মেধাবীদের ধরে ধরে হত্যা করা হচ্ছে, সুষ্ঠু বিচার চাই-ফারদিনের বাবা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০২২, ০৭:২৯ পিএম
# বুয়েটছাত্র পরশকে হত্যা করা হয়েছে: আরএমও ফরহাদ
# আমার সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে : ফারদিনের বাবা
# ফতুল্লার দেলপাড়ায় ফারদিনের দাফন সম্পন্ন
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ছাত্র ফারদিন নূর পরশের (২৪) মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তার মাথার বিভিন্ন অংশে ও বুকে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক শেখ ফরহাদ।
চিকিৎসক শেখ ফরহাদ সাংবাদিকদের বলেন, “নিহত ফারদিনের মাথার পুরো অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া তার বুকে আঘাতের চিহ্ন আছে। প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি, এটি হত্যাকাণ্ড। কারণ আঘাতের চিহ্নগুলো স্বাভাবিক না।”
এর আগে, নিখোঁজের তিন দিন পর সোমবার সন্ধ্যার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের বনানী ঘাট সংলগ্ন লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলের পেছন দিক থেকে ফারদিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় ফারদিন নূর পরশের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এখন পর্যন্ত তার এক বান্ধবীসহ বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, শুক্রবার রাতে নিখোঁজ হওয়ার আগে রাজধানীর রামপুরা এলাকায় তিনি তার এক বান্ধবীকে বাসায় যাওয়ার জন্য এগিয়ে দেন। এরপর থেকেই নিখোঁজ হন ফারদিন। ঘটনাটি পরিকল্পিত বলে ধারণা পরিবারের। তবে তিনি পরিকল্পিত হত্যাকান্ডের শিকার নাকি ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে নিহত হয়েছেন; সে বিষয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।
ছেলে হত্যার বিচারের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী ফারদিন নূর ওরফে পরশের বাবা নূরউদ্দিন রানা। মঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে বুয়েট ক্যাম্পাসে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ দাবি জানান। এ সময় নূরউদ্দিন বলেন, আমি আমার ছেলেকে ফিরে পাব না, আমি বিচারটা চাই।
কেন মনে হচ্ছে এটা হত্যাকাণ্ড জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার কাছে মানিব্যাগ, মোবাইল ফোন, ব্লুটুথ ছিল, হাতে ঘড়ি ছিল। কিছুই নেয়নি। সবকিছু পাওয়া গেছে। কে বা কারা হত্যা করেছে সে সম্পর্কে আমাদের ধারণা নেই। আমার শত্রু আছে বলে আমি মনে করি না। আমি কারও কোনও ক্ষতি করিনি।
আমি সাংবাদিকতা করেছি, এমন কোনও রিপোর্ট করিনি যাতে কেউ আহত হতে পারে। আমি ফিচার ম্যাগাজিন সম্পাদনা করতাম, ইতিবাচক চিন্তা করতাম। দেশের ইতিবাচক ব্যাপারগুলো উপস্থাপন করতাম।
ফারদিনের সঙ্গে কারও বৈরী সম্পর্ক ছিল- এমন তথ্য জানা আছে কি না প্রশ্ন করা হলে নূরউদ্দিন বলেন, ‘এ রকম কিছু নেই। এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়েছে। আমি দেখতে চাই ওর মুভমেন্ট। যেসব ভিডিও ফুটেজ আছে সেগুলো খুঁজে বের করা হোক। মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ে বের হয়ে আসবে কার কার সঙ্গে ফারদিনের যোগাযোগ ছিল। আমি কাউকে ইঙ্গিত করতে চাচ্ছি না; কেউ নেইও।'
ফারদিনের বাবা কাজী নূর উদ্দিন বলেন, ‘আমি আমার সন্তানকে ফিরে পাব না। বিচার হোক, এটি আমরা চাই। মেধাবীদের ধরে ধরে হত্যা করা হচ্ছে, এটা বন্ধ হোক।’
পড়াশোনায় মেধাবী ফারদিন এসএসসি ও এইচএসসিতে সব বিষয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়েছিলেন। গবেষণায় আগ্রহ ছিল তাঁর। ফারদিন নিজের ইচ্ছায় বুয়েটে ভর্তি হয়েছিলেন বলে জানান তাঁর বাবা নূর উদ্দিন।
তিনি বলেন, ‘আমরা ওরে (ফারদিন) স্বাধীনভাবে পড়াশোনা করতে দিয়েছি। যেহেতু আমি সাংবাদিকতায় যুক্ত ছিলাম, তাই খুব একটা সচ্ছল ছিলাম না। ফারদিন নিজে টিউশনি করত। নিজের পড়াশোনা, পড়ানো, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে আসা যাওয়া ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিল।’
উল্লেখ্য, ফারদিন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিবেটিং ক্লাবেরও যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের নয়ামাটি এলাকার কাজী নুর উদ্দিনের ছেলে। বসবাস করতেন ডেমরার কোনাপাড়া শান্তিবাগ এলাকায়। এন.এইচ/জেসি


