শেল্টারদাতার দৌড়ঝাঁপের পড়েও শেষ রক্ষা হলো না বজলু`র!!
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর ২০২২, ০৯:১৮ পিএম
# একজন জনপ্রতিনিধির আশ্রয়-প্রশ্রয়ে বজলুর সাম্রাজ্যের বিস্তার ঘটে
অবশেষে রূপগঞ্জের চনপাড়া মাফিয়া ডন খ্যত ২২ মামলার আসামি বজলুর রহমান ওরফে বজলু মেম্বারকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। শুক্রবার (১৮ নভেম্বর) বিকালে তাকে চনপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১ এর একটি আভিযানিক দল।
চনপাড়া বস্তিতে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার ও মাদক, অস্ত্র চোরাকারবারি, নরী নির্যাতন ধর্ষণসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সাম্প্রতিক সময়ে বুয়েট ছাত্র ফারদিন নূর পরশ হত্যাকাণ্ডে নতুন করে আলোচনায় আসে বজলু। স্থানীয় একজন প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি বজলুর শেল্টারদাতা বলে অভিযোগ উঠেছে। তার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে বজলুর সাম্রাজ্য বিস্তার ঘটে।
ফারদিন হত্যা মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ফারদিন হত্যার পর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেয় রায়হান ওরফে ‘হরোইনচি’ রায়হান গ্যাংয়ের সদস্যরা। এ কাজে তাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বজলুর রহমান ওরফে বজলু মেম্বার।
তদন্ত সূত্র বলছে, ফারদিন হত্যার অন্যতম হোতা ছিলেন র্যাবের অভিযানে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত রাশেদুল ইসলাম শাহীন ওরফে সিটি শাহীন ও রায়হান গ্যাংয়ের সদস্যরা। সিটি শাহীন ও রায়হান বজলু মেম্বারের ঘনিষ্ঠজন হওয়ায় চনপাড়া আধিপত্য ছিল তাদের হাতে।
বজলুকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ্ আল মোমেন। তিনি বলেন, “শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মাদক উদ্ধার অভিযানে র্যাবরে ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলায়; তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান র্যাব-১ অধিনায়ক।"
জানা গেছে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাতে র্যাব-১ এর একটি আভিযানিক দল রূপগঞ্জ উপজেলার চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকায় অভিযান চালায়। ওই সময় মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামিদের গাড়িতে উঠানোর সময় বজলু মেম্বারের লোকজন র্যাবের ওপর হামলা চালায়।
তারা র্যাবের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং গুলি ছোড়ে আসামি ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এছাড়া রাস্তায় টায়ারে আগুন ধরিয়ে অবরোধ করে; র্যাবের গাড়ি ভাঙচুর করে। বজলু বাহিনীর হামলায় র্যাব সদস্য নাঈম ইসলাম, খন্দকার কামরুজ্জামান ইমনসহ বেশকয়েজন আহত হন।
পরবর্তীতে খবর পেয়ে র্যাব-১১ ও র্যাব-১ এর পূর্বাঞ্চল ক্যাম্পে এবং রূপগঞ্জ থানা পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে র্যাব সদস্যদের উদ্ধার করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
র্যাব-১ অধিনায়ক বলেন, “র্যাবের ওপর হামলার ঘটনায় ২৯ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ঘটনায় র্যাব-১, সিপিসি-১ এর নায়েব সুবেদার তৌফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় তিনটি মামলা করেন। মামলায় ইউপি সদস্য বজলুর রহমান বজলুসহ ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়।”
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, “ওই দিন গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে তিন কেজি ৮৫০ গ্রাম গাঁজা, মাদক বিক্রির ২৮ হাজার ৪০০ টাকা, ১৫ গ্রাম হেরোইন ও ম্যাগাজিনসহ একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পরপরই ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।”
গ্রেপ্তাররা হলেন- চনপাড়া বস্তিা (পুনর্বাসন কেন্দ্র) এলাকার পারভিন বেগম, রিপন মিয়া, রাজু আহাম্মেদ রাজা, চনপাড়া ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বজলুর ভাই হাসান, তপু মিয়া, জসিম বেপারী, বাবু, আমিন, রাসেল হোসেন, নাজমুল হোসেন রায়হান ও সুজন। এন.এইচ/জেসি


