Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিনের বুকে ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২২, ০৬:২০ পিএম

বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিনের বুকে ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন
Swapno

 

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ছাত্র ফারদিন নূর পরশের (২৪) মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তার মাথার বিভিন্ন অংশে ও বুকে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক শেখ ফরহাদ।

 

 

চিকিৎসক শেখ ফরহাদ সাংবাদিকদের বলেন, “নিহত ফারদিনের মাথার পুরো অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া তার বুকে আঘাতের চিহ্ন আছে। প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি, এটি হত্যাকাণ্ড। কারণ আঘাতের চিহ্নগুলো স্বাভাবিক না।”

 

 

এর আগে, নিখোঁজের তিন দিন পর সোমবার সন্ধ্যার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের বনানী ঘাট সংলগ্ন লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলের পেছন দিক থেকে ফারদিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় ফারদিন নূর পরশের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এখন পর্যন্ত তার এক বান্ধবীসহ বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।

 

 

জানা গেছে, শুক্রবার রাতে নিখোঁজ হওয়ার আগে রাজধানীর রামপুরা এলাকায় তিনি তার এক বান্ধবীকে বাসায় যাওয়ার জন্য এগিয়ে দেন। এরপর থেকেই নিখোঁজ হন ফারদিন। ঘটনাটি পরিকল্পিত বলে ধারণা পরিবারের। তবে তিনি পরিকল্পিত হত্যাকান্ডের শিকার নাকি ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে নিহত হয়েছেন; সে বিষয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।

 

 

ছেলে হত্যার বিচারের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী ফারদিন নূর ওরফে পরশের বাবা  নূরউদ্দিন রানা। মঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে বুয়েট ক্যাম্পাসে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ দাবি জানান। এ সময় নূরউদ্দিন বলেন, আমি আমার ছেলেকে ফিরে পাব না, আমি বিচারটা চাই।

 

 

কেন মনে হচ্ছে এটা হত্যাকাণ্ড জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার কাছে মানিব্যাগ, মোবাইল ফোন, ব্লুটুথ ছিল, হাতে ঘড়ি ছিল। কিছুই নেয়নি। সবকিছু পাওয়া গেছে। কে বা কারা হত্যা করেছে সে সম্পর্কে আমাদের ধারণা নেই। আমার শত্রু আছে বলে আমি মনে করি না। আমি কারও কোনও ক্ষতি করিনি।

 

 

আমি সাংবাদিকতা করেছি, এমন কোনও রিপোর্ট করিনি যাতে কেউ আহত হতে পারে। আমি ফিচার ম্যাগাজিন সম্পাদনা করতাম, ইতিবাচক চিন্তা করতাম। দেশের ইতিবাচক ব্যাপারগুলো উপস্থাপন করতাম।

 

 

ফারদিনের সঙ্গে কারও বৈরী সম্পর্ক ছিল- এমন তথ্য জানা আছে কি না প্রশ্ন করা হলে নূরউদ্দিন বলেন, এ রকম কিছু নেই। এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়েছে। আমি দেখতে চাই ওর মুভমেন্ট। যেসব ভিডিও ফুটেজ আছে সেগুলো খুঁজে বের করা হোক। মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ে বের হয়ে আসবে কার কার সঙ্গে ফারদিনের যোগাযোগ ছিল। আমি কাউকে ইঙ্গিত করতে চাচ্ছি না; কেউ নেইও।

 

 

উল্লেখ্য, ফারদিন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিবেটিং ক্লাবেরও যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের নয়ামাটি এলাকার কাজী নুর উদ্দিনের ছেলে। বসবাস করতেন ডেমরার কোনাপাড়া শান্তিবাগ এলাকায়। এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন