Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

রক্তাক্ত জনপদ চনপাড়া বস্তি: অভিযোগের তীর ডন বজলু’র দিকে

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৩ নভেম্বর ২০২২, ০২:২৫ পিএম

রক্তাক্ত জনপদ চনপাড়া বস্তি: অভিযোগের তীর ডন বজলু’র দিকে
Swapno


# এক দশকে ১৮ খুন, নেপথ্যে ডন বজলু

 

রাজধানীর অদূরে রূপগঞ্জের চনপাড়া বস্তি। অপরাধের স্বর্গভূমি চনপাড়া বস্তির ভয়ংকর সব অপরাধ কর্মকান্ডের কারণে দেশব্যাপী আলোচিত। এই বস্তিতে পুলিশের তালিকাভুক্ত অপরাধী রয়েছে ৮ হাজার। মাদক আর অস্ত্র ব্যবসার উন্মুক্ত হাট চনপাড়ার একক নিয়ন্ত্রন ডন বজলু।

 

 

তার প্রত্যক্ষ আর পরোক্ষ মদদে গত এক দশকে এখানে ঘটেছে ১৮টি হত্যাকান্ড। সবগুলো হত্যাকান্ডের ঘুরেফিরে এসেছে এই ভয়ংকর অপরাধীর নাম। যদিও তিনি জনপ্রতিনিধি হয়েও; অপরাধ জগতের চনপাড়ার মাফিয়া হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের সাথে কথা বলার পর তারা একই ব্যক্তির নাম জানান। আর তিনি হলেন বজলুর রহমান ওরফে ডন বজলু।


কে এই বজলু ?

চনপাড়া বস্তি শাখার আওয়ামী লীগ নেতা বজলুর রহমান। বস্তির এক সময়ের নৌকা চালক, নাদের বক্সের ছেলে একাধারে কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য। সম্প্রতি তাকে করা হয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। সূত্র বলছে ,১০ বছর আগেও একটি চালের দোকান ছিল তার। এর আগে ছিচকে চোর থেকে শুরু করে ছিলেন বাসের হেলপার।

 

 

পরে যোগ দেন মলম পার্টির সদস্য হিসেবে। ২০০০ সালের দিকে চনপাড়ার প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আবু তাহেরের চা আনার কাজ করতেন। তার হাত ধরেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততা। ২০০৪ সাল থেকে শুরু করেন নেতৃত্ব। সে সময় মাদক ব্যবসা আর পাশাপাশি ভাড়াটে মাস্তান হিসেবে কাজ করতেন।

 

 

সেনা শাসন আমলে গ্রেফতার হবার পর পদবী জুটে; ‘টুইন্ডা বজলু’ হিসেবে। পরে রূপগঞ্জের তৎকালীন এমপি সফিউল্লাহর বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল আর অনাস্থা দিয়ে হয়ে যান; বর্তমান সাংসদের আস্থাভাজন। এরপর থেকে বস্তিতে অপ্রতিরোধ্য এক নাম বজলু। তিনি চনপাড়া বস্তির রাজা।

 


এক দশকে ১৮ খুন

গত এক দশকে টানা বস্তির নিয়ন্ত্রক বজলু মেম্বার ওরফে ডন বজলু। এ সময়ে যারাই তার পথে এসেছে তারাই বিভিন্নভাবে হত্যার শিকার হয়েছে। এদের মধ্যে আলোচিত হত্যাকান্ড হচ্ছে, আওয়ামী লীগ নেতা চানমিয়া, ইউপি সদস্য বিউটি আক্তার কুট্টি  ও তার স্বামী হাসান মুহুরী, ফিরোজ সরকার, ফারুক মিয়া, পুলিশের এএসআই হানিফ মিয়া, ফালান মিয়া, আব্দুর রহমান, র‌্যাব সোর্স খোরশেদ মিয়া, প্রজন্মলীগ নেতা মনির হোসেন, আসলাম হোসেন, যুবলীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সজল, সামসু হত্যা।

 

 

এই সবগুলো খুনে রয়েছে বজলুর সরাসরি অথবা অদৃশ্য ইশারা। ঘুরেফিরে তারা ছিলেন বজলুর পথের কাটা। কৌশলে তাদের সরিয়ে দিয়েছেন সে। অনেক হত্যাকান্ডে দেন সরাসরি নেতৃত্ব। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ রূপগঞ্জ থানায় রয়েছে এক ডজন মামলা।
 

 

বজলুর যতো আয়ের উৎস:

চনপাড়া বস্তির পুরো মাদকের সিন্ডিকেট তিনি নিয়ন্ত্রণ করেন। কয়েক শ’ মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রতিমাসে মাসোহারা পান কোটি টাকা। এছাড়া অস্ত্র ব্যবসা, প্লট দখল, জিম্মি করে টাকা উদ্ধার, পানির ব্যবসা, প্রকেল্পর টাকা আত্মাসাত, ঠিকাদারি, চাদাবাজি, নৌকার ঘাট আর বাজার নিয়ন্ত্রন, পরিবহন নিয়ন্ত্রণ, সালিশি বৈঠকের ব্যবসা, পানির ব্যবসা থেকে শুরু করে সকল কাজ বৈধ অবৈধ কাজের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ করেন এই ডন বজলু।

 

 

এসব কাজের মাধ্যমে রাজধানীর ডেমড়ার হাজীনগর, টেংরা, বনশ্রী আর উত্তরায় গড়েছেন ৬টি বাড়ি। সোনারগাঁ ও রূপগঞ্জ থানায় রয়েছে অসংখ্য জমি, বস্তিতে ৮৪টি প্লট। সর্বদা চলাচল করেন, তিনজনসশস্ত্র দেহরক্ষী নিয়ে।

 

 

এসব ব্যাপারে বজলু মেম্বারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ মিথ্যা। রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় তার বিরুদ্ধে মামলাগুলো দেয়া হয়েছে। তিনি কোন অপরাধের সাথে জড়িত না। তার দাবী তিনি ঠিকাদারি ব্যবসার মাধ্যমে এসব সম্পদ অর্জন করেছেন।”

 

 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অপরাধ আমির খসরু বলেন, “যাচাই-বাছাই না করে আমরা এগুলো নিয়ে কোন মন্তব্য করবো না। আমি আগে যাচাই-বাছাই করে তার পর মন্তব্য করবো।” এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন