Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

পলাশের নাম ভাঙিয়ে!! গডফাদার আজিজুল এর চাঁদাবাজি; রয়েছে টর্চার সেল

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৩ নভেম্বর ২০২২, ০৩:৪২ পিএম

পলাশের নাম ভাঙিয়ে!! গডফাদার আজিজুল এর চাঁদাবাজি; রয়েছে টর্চার সেল
Swapno


# ফতুল্লায় অটো চালাতে হলে দিতে হবে চাঁদা

# টর্চার সেলের বিষয়টি এখানে ওপেন সিক্রেট: দাবী এলাকাবাসীর

# তারা আমার অফিসে এসে  চাঁদা দিয়ে যায়: আজিজুল

# চাঁদাবাজির অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে : ওসি


পুরো জেলায় চিহ্নিত চাঁদাবাজ হিসেবে ফতুল্লার আজিজুলের কুখ্যাতি রয়েছে। চাঁদাবাজির কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে বারবার গ্রেফতার হন আজিজুল। জামিনে মুক্তি হয়ে আবার নেমে পড়েন চাঁদাবাজিতে। চাঁদাবাজিতে সিদ্ধহস্ত আজিজুলের গ্রেফতার আতঙ্ক কেটে গেছে বহুকাল আগে।

 

 

পরিস্থিতি এমন অবস্থায় গিয়ে পৌঁছেছে আজিজুল এখন চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের গডফাদার হিসেবে পরিণত হয়েছে। চাঁদাবাজদের ওই সিন্ডিকেট এখন চাঁদাবাজির পাশাপাশি ফতুল্লার গোটা এলাকায় নানা কুকর্মের সাথে যুক্ত হয়ে পড়েছে। চারিদিক থেকে চাঁদার টাকায়; এক কথায় উড়ছে আজিজুল ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা।

 

 

স্থানীয়দের মতে, চাঁদাবাজ আজিজুল এই বেপরোয়া উত্থানের পেছনে শ্রমিক লীগ কাউছার আহম্মেদ পলাশের নাম বিক্রি করে। তার নাম বিক্রি করেই আজিজুল ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা গোটা এলাকায় চাঁদাবাজদের আখড়া তৈরি করেছে বলে মনে করেন; সেখানকার স্থানীয়রা।

 

 

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী শ্রমিক লীগ নেতা কাউছার আহম্মেদ পলাশের নাম বিক্রি করে বছরের পর বছর আজিজুল ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা চাঁদা আদায়ের বিষয়টি গণমাধ্যমে নানা সময় উঠে আসলেও অজ্ঞাত কারণে এই ব্যাপারে কোন ভ্রুক্ষেপ করেননি কাউছার আহম্মেদ পলাশ।

 

 

আর তাতেই আসকারা পেয়ে বাজিমাত করেছে চিহ্নিত চাঁদাবাজ আজিজুল ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। প্রশাসনও এব্যাপারে ব্যাপক বিরক্তি প্রকাশ করেছে নানা সময়। অনেকে প্রশ্ন রাখছেন, তাহলে কি আজিজুল ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের চাঁদাবাজির পেছনে কি সত্যিই শ্রমিক লীগ নেতা পলাশের কোন ইন্ধন আছে!

 

 

সূত্র বলছে, ফতুল্লায় এক সময় পাগলা থেকে পঞ্চবটি অটো চালানো সেই আজিজুল এখন সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে কিভাবে এতো অল্প সময়ে এতো টাকার মালিক হলেন একজন অটো চালক।

 

 

জানা যায়, এই অটো চালক আজিজুল বিভিন্ন গ্যারেজের অটো চালকদের নিয়ে ফতুল্লায় একটি সংগঠন গড়ে তোলে। আর এই সংগঠনটি প্রত্যেকটি পাড়া মহল্লায় যে সকল অটো চালক রয়েছে তাদেরকে নির্দেশনা দেন; এই ফতুল্লায় অটো চালাতে হলে প্রতিদিন ৩০ টাকা ও মাসে ৩০০ টাকা চাঁদা দিতে হবে।

 

 

তার এই নির্দেশ কিছু কিছু অটো চালক মেনে নিলেও; বেশির ভাগ অটো চালকরা তার এই কথার বিরোধ জানালেও কোন লাভ হয়নি।যে সকল অটো চালকরা তার কথা মানেনি; সেই সকল অটো চালকদের গাড়ির সিট নিয়ে যাওয়া হতো। কোন দিক ও উপায় না পেয়ে বর্তমানে বাধ্য হয়ে দৈনিক আজিজুলকে চাঁদা দেয় অটো চালকরা।

 

 

শুধু তাই নয় এই ফতুল্লায় মধ্যে অটো চালাতে হলে আগে ৩০০০ থেকে ৫০০০ টাকা দিয়ে চাঁদাবাজির তকমা ঢাকতে; কথিত রুট পারমিটের জন্য চাঁদাবাজ আজিজুলের কাছ থেকে প্লেট নিতে হবে। আর যে এই অটোর প্লেট নিতে পারবেনা সে এই ফতুল্লায় অটো চালাতে পারবে না।

 

 

তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই তাকে চাঁদা দিয়ে এই রোডে অটো চালাতে হচ্ছে। আর এই সকল অটোচালকরা চাঁদাবাজ আজিজুলের কাছে এক প্রকার জিম্মি বলেই চলে।

 

 

এই পরিবহন চাঁদাবাজ বরিশাইল্লাহ আজিজুল দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। কোন ভাবেই থামানো যাচ্ছেনা এই চিহ্নিত চাঁদাবাজ আজিজুলকে। চাঁদাবাজি করার কারণে বেশ কয়েকবার আজিজুল পুলিশের কাছে গ্রেফতারও হন। তবে গ্রেফতার হলেও চাঁদাবাজদের গডফাদার হয়ে যাওয়ায় তার সাঙ্গপাঙ্গরা শ্রমিক লীগ নেতা পলাশের নাম ব্যবহার করেই চাঁদাবাজি অব্যাহত রাখে।

 

 

সর্বশেষ গত বছরের ৫ অক্টোবর র‌্যাব ১১ হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন। কিন্ত কে শোনে কার কথা বারবার জেল খাটার পরেও এখনো বদলায়নি এই চাদাঁবাজ আজিজুল। একে একে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমলেও; সেটা নিয়ে তার নেই কোন ভাবনা। তার শুধুৃ একটাই লক্ষ্যে কিভাবে চাঁদাবাজি করে অবৈধ সম্পদের মালিক হওয়া।

 

 

শুধু চাঁদা নিয়েই থেমে থাকেননি এই চাঁদাবাজ বিভিন্ন সময় তার রিরুদ্ধে যাওয়া অটোচালকদের ওপর নির্যাতন চালান। এমনকি জানা গেছে চালকদের নির্যাতন করার জন্য তার রয়েছে টর্চার সেল। এসব কিছু সব ওপেন সিক্রেট হলেও শ্রমিক লীগ নেতা পলাশের নাম বিক্রি করায় বিষয়টি অনেকে চেপে যান।

 

 

নাম প্রকাশে আনিচ্ছুক এক অটো চালক জানান, শুন্য পকেটে বরিশাল থেকে এসে ফতুল্লায় অটো চালানো শুরু করলেও; এখন শুনছি অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন এই আজিজ। আর এই সব টাকাই এসেছে তার চাঁদাবাজি করে বলা চলে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ।

 

 

আমরা সাধারণ পরিবহন চালকরা তার কাছে জিম্মি হয়ে রয়েছি। আমরা চাই এই সকল চাঁদাবাজদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক; যাতে করে আর কখনোই চাঁদাবাজি করতে সাহস না পায়।

 

 

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেল অটোর এই চাঁদা নেওয়ার জন্য ২ জন লাইনম্যান রাখা হয়েছে যারা প্রতিদিন প্রতিটি গাড়ি থেকে ৩০ টাকা আদায় করে। আর প্রতি মাসে ৩০০ টাকা দেওয়ার প্রতিটি গাড়ির মালিকের নাম্বার দেওয়া থাকে তাদের কাছে আজিজুলের অফিসে গিয়ে মাসের ১০ তারিখের মধ্যে এই টাকা পরিশোধ করতে হয়।

 

 

এই চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে আজিজুলের সাথে যোগযোগ করা হলে তিনি জানান, “অটো রিকসা থেকে আমি যদি রাস্তায় দাঁড়িয়ে কোন রকম টাকা তুলি, কারো কাছ থেকে জোর পূর্বক চাঁদা তুলি তাহলে সেটা হলো চাঁদা। আমাদের নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা রিকশা চালক ইউনিয়ন রেজিঃ নং ঢাকা ৩৭৩২ এইটার গঠনতন্ত্র আছে।”

 

 

তিনি এই প্রতিবেদককে আরো বলেন, ‘এইডায়’ (গঠনতন্ত্রে)  উল্লেখ আছে আমরা সদস্যদের কাছ থেকে, মাসে কত টাকা চাঁদা তুলতে পারবো। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যারা আমাদের সদস্য; আমরা শুধু তাদের কাছ থেকেই চাঁদা তুলি। তারা আমার অফিসে আইসা চাঁদা দিয়া যায়। আর এ সকল কিছুই ‘হেইডার’ (গঠনতন্ত্র) মতো হয়। আর সেটা বছর বছর রিনিউ হয়, নির্বাচন হয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, সংগঠন চালাই।”

 

 

এ বিষয়ে ফতুল্লা থানা অফিসার ইনচার্জ রিজাউল হক দিপু জানান, “যেহেতু আপনারা তথ্য দিয়েছেন তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির কোন অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে; আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সহকারে দেখবো।” এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন