Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

খুনের সাথে অপরাধের হিড়িক

Icon

রাকিবুল ইসলাম

প্রকাশ: ১৫ নভেম্বর ২০২২, ০৬:০৩ পিএম

খুনের সাথে অপরাধের হিড়িক
Swapno


# প্রশাসনের ব্যর্থতাকে দায়ী করছে নগরবাসী
# অপরাধীদের সাথে ঊর্ধ্বতনদের যোগসাজস রয়েছে: রফিউর রাব্বি


অস্বীকার করা যাবে না সারা দেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জে হত্যাসহ নানা অপরাধ বেড়েছে। সামান্য দ্বন্দ্বে কিংবা তুচ্ছ স্বার্থে মানুষ খুনের মতো অপরাধ করতে পিছ পা হচ্ছে না। এছাড়া হত্যাসহ অপরাধের নেপথ্যে রয়েছে পরকীয়া, দাম্পত্য কলহ, প্রেমে ব্যর্থতা, জমি ও সম্পদ দখলসহ বিভিন্ন অপরাধে এক পক্ষ আরেক পক্ষকে খুন করছে।

 

 

সেই সাথে ধর্ষণ, গণধর্ষণ বেড়েছে, শিশুও রেহাই পাচ্ছে না, ধর্ষণের পরে খুনও বেড়েছে। পাশা পাশি ছিনতাইয়ের ঘটনাও পিছিয়ে নেই। আবার এলাকাভিত্তিক ক্ষমতাধর ব্যক্তির উত্থান ঘটেছে, যারা এলাকার দখল ও সর্বময় ক্ষক্ষমতা ধরে রাখার জন্য খুন-জখম আধিপত্যসহ সব ধরণের অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে।

 

 

এরা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে হাতে রেখে বিচারের পথও রুদ্ধ করে রাখে বলে অভিযোগ রয়েছে। এভাবে একদিকে ভুক্তভোগীদের মনে ক্ষোভ জমে থাকায় সুযোগ পেলে তারা রক্তের বদলে রক্ত, খুনের বদলে খুন নীতিতেই প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে।

 

 

তার সাথে বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে সমাজে প্রতিহিংসার মনোভাব বাড়ছে। সমাজ থেকে কেবলই দাবি উঠছে কঠোর আইনের এবং অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তির। কিন্তু এটিই তো অপরাধ হ্রাসের একমাত্র পথ নয়। আইনজ্ঞরা বলেন, বেশির ভাগ অপরাধের বিচারে প্রচলিত আইনই পর্যাপ্ত।

 

 

এদিকে বিষেশকদের মতে অপরাধ, অপরাধপ্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার জন্যই কি একমাত্র পথ? মানুষ যদি এই প্রবণতায় আটকে যায়, তবে সমাজে ঘৃণা-বিদ্বেষ-প্রতিহিংসার চর্চা বাড়বে? আমরা সমাজে তেমন আলামতই দেখছি। কিন্তু ঘৃণা বা বিদ্বেষ কিংবা প্রতিহিংসার পথে কোনো সমাজের পক্ষে সত্যিকারের মহান জাতি গঠন সম্ভব নয়।

 

 


অপরদিকে নারায়ণগঞ্জে গত ১৫ দিনে ১০ থেকে ১১ টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে।  সেই সাথে নারায়ণগঞ্জে বেড়েই চলছে অপ্রত্যাশিত লাশের সংখ্যা। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে খুন ও সড়ক দুর্ঘটনা। শুধু কিশোর-কিশোরী নয়, নব বিবাহিত তরুন তরুণীদের মধ্যেও বেড়েছে আত্মহত্যার প্রবণতা।

 

 

বিগত ১৫ দিনে হত্যা, আত্মহত্যা ও দুর্ঘটনার লাশ নিয়ে করা নারায়ণগঞ্জের গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে এমন চিত্রই উঠে এসেছে। এর মধ্যে হত্যা ১১জন, সড়ক দুর্ঘটনা ১০ জন, আত্মহত্যায় লাশের সংখ্যা ৮জন। এছাড়া অসচেতনতার অভাবে দুর্ঘটনায় ও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছে ৩জন।

 


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১০ অক্টোবর চনপাড়ার শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহীন মিয়া ওরফে সিটি শাহীন নিহত হয়েছে। র‌্যাবের দাবি বন্দুকযুদ্ধে তিনি নিহত হয়েছে। ৯ নভেম্বর ফতুল্লা বুড়িগঙ্গা নদীতে যমুনা ডিপুর পিছন থেকে ভাসমান এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

 

 

তার পরিচয় হলো তিনি  জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় উপকমিটির সদস্য দুরন্ত বিপ্লব। একই দিনে, আড়াইহাজারে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কাভার্ডভ্যান-লেগুনা ও মিশুকের সংঘর্ষে রতন (৪৫) ও দিন ইসলাম (৩০) নামে দুইজন চালক নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও কয়েকজন।

 

 

উপজেলার লেঙ্গুরদী মদনপুর-আড়াইহাজারে মূল সড়ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ফতুল্লার সস্তাপুর এলাকায় মানসুরা আক্তার অমি নামে ১৮ বছর বয়সী এক তরণীর ঝুলন্ত লাশ পাওয়া গেছে। তবে, মৃত্যুর কারণ যানা যায়নি। ৯ নভেম্বর সকালে এ ঘটনাটি ঘটে।

 

 

এদিন, আড়াইহাজারে যাত্রাপালার অনুষ্ঠানের বক্তব্য দেয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের ধস্তাধস্তিতে ধাক্কার শিকার হয়ে হারিস সরকার (৪৮) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে অভিযোগ উঠেছে। মধ্যরাতে উপজেলার মেঘনাবেষ্টিত কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের খালিয়াচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

 


৮ নভেম্বর প্রতিবেশীদের সাথে মনোমালিন্য হওয়ায় আত্মহত্যা করেছে ফাতেমা আক্তার (৪৭) নামে এক গৃহবধু। ফতুল্লা কুতুবপুরের পশ্চিম দেলপাড়া এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে। ৭ নভেম্বর বন্দরে মাদকাসক্ত ছেলে সজিবের ছুড়িকাঘাতে মা আয়েশা বেগম (৪৫) নিহত হয়েছেন।

 

 

বন্দর উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়ন জহরপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। একই দিনে, বন্দরে নিখোঁজের দুইদিন পর মাসুম (৩৫) নামে এক ভ্যানচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বন্দরের পুরাতন কবরস্থান গণপাড়া বিল এলাকার ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।

 

 


পারিবারিক কলহের জেরে সিদ্ধিরগঞ্জে মরজিনা আক্তার রুবি (১৯) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। ৭ নভেম্বর সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের আজিবপুর সরদারপাড়া এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে। ওইদিন, রূপগঞ্জে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় মাহমুদুল (১৮) ও ইব্রাহিম সিকদার (২১) দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

 

 

(৭ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার মঠেরঘাট ও কালনী এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটে। তাছাড়া একই দিনে সিদ্ধিরগঞ্জে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এক শিক্ষার্থী ফারদিন নূর পরশ (২৪) এর মরদেহ উদ্ধার করেছে নারায়ণগঞ্জ নৌ থানা পুলিশ। সদ্ধিরগঞ্জের বনানীঘাট সংলগ্ন শীতলক্ষ্যা নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

 

 

৩ নভেম্বর রূপগঞ্জের পারিবারিক কলহের জেরে জান্নাতুল ফেরদাউস জ্যোতি (২৩) নামে এক গৃহবধুকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। উপজেলার মৈইকুলি এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী পলাতক আছে বলে জানায় পুলিশ।

 

 

রূপগঞ্জ ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে মাইক্রোবাসের চাপায় মো. অমিত হাসান অনিক (২২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছে। তবে বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেছেন ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হয়ে মাইক্রোবাসের চাপায় হয়েছে। ১ নভেম্বর আড়াইহাজারে নসিমনের ধাক্কায় লেগুনা খাদে পড়ে সোহেল মিয়া (৩০ ) নামের এক হেলপার নিহত হয়েছে।

 

 

তাছাড়া রূপগঞ্জের চনাপাড় এলাকা মাদকের স্বর্গরাজ্য। সেই সাথে দলভাড়ি করার জন্য জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে নেতারাও কিশোরদের টাকার বিনিময়ে মিছিল মিটিংয়ে নিয়ে আসে যাদের নিজের বোধদয় তৈরি হয় নাই। অপর দিকে পুলিশ মাদেকর জন্য জিহাদ ঘোষণা করলেও কাজের ক্ষেত্রে তাদের বাস্তবায়ন দেখা যায় না।

 

তা কথা পর্যন্ত থাকে। এই সকল অপরাধ দমানোর জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা থেকে শুরু করে পুলিশ প্রশাসন সহ ডিবি, এসবি, এন এস আই সকল গোয়েন্দা সংস্থাকে তৎপর হতে হবে। জেলা পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনকল রিসিভ করেননি।

 


সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহবায়ক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি বলেন, ইদানিং যেই লাশ গুলো পাওয়া যাচ্ছে তা নারায়ণগঞ্জের বাহিরের। এখানকার নয়। তার পরেও নারায়ণগঞ্জের বাহিরের জেলার মানুষের বসবাস বেশি। সারাদেশে এক বার্তা আছে নারায়ণগঞ্জে অপরাধ করে পার পাওয়া যায়।

 

 

তাই অপরাধীরা এই জেলাকে বেছে নেয়। দেশে যখন সামজিক অস্থিরতা চলে গনতন্ত্রহীন একটা অবস্থা থাকে তখনি সম্স্ত অপরাধ গুলো এমনিতে বেড়ে যায়।এটা সমাজ বিজ্ঞানেরই একটা অংশ। সে হিসেবে গণতন্ত্রহীন, নিরাপত্তাহীন, জিনিসপত্র লাগামহীন ভাবে মূল্যবৃদ্ধি এগুলোর মধ্যে চুরি ছিন্তাই বাড়বে এটা স্বাভাবিক বেপার।

 

 

এগুলো নিয়ন্ত্রনে প্রশাসন যে ভূমিকা রাখার কথা ছিল তারা তা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। কোন ক্ষেত্রে আমরা মনে করি অপরাধীদের সাথে প্রশাসনের একটা যোগসাজস রয়েছে। তাদের সেই যোগ সাজসের কারনেই তারা ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারে না।

 

 

আর এজন্যই অপরাঢ় বাড়ছে। এগুলো থেকে পরিত্রানের উপায় হচ্ছে দেশে স্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরী করতে হবে। মানুষের জীবন জিবিকার নিশ্চয়তা তৈরী করতে হবে। মানুষের এখন জীবনের নিরাপত্তা নেই। আতঙ্কে মানুষ জীবন যাপন করে। মানুষের নিরাপত্তা তৈরী করতে হবে।    এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন