আজিজুলের শেল্টারদাতার খোঁজখবর নেবে প্রশাসন
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০২২, ০৭:৫৪ পিএম
# চাঁদাবাজিতে জরিত থাকলে আইনের আওতায় আনা হবে: এড.এসপি
# বাঁচতে নতুন কৌশল খুঁজছে এই চাঁদাবাজ
ফতুল্লার চিহ্নিত চাঁদাবাজ আজিজুলের বিরুদ্ধে অভিযোগের কমতি নেই।তার এই চাঁদাবাজি নিয়ে নিউজ হওয়ার পর থেকেই প্রশাসন তার ব্যাপারে খোঁজ খবরে তৎপর অবস্থায় রয়েছে। আর এই চিহ্নিত চাঁদাবাজ আজিজুল পুলিশের হাত থেকে বাচতে নতুন কৌশল শুরু করেছে যাতে করে যে গ্রেফতার থেকে এড়াতে পারে।
এমনকি তার সিনিয়র নেতাদের কাছে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছে এই চাঁদাবাজ এক সূত্রে জানা যায় ,নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এক সময় পাগলা থেকে পঞ্চবটি অটো চালানো সেই আজিজুল এখন সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে কিভাবে এতো টাকার মালিক হলেন এই অটো চালক ।জানা যায়, বাংলাদেশ শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক কাওছার আহমেদ পলাশের নাম ভাঙিয়ে বছরের পর বছর চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে এই চিহ্নিত চাঁদাবাজ।
এক সূত্রে জানা যায়, এই অটো চালক আজিজুল বিভিন্ন গ্যারেজের অটো চালকদের নিয়ে ফতুল্লায় একটি সংগঠন গড়ে তোলে। আর এই সংগঠনটি প্রত্যেকটি পাড়া মহল্লায় যে সকল অটো চালক রয়েছে তাদেরকে নির্দেশনা দেন এই ফতুল্লায় অটো চালাতে হলে প্রতিদিন ৩০ টাকা ও মাসে ৩০০ টাকা চাঁদা দিতে হবে।
তার এই কথা কিছু কিছু অটো চালক মেনে নিলেও বেশির ভাগ অটো চালকরা তার এই কথার বিরোধ জানালেও কোন লাভ হয়নি। যে সকল অটো চালকরা তার কথা মানেনি সেই সকল অটো চালকদের গাড়ির সিট নিয়ে যাওয়া হতো কোন দিক না পেয়ে তার কথা মেনে নিয়ে দৈনিক আজিজুলকে চাঁদা দিতো অটো চালকরা।
শুধু তাই নয় এই ফতুল্লায় মধ্যে অটো চালাতে হলে আগে ৩০০০ থেকে ৫০০০ টাকা দিয়ে রোড পারমিডের জন্য চাঁদাবাজ আজিজুলের কাছ থেকে প্লেট নিতে হবে।আর যে এই অটোর প্লেট নিতে পারবেনা সে এই ফতুল্লায় অটো চালাতে পারবে না। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই তাকে চাঁদা দিয়ে এই রোডে অটো চালাতে হতো।আর এই সকল অটো চালকরা চাঁদাবাজ আজিজুলের কাছে এক প্রকার জিম্মি বলেই চলে।
এই পরিবহন চাদাঁবাজ বরিশাইল্লাহ আজিজুল দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।কোন ভাবেই থামানো যাচ্ছেনা এই চিহ্নিত চাঁদাবাজ আজিজুলকে।চাঁদাবাজী করার কারনে বেশ কয়েকবার আজিজুল পুলিশের কাছে গ্রেফতারও হন।সর্বশেষ গত বছরের ৫ অক্টোবর র্যাব ১১ হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন কিন্ত কে শোনে কার কথা বারবার জেল খাটার পরেও এখনো বদলায়নি এই চাদাঁবাজ আজিজুল।
একে একে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় সমান হলেও সেটা নিয়ে তার নেই কোন ভাবনা। তার শুধুৃ একটাই লক্ষ্যে কিভাবে চাঁদাবাজি করে অবৈধ সম্পদের মালিক হওয়া। শুধু চাঁদা নিয়েই থেমে থাকেননি এই চাঁদাবাজ বিভিন্ন সময় তার রিরুদ্ধে যাওয়া অটোচালকদের ওপর চলে তার নির্যাতন । এমনকি জানা গেছে চালকদের নির্যাতন করার জন্য তার রয়েছে টর্চার সেল।
নাম প্রকাশে আনিচ্ছুক এক অটো চালক জানান,শুন্য পকেটে বরিশাল থেকে এসে ফতুল্লায় অটো চালানো শুরু করলেও এখন শুনছি অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন এই আজিজ।আর এই সব টাকাই এসেছে তার চাঁদাবাজি করে বলা চলে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ।আমরা সাধারন পরিবহন চালকরা তার কাছে জিম্মি হয়ে রয়েছি।আমরা চাই এই সকল চাঁদাবাজদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক যাতে করে আর কখনোই চাঁদাবাজি করতে সাহস না পায়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেল অটোর এই চাঁদা নেওয়ার জন্য ২ জন লাইনম্যান রাখা হয়েছে যারা প্রতিদিন প্রতিটি গাড়ি থেকে ৩০ টাকা আদায় করে।আর প্রতি মাসে ৩০০ টাকা দেওয়ার প্রতিটি গাড়ির মালিকের নাম্বার দেওয়া থাকে তাদের কাছে আজিজুলের অফিসে গিয়ে মাসের ১০ তারিখের মধ্যে এই টাকা পরিশোধ করতে হয়।
এর আগে চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে আজিজুলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অটো রিকশা থেকে আমি যদি রাস্তায় দাড়িয়ে কোন রকম টাকা তুলি ,কারো কাছ থেকে জোর পূর্বক চাঁদা তুলি তাহলে সেটা হলো চাঁদা।
আমাদের নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা রিকসা চালক ইউনিয়ন রেজিঃনং ঢাকা ৩৭৩২ এইটার গঠনতন্ত্র আছে আর এর গঠনতন্ত্রে উল্লেখ আছে আমরা সদস্য থেকে মাসে কত টাকা চাঁদা তুলতে পারবো গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যারা আমাদের সদস্য আমরা শুধু তাদের কাছ থেকেই চাঁদা তুলি তারা আমার অফিসে আইসা চাঁদা দিয়া যায় আর এ সকল কিছুই গঠনতন্ত্র হয় আর সেটা বছর বছর রিনিউ হয়, নির্বাচন হয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সংগঠন চালাই।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক) সার্কেল নাজমুল হাসান জানান, তার বিরুদ্ধে যদি চাঁদাবাজির কোন অভিযোগ থাকে তাহলে আমি সেটা গুরুত্বের সহকারে দেখছি। যদি সে চাঁদাবাজির সাথে জঢ়িত থাকে অবশ্যই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
এ বিষয়ে ফতুল্লা থানা অফিসার ইনচার্জ রিজাউল হক দিপু জানান, যেহতেু আপনারা তথ্য দিয়েছেন তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির কোন অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সহকারে দেখবো।


