ফারদিন হত্যার পর মরদেহ সরানো হয় প্রাইভেট কারে
নিউজ বাংলা
প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০২২, ০৭:৩০ পিএম
বুয়েট ছাত্র ফারদিন নূর পরশকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্স সন্দেহে রূপগঞ্জের চনপাড়া বস্তি এলাকায় পিটিয়ে হত্যা করেন মাদক কারবারিরা। গত ৪ নভেম্বর গভীর রাতে এ ঘটনার পর একটি প্রাইভেটকারে করে তার মরদেহ সরিয়ে নিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেয়া হয়। ফারদিন হত্যা মামলার তদন্তে যুক্ত একটি বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মরদেহ সরিয়ে নেয়ার কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটি সনাক্ত হয়েছে সিসিটিভি ফুটেজে। ঘটনাস্থলের বেশ কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ নিউজ বাংলার কাছেও এসেছে। সেগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে ঘটনার আগে-পরে চনপাড়া বস্তি ঘিরে অস্বাভাবিক তৎপর ছিলেন মাদক কারবারিরা।
বুয়েট ছাত্র ফারদিন নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর ৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। বর্তমানে হত্যা মামলাটির তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পাশপাশি র্যাবসহ আরও কয়েকটি সংস্থা ছায়াতদন্ত করছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন, ৪ নভেম্বর গভীর রাতে ফারদিনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক অনুযায়ী তার সবশেষ অবস্থান সনাক্ত হয় রূপগঞ্জের চনপাড়া বস্তি এলাকায়।
চনপাড়া বস্তি এলাকা পুরোটাই মাদক বিক্রির এলাকা হিসেবে পরিচিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, ফারদিনকে চনপাড়া বস্তি এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় হত্যা করা হয়। এরপর একটি প্রাইভেটকারে তুলে তার মরদেহ শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেন মাদক কারবারিরা। ৪ নভেম্বর রাত পৌনে ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যে ফারদিনকে হত্যার ঘটনা ঘটে।
সে সময়ে ওই এলাকার কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পাওয়া গেছে। এতে ঘটনায় জড়িত একাধিক ব্যক্তি ও মরদেহ সরিয়ে নিতে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার দেখা গেছে। এরই মধ্যে ঘটনায় জড়িত স্থানীয় দুই মাদক ব্যবসায়ীকে হেফাজতে নিয়েছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর আলাদা দুটি ইউনিট। জব্দ করা হয়েছে প্রাইভেটকারটিও।
সিসিটিভি ফুটেজে মাদক কারবারিদের তৎপরতা দৃশ্যমান আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ফারদিনের মোবাইল ফোনের শেষ লোকেশন সনাক্ত করে চনপাড়া এলাকায়। এরপর ফোন নম্বরের সিডিআর বিশ্লেষণ করে বস্তির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আলোর জ্যোতি নামের ফার্নিচারের দোকান ও তার পাশের একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার গ্যারেজের মধ্যবর্তী অংশ চিহ্নিত করা হয়।
সেখানেই রাত ২টা ৩৫ মিনিটে ফারদীনের মোবাইলটি সবশেষ চালু ছিল। নিউজ বাংলার হাতে আসা সেই রাতের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চনপাড়া বস্তি এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওই নির্দিষ্ট জায়গাটি ঘিরে রাত দেড়টার দিক থেকে পরবর্তী ২ ঘণ্টা স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের অস্বাভাবিক তৎপরতা ছিল।
রাত ১টা ২৮ মিনিটে স্থানীয় ৬ যুবক ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গলি থেকে বেরিয়ে চনপাড়া-রূপগঞ্জ মূল সড়কে উঠে হাতের বামে মোড় নিয়ে ১ নম্বর ওয়ার্ডের দিকে চলে যান। এর ঠিক ২৩ মিনিট পর ১টা ৫১ মিনিটে তারা আবাব ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দিকে ফিরে আসেন। এরপর রাত ২টা ২৩ মিনিটে দ্রুত পায়ে ৪ জন যুবক বালু ব্রিজ এলাকা থেকে ৬ নম্বর ওয়ার্ডে আসেন।
তারা স্থানীয় একটি মাদ্রাসা মাঠে অপেক্ষায় থাকা একজনের সঙ্গে উদ্বিগ্ন ভঙ্গিতে কথা শুরু করে। তাদের অভিব্যক্তিতে পরিষ্কার কোনো ঘটনার খবর পেয়ে তারা তাৎক্ষণিক ছুটে এসেছেন। এর পরবর্তী ২০ মিনিটে একাধিক যুবক ঘটনাস্থলের দিকে যান। রাত ২টা ৪৪ মিনিটে দুই যুবক গলির মুখে এসে অনেকটা পাহারা দেয়ার মতো করে পায়চারি করতে থাকেন।
ঠিক ২টা ৫২ মিনিটে বালু ব্রিজ এলাকা থেকে দ্রুতগতির একটি সাদা রংয়ের টয়োটা এক্সিও গাড়ি এসে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ঘটনাস্থল দিকে যায়। একই সঙ্গে গলির মুখে পাহারা দেয়া দুই যুবক গলি থেকে বেরিয়ে যান। এর ঠিক ১১ মিনিট পর দ্রুত গতিতে সাদা প্রাইভেটকারটি ৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে বেরিয়ে যেদিক থেকে এসেছিল ঠিক সেদিকেই অর্থাৎ বালু ব্রিজের দিকে চলে যায়।
গাড়িটির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গলি অতিক্রমের সময় স্থানীয় যুবকদের দুই জন গাড়ির দুই পাশ দিয়ে পায়ে হেঁটে গাড়িটিকে গলি পার করে দেন। সিসিটিভি ফুটেজে প্রাইভেটকারটি ঢোকার সময় তাতে চালক ছাড়া আর কাউকে দেখা না গেলেও বের হওয়ার সময় পিছনের আসনে আরোহী দেখা গেছে।
ফারদিনের সবশেষ অবস্থানের ফুটেজ কেন নেই ফারদিন হত্যা রহস্য তদন্তে নেমে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর একাধিক ইউনিট শুরুতে প্রযুক্তিগত তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করে। তারা ফারদিনের মোবাইল ফোনের লোকেশন ধরে চনপাড়া বস্তির ৬ নম্বর ওয়ার্ডকে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়।
তবে ওই এলাকায় একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও সেগুলোর কোনটিতে মূল ঘটনাস্থলের (হত্যাকাণ্ডের স্থান হিসেবে ধারণা করা জায়গা) কোনো ছবি ধরা পড়েনি। এর কারণ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা ও স্থানীয়রা বলছেন, স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী রাশেদুল ইসলাম শাহিন বা সিটি শাহিন গ্রুপের সঙ্গে র্যাব সদস্যদের সংঘর্ষ হয়। এরপর থেকে মাদক ব্যবসায়ীরা এলাকার সব দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরার মুখ রাস্তার দিক থেকে ঘুরিয়ে দেন।
গুরুত্বপূর্ণ কিছু জায়গার ক্যামেরা ভাংচুরও করে। এর মধ্যে অন্যতম এই ৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকাটি। সিটি শাহিনের বাড়িও এই ওয়ার্ডে। সিটি শাহিন গত ১১ নভেম্বর গোলাগুলিতে নিহত হন। র্যাবের দাবি, মাদক কারবারিদের মধ্যে গোলাগুলিই তার মৃত্যুর কারন। ফারদিনের মোবাইল ফোনের সবশেষ লোকেশন পাওয়া গেছে সিটি শাহিনের বাসার গলি থেকে কিছুটা উত্তর দিকে অফিস ঘাট অভিমুখে। সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা গুলোর মুখ রাস্তা থেকে উল্টো দিকে ঘোরানো থাকায় সেখান থেকে ফারদিনের উপস্থিতির কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, সিসি টিভি ফুটেজ পাওয়া না গেলেও ওই এলাকার সোর্সের পাশাপাশি স্থানীয় এক বয়স্ক প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘটনার দিন দায়িত্বরত এক নৈশপ্রহরীর কাছ থেকে সে রাতের ঘটনা প্রবাহ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পায় তদন্তকারী একটি বাহিনী। ওই বাহিনীর দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা বলেন, চনপাড়া ৬ নম্বর ওয়ার্ডের যে জায়গায় ফারদিনের মোবাইল লোকেশন পাওয়া গেছে তার ঠিক বিপরীত পাশেই পূর্ব দিকে ৪ নম্বর ওয়ার্ড। সেখানে মাদক ব্যবসা চালান ময়না নামের প্রভাবশালী এক নারী।
বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা মাদকসেবীরা তার ঘরে বসে মাদক সেবন করেন। ওই রাতে আনুমানিক ২টার দিকে ফেনসিডিল খেয়ে টাকা কম দিতে চাওয়া এক যুবকের সঙ্গে ময়নার লোকজনের বিবাদ হয়। একপর্যায়ে পাশের তিনতলা ভবন মালিক স্থানীয় প্রভাবশালী আরেক মাদক কারবারি রায়হান ও তার অনুসারীও ওই যুবকের উপর চড়াও হন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন র্যাবের একজন কর্মকর্তা বলেন, ’আমরা ঘটনাটির ছায়াতদন্ত করতে গিয়ে ঘটনাস্থলের ফারদীনের উপস্থিতির সিসিটিভি ফুটেজ এখনও পাইনি। কারণ কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা ঘটনাস্থল কাভার করে না। সব ক্যামেরার মুখ আগে থেকেই উল্টোদিকে ঘুরানো। ‘তবে যেহেতু ফারদিনের মোবাইলটি তার কাছেই পাওয়া গেছে আর মোবাইল নেটওয়ার্কের সবশেষ লোকেশন ওখানকার, তাই আমরা নিশ্চিত ফারদিন যেভাবেই হোক সেখানে অবশ্যই গিয়েছিলেন।
তিনি কোনো মোটর সাইকেলে চড়ে আসেননি। তেমনটা হলে প্রধান সড়কের ক্যামেরায় তার আসার দৃশ্যটি ধরা পড়ত। হয়তো কোনো অটোরিক্সায় করে এসেছিলেন, তাই তার আসার দৃশ্য ধরা পড়েনি।’ ফারদিনকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সোর্স সন্দেহে হত্যা ফারদিন হত্যার ঘটনাস্থল হিসেবে দাবি করা চনপাড়া ৬ নম্বর ওয়ার্ডের এলাকাটি ঘুরে দেখার পাশাপাশি স্থানীয় বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছে নিউজবাংলা। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফারদিনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্স হিসেবে সন্দেহ করেছিলেন ওই এলাকার মাদক কারবারিরা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নারী মাদক কারবারি ময়নার বাসায় যাওয়া ফারদিনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্স হিসেবে সন্দেহ করেন স্থানীয় মাদক কারবারি রায়হান আহমেদের অনুসারীরা। রায়হানের বাসা ও মাদক স্পট ময়নার বাসার ঠিক পাশেই। সিসিটিভি ফুটেজে রাত ১টা ২৮ মিনিটে ৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে বেরিয়ে ২৩ মিনিট পর আবার ফিরে আসা ৬ যুবকই রায়হানের অনুসারী। তারা ফারদিনকে বেদম পিটিয়ে হত্যা করেন। ফারদিন নিথর হয়ে গেলে রায়হানের ফোন পেয়ে ২টা ২৩ মিনিটে দ্রুত পায়ে ৪ যুবক বালু ব্রিজ এলাকা থেকে ৬ নম্বর ওয়ার্ডে আসেন।
তারা মাদ্রাসার গেটে অপেক্ষমান একজনের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানতে চান। রায়হানের পারিবারিক আত্মীয় হলেন একই এলাকার অপর শীর্ষ মাদক কারবারি ফাহাদ আহমেদ শাওন। ঘটনার পর শাওন তার দুই মাস আগে কেনা টয়োটা এক্সিও গাড়িটি নিয়ে সেখানে আসেন। এরপর ফারদিনের মরদেহ গাড়ির ট্রাঙ্কে তুলে ৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে বেরিয়ে যান শাওন ও তার সহযোগীরা। সিসিটিভিতে ধরা পড়া প্রাইভেটকারটি শাওনের বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি। তারা জানান, দুই মাস আগে কেনা গাড়িটি শাওন নিজেই চালাতেন।
সোর্স সন্দেহে ফারদিনকে পিটিয়ে মারার বিষটি নিশ্চিত করেছে স্থানীয় একাধিক সূত্র। সাবেক একজন ইউপি মেম্বার বলেন, ‘চনপাড়া বস্তির পুরোটাই মাদকের সাম্রাজ্য। এখানে ৬৪টি মাদকের স্পট রয়েছে। এগুলোর অধিকাংশ নিয়ন্ত্রণ করতেন সম্প্রতি র্যাবের অভিযানের সময় গোলাগুলিতে নিহত রাশেদুল ইসলাম শাহিন ওরফে সিটি শাহিন।
রায়হান, শাওন ছিলেন শাহিনের আস্থাভাজন বন্ধু। শাহিনকে গ্রেপ্তারে গত কয়েক মাসে একাধিক অভিযান চালায় র্যাব। তবে অনুসারীদের হামলার কারণে এসব অভিযান ব্যর্থ হয়। সাবেক ওই জনপ্রতিনিধি বলেন, ‘সবশেষ গত ২৭ সেপ্টেম্বর র্যাব শাহিনকে ধরতে গেলে অল্পের জন্য তিনি হাত ফসকে যান।
এরপর শাহিন ও তার সহযোগীরা এলাকায় নিজেদের মতো করে পাহারা জোরদার করে।‘মাদক কারবারিরা বিশেষ করে রাতে দলে দলে ভাগ হয়ে টহল দিতে শুরু করে। ঘটনার রাতে ময়নার বাড়িতে আসা যুবক মাদকের দাম নিয়ে তর্কে জড়ানোয় তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্স হিসেবে সন্দেহ করে মাদক কারবারিরা।’
স্থানীয় কয়েকজন পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জানান, সোর্স সন্দেহে পিটিয়ে মারার কারণেই ফারদিনের মোবাইল, মানিব্যাগ কিছুই ছিনিয়ে নেয়া হয়নি। মাদক কারবারিরা ভেবেছিলেন এগুলো রেখে দিলে পরে বিপদ হতে পারে। আর সোর্স হিসেবে বিবেচনা করার কারণেই মরদেহ সরাসরি এলাকার পাশের নদীতে না ফেলে প্রাইভেটকারে করে বেশ কিছুটা দূরে নিয়ে ফেলে দেয়া হয়।
ঘটনার পর হত্যাকারীরা ও নারী মাদক কারবারি ময়না এলাকাতেই ছিলেন। তবে গত শুক্রবার শাহিন বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার পর তারা সবাই পালিয়ে যান। তবে বরিশাল থেকে রায়হানকে এবং রাজধানীর গুলিস্তান থেকে ওই প্রাইভেটকারসহ শাওনকে গ্রেপ্তার করেছে আলাদা দুটি আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।
ফারদিন হত্যা মামলার সার্বিক তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে র্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মশিউর রহমান বলেন, ‘এটা একেবারেই ক্লুলেস একটা ঘটনা। অনেক প্রশ্নের উত্তরই মিলছে না। ফারদিনের মোবাইল ফোনের লাস্ট লোকেশন থেকে বডি পাওয়া গেছে বেশ দূরে। সেখানে কীভাবে গেল তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি সবকিছুই খুব সূক্ষ্মভাবে আমরা তদন্ত করছি।
আমরা খুব চেষ্টা করছি ফারদিনের লাস্ট লোকেশনে উপস্থিতি কীভাবে হলো সেটা জানার। কারণ আমরা রামপুরার থেকে ওর কেরাণীগঞ্জ, যাত্রাবাড়ী, তারপর চনপাড়া যাওয়ার ফুটপ্রিন্ট পেয়েছি। এতগুলো জায়গা সে কেন ঘুরল এটা জানাটা জরুরি। আমরা কাজ করছি। আশা করি সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে।
ডিবি মতিঝিল বিভাগে উপ কমিশনার রাজিব আল মাসুদ বলেন, ‘অনেকগুলো বিষয় সামনে রেখে আমাদের তদন্ত চলছে। আমরা সম্ভাব্য সব বিষয় মাথায় রেখেই তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। এখনও মন্তব্য করার মতো কোনো কিছু সামনে আসেনি।’


