# মাসিক টোকেনে চলা রমরমা বাণিজ্যের নেপথ্যে পুলিশ-অসাধু চক্র
# পুলিশের নামে কবির ও মাসুদের চাঁদাবাজি
# টাকা দিলে কাগজপত্রহীন গাড়ি চলে বাধাহীনভাবে
রাজনৈতিক ও র্অথনৈতিক কারণে নারায়ণগঞ্জের সুনাম র্দীঘদিনের। তবে এ সুনামে কিছুটা হলেও কালশিটে পড়েছে মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ তথা চক্রের জন্য। যে যেভাবে পারছে, নিজেদের স্বার্থের জন্য অনিয়মকে নিয়ম বানিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছে।
কেউ আবার সব অনিয়ম দেখেও না দেখার ভান করে সে অনিয়মের সাথে পরোক্ষভাবে নিজেকে জড়িয়ে নিয়েছেন। এমন অনিয়মের শেষ নেই। মুক্তারপুর থেকে চাষাড়া হয়ে সাইনবোর্ড কিংবা চাষাড়া থেকে পঞ্চবটি রুটে চলাচল করা সিএনজি গুলোর না আছে কোনো বৈধ কাগজপত্র। না আছে কোনো ফিটনেস। ফিটনেস থাকবেই বা কিভাবে?
এসব রুটে চলাচল করা করা সিএনজিগুলোর অবস্থা এতটাই নাজুক যে কোনো রকম জোড়াতালি দিয়ে চলছে গাড়িগুলো। ফিটনেস এর অবস্থা একেবারেই জীর্ন। এসব গাড়ি চলাচল করায় যেকোনো মূহুর্ত্বে হতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। শুধু ধু তাই নয়। এসব সিএনজির জন্য গড়ে তোলা হচ্ছে অবৈধ স্ট্যান্ড।
এমন অবৈধ স্ট্যান্ড আছে সোনালী ব্যাংক এর সামনে, শহিদ মিনারের পাশে , মহিলা কলেজের সামনে, রাইফেল ক্লাবের সামনে। এর ফলে শহরজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে কৃত্রিম যানজট। শহরের এ ভোগান্তি পৌচেছে চরমে।
শহরের মানুষকে নিরাপদে রাখার পরিবর্তে বিপদে ফেলে নির্দিষ্ট মহল তাদের স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত। চাষাড়া, সাইনবোর্ড ও পঞ্চবটি স্ট্যান্ড পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায় ভাসমান প্রতিটি স্ট্যান্ডে প্রায় অর্ধশতাধিক করে সিএনজি রাখা আছে।
কিন্তু গাড়িগুলোতে ফিটনেসের বালাই মাত্র নেই। প্রতিটি গাড়ি ৬/৭ বছরের পুরোনো। তাদের সাথে গাড়ির কাগজপত্রের ব্যাপারে কথা বললে তারা জানান, এই রুটে গাড়ি চালালে কোনো কাগজপত্র লাগে না। থানায় টাকা দিলেই হয়; পুলিশ এসব চেক করেনা।
এই রুটে নিয়মিত চলাচল করা নিলুফা নামের এক যাত্রি জানান, এই রুটের সিএনজি গুলোর অবস্থা একেবারইে নাজুক। মাঝপথে নষ্ট হয়ে যায়। যেখানে সেখানে ইউটার্ন নেয়। ফলে দূর্ঘটনা ঘটে হরহামেশাই।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, কবির ও কাইল্লা মাসুদের নের্তৃত্বে মাসে প্রায় ৫ লাখ টাকা চাঁদা উঠানো হয়। প্রতিটি সিএনজি থেকে তারা টাকা তুলে। এসব চাঁদাবাজির জন্য তাদের মাঝে মাঝে গ্রেফতার করা হলেও জামিনে বের হয়ে তারা একইভাবে অপকর্মে যুক্ত হয়ে যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিএনজি চালক জানান, তারা প্রতি মাসে চাষাড়া , সাইনবোর্ড ও মুক্তারপুরে সর্বমোট ৩ তিনহাজার টাকা চাঁদা দেন। হাইওয়ে পুলিশ, সংশ্লিষ্ট থানাকে ম্যানেজ করে অসাধু চক্রটি দীর্ঘদিন এ চাঁদাবাজির সাথে যুক্ত।
এর ফলে হাইওয়ে থানা, ট্রাফিক পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট থানা ফিটনেস বিহীন ও বৈধ কাগজপত্রহীন এসব সিএনজি চলাচলে কোনো বাধা দেয় না।
ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে আসা এই অভিযোগের ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সোহান সরকার এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, “ট্রাফিক এর উপর আসা অভিযোগটি সত্য নয়।”
তবে কিভাবে দীর্ঘদিন কাগজপত্র ছাড়াই এসব সিএনজি সড়কে চলাচল করছে এ ব্যাপারে তিনি কোনো সদোত্তুর দিতে পারেননি।
তবে এ ব্যাপারে শিমরাইল হাইওয়ে থানার ওফিসার ইনচার্জ শরিফুদ্দিন এর সাথে কথা বললে তিনি জানান , “সংশ্লিষ্ট অভিযোগকৃত স্থানের মাত্র ৩০ ফিট আমাদের আওতায়। বাকিটা নারায়ণগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশ এর আওতায়। আমাদের অভ্যন্তরীণ অংশে এমন সিএনজি অক্টোবর মাসেই আটক করেছি ৩১৫ টি। গতকাল ও আটক করেছি ২৮ টি। আমরা আমাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।”
ফিটনেস বিহীন এসব গাড়ির ব্যাপারে বিআরটিএ এর সহকারি পরিচালক শামসুল সাহেবের সাথে কথা বললে তিনি যুগের চিন্তাকে জানান, “ফিটনেসবিহীন গাড়ির ঝুঁকির কথা বিবেচনায় আমরা এই বিষয়টি আমাদের পরবর্তী মিটিংয়ে তুলে ধরবো।
এসব গাড়ির বিরুদ্ধে আমরা যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিবো। তবে জনগণ আর কালক্ষেপণ চায়না। তারা চায় এসব ঝুঁকিপূর্ণ যানমুক্ত নিরাপদ সড়ক।” এন.এইচ/জেসি


