিসামনি এবং আলীরটেকের আল আমিন রুবেলের মত ঘটনায় কোন নির্দোষ ব্যক্তি যেন দোষী না হন। কেননা বক্তাবলির জাকির হোসেন হত্যা নিয়ে এখনো মানুষের মাঝে তৈরী হওয়া ধোয়াশা পরিষ্কার হয় নাই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, নিহত জাকির হোসেনের ডিএনএ পরীক্ষা দাবি তুলার পর তারই মেয়ে জাকিয়া সুলাতানার জামাই হাজ্বী জাকির হোসেন এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী।

 

 

তবে সচেতন মহলের মতে প্রশাসনের সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সব কিছু পরিস্কার হবে বলে মনে করেন নাগরিক সচেতন মহল। জাকির হত্যার তদন্তকারী পুলিশ পরিদর্শক যুবায়ের সাদেকের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনকল রিসিভ করেননি।  বন্দর থানার ওসি আবু বকর জানান, ১৯ জনকে আসামীকে নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন