Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

অপরিপক্ক চালকরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শহর

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০২২, ০৭:২৪ পিএম

অপরিপক্ক চালকরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শহর
Swapno

 

বর্তমানে ইজিবাইক ও ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা শহরে নিষিদ্ধ হলেও স্বল্পদৈর্ঘ্যরে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই ইজিবাইক ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বর্তমানে শহরে প্রায় ৫০ হাজারের মতো ব্যাটারিচালিত গাড়ি রয়েছে। তবে খারাপ খবর এই যে এত বিশাল সংখ্যক গাড়ির জন্য কিন্তু পর্যাপ্ত সংখ্যক দক্ষ ও অভিজ্ঞতাসমপন্ন চালক নেই।  

 

 

ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক এর ক্ষেত্রে দেখা যায় চালক ও গাড়ির কাউকেই লাইসেন্স করতে হয়না। এমনকি কম দামে এগুলো কিনতে পাওয়া যায়।অর্থাৎ এই গাড়িগুলো খুবই সহজলভ্য । এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে যে কোনো বয়সের যে কেউ কোনো পূর্বঅভিজ্ঞতা ও দক্ষতা ছাড়াই গাড়ি নিয়ে নেমে যাচ্ছে শহরের অভ্যন্তরীণ সড়কে এমনকি মহাসড়কেও।

 

 

এসব শিশু, কিশোর কিংবা তরুনদের না আছে দক্ষতা, না আছে অভিজ্ঞতা। না আছে ট্রাফিক আইন কিংবা নিয়ম সম্পর্কে ধারণা। এর ফলে প্রায়শই দূর্ঘটনার সম্মুক্ষীন হতে দেখা যায় এসব অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের গাড়ি। এতে করে আতঙ্কে থাকে সাধারণ পথচারী, উক্তগাড়ির যাত্রী এমন কি অভিজ্ঞ গাড়ির চালকরাও।  

 

 

কেননা, অনেক সময় অন্যের ভুলের খেসারত নিজেকেও দিতে হয়। কখন কার সাথে সংঘর্ষ লাগিয়ে দেয় এসব চালকরা তা বলা মুশকিল। একপ্রকার অনিশ্চয়তা আর উৎকন্ঠা নিয়েই রাস্তায় চলাচল করতে হয় শহরবাসীকে। অথচ জাতীয় শিশুশ্রম নিরসন নীতি ২০১০ অনুসারে, ১৮ বছরের নিচে কোনো শিশুকে আনুষ্ঠানিক কাজে দেওয়া যাবেনা এবং কিশোরদের ঝুঁকিপূর্ন কাজে দেওয়া যাবেনা।  

 

 

অথচ এই আইনের বালাই নাই যেন শহরে। শিশু, কিশোররাই করছে ড্রাইভিং এর মতো ঝুঁকিপূর্ন কাজ। দাপিয়ে বেরাচ্ছে সড়ক থেকে মহাসড়ক। এর ফলে নিজেরা তো বিপদে পড়ছেই। অন্যদের ও বিপদে ফেলছে। কিন্তু এগুলো দেখার যেনো কেউ নেই। শহরের বিভিন্ন সড়ক পরিদর্শন এ গিয়ে দেখা যায় বেশির ভাগ ইজিবাইক চালক-ই তরুণ।

 

 

তাদের ড্রাইভিং এর ধরণ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।  ট্রাফিক আইন না মেনেই তারা অতিরিক্ত গতিতে চালাচ্ছে গাড়ি। ট্রাফিক ধরে মামলা দিলে ১০০০ টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে নেওয়া হচ্ছে গাড়ি। তারপর আবার সেই আগের মতোই চলাচল করছে তারা। এতে করে ঝুঁকি কমছে না।

 

 

অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর চালকের হাতে আহত হওয়া বাবুল নামের এক ভুক্তভোগী জানান, আমি সঠিকভাবেই রাস্তার পাশ দিয়ে হাটছিলাম। হঠাৎ করে এক ইজিবাইক চালক পিছন থেকে আমার গায়ের উপর উঠিয়ে দেয়। এতে করে আমার পা মারাত্মক ভাবে আঘাত প্রাপ্ত হয় এবং কোমরের হার ভেঙে যায়।

 

 

তিনি আরও বলেন উক্ত ইজিবাইক চালক ছিলেন শিশু। এছাড়াও শহরে যতগুলো ইজিবাইক দূর্ঘটনা হয়েছে তার অধিকাংশ ঘটেছে শিশু ও কিশোর চালকদের হাত ধরে। এর কারণ অনুসন্ধ্যানে জানা যায়, শিশু ও কিশোর চালকরা তাদের মস্তিষ্ককে নিয়ন্ত্রণ করতে তেমনভাবে সক্ষন না।

 

 

তারা গাড়িকে নিয়ন্ত্রণে অক্ষম কারন সবকিছুর একটা নির্দিষ্ট সময় লাগে। গাড়ি নিয়ন্ত্রণের ও একটা নির্দিষ্ট সময় লাগে। কিন্তু সময়ের আগেই তারা এ ঝুঁকিপূর্ন কাজে লিপ্ত হওয়াই মুলত দূর্ঘটনার মুল কারণ।

 

 

অথচ শিশুশ্রম নিষিদ্ধ করে দেশে আইন করা আছে। সেখানে বলা আছে শিশু শ্রমে নিযুক্তকারী কর্তৃপক্ষকে ৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড দেয়া হবে। সুধীজনরা বলছেন যদি প্রশাসন গেরেজ মালিকদের গিয়ে জরিমানা করে তাহলে আর গেরেজ মালিকরা এমন শিশু কিশোরদের গাড়ি দিবেনা।

 

 

এভাবে শিশু ও কিশোর ড্রাইভারদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সোহান সরকার যুগের চিন্তাকে জানান, আমরা এটা সম্পর্কে অবগত আছি। এমন শিশু ও কিশোর চালক গাড়ি নিয়ে শহরে প্রবেশ করলে তাদের আমরা আটকে দেই। তাদের নিয়ন্ত্রণ এ আমরা কাজ করছি।

 

 

এ বিষয় নিয়ে নারায়ণগঞ্জ শ্রম দপ্তর এর উপপরিচালক মহব্বত হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, ইজিবাইক চালনা করা এটা মুলত কোনো প্রতিষ্ঠান না। এটা যে কেউ করতে পারে ব্যাক্তিগতভাবে। সুতরাং এটা আমাদের ডিপার্টমেন্ট এর আয়ত্তের মধ্যে নেই। এটা কলকারানা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট বিষয়। তবে বিষয় টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।  

 

 

এই বিষয় টি জেলা প্রশাসক এর মিটিং এ উপস্থাপন করা হবে। এ ব্যাপারে আরও যোগাযোগ করা হয় কলাকারখানা অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক রাজিব চন্দ্র এর সাথে।  তিনি জানান, এটা বর্তমানে বিআরটিএ এর আওতাধীন। আমরা ইতিমধ্যেই এটা নিয়ে জেলা প্রশাসক এর সাথে মিটিং করেছি।

 

 

এ বিষয়ে বিআরটিএ এর সহকারী পরিচালক শামসুল কবির এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, ইজিবাইক এবং অটোরিকশার কোনো লাইসেন্স লাগেনা, চালকদের ও লাইসেন্স লাগে না। এতে করে তারা সহজেই গাড়ি নিয়ে বের হয়ে যায়। তবে আমরা সাম্প্রতিক সময়ে কাচপুরে ৩০ টির অধিক এমন চালকের গাড়ি আটক করেছি।  

 

 

আমাদের পরিকল্পনা আছে প্রতিটি গ্যারেজে গিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করার। এতে করে এমন চালকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাবে বলে আশা করি। তবে নারায়ণগঞ্জবাসী চায় নিরাপদ সড়ক। অপরিপক্ক চালকহীন সড়ক। তারা নিরাপদ এ বাড়ি ফিরতে চায় দিনশেষে।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন