Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

মাদক নিয়ন্ত্রণে কতটা কার্যকর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২২ নভেম্বর ২০২২, ০৭:৩১ পিএম

মাদক নিয়ন্ত্রণে কতটা কার্যকর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর
Swapno

 

# প্রতি মাসে গড়ে ৭ জন মাদকাসক্ত চিকিৎসা নিয়ে পুনর্বাসিত হচ্ছে :  উপপরিচালক মামুন

 

তারুণ্য যদি সজাগ হয়, মাদকসেবন আর নয়। শুধু মাত্র এই লাইন টি জদি প্রতিটা তরুণ নিজের মধ্যে ধারণ করতে পারতো তাহলে হয়তো সমাজ তথা দেশের আজ এই করুণ দশা হতো না। শিশু থেকে যখন  তরুণ-তরুণী রূপান্তরিত হয় একটি মানব আত্মা তখন সে যদি সঠিকভাবে গাইডলাইন পেয়ে থাকে তাহলে তার যৌবন বৃদ্ধকাল সব হবে সুস্থ স্বাভাবিক।

 

 

কিন্তু এই তরুণ বয়সেই তারা প্রথম মাদকের সংস্পর্শে আসে। যখন তারা যৌবনে পদার্পিত হয় তখন তারা মাদকের ভুবনে ডুবে থাকে। কেউ বা আবার মাদক ব্যবসার সাথে নিজেকে জড়িয়ে বাকিটা জীবন নিজ এবং নিজেদের পরিবারকে সংকটের মধ্যে ফেলে দেন। অথচ বলা হয় যৌবন যার যুদ্ধে যাওয়ার সময় তার। কিন্তু এ দেশের প্রেক্ষিতে এই বানী সর্ম্পূণ বিপরীত।

 

 

এদেশে যৌবন যার , মাদক নিয়ে মেতে থাকার সময় তার। এদেশের যুবকরা যুদ্ধে যাওয়ার পরিবর্তে সরকারকে উল্টো মাদকাসক্ত যুবকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেতে হয়। সরকারকে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স জারি করতে হয়। সিংহভাগ অপরাধের নেপথ্যে মাদক দায়ী। আর মাদকের হটস্পট ও ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে নারায়নগঞ্জ ব্যাপকভাবে সমালোচিত।

 

 

নারায়ণগঞ্জে মাদক এতটাই সহজলভ্য যে হাত বাড়ালেই মেলে মাদক। পুরো জেলায় দায়েরকৃত মামলার প্রায় অর্ধেক মামলা ই মাদক মামলা। মাদকের প্রভাবেই বেড়েছে চুরি, ছিনতাই , ধর্ষণসহ নানা অপকর্ম। এমনকি খুনের মতো ঘটনা ও ঘটতে দেখা গেছে। কারণ মাদকের টাকা যোগাড় করতেই তাদের এমন অপকর্ম।

 

 

সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত মাদক ব্যবসায়ি বজলু ও সম্প্রতি র‌্যাব এর হাতে আটক হয়েছেন। সমগ্র নারায়ণগঞ্জে শিশু থেকে কিশোর , যুবক থেকে বৃদ্ধ সবাই মাদকের করাল গ্রাসে আবদ্ধ। প্রশাসন তাদের অভিযানে নিয়মিত আসামি গ্রেফতার করলেও আইনের ফাক গলে তারা স্বল্প সময়েই বের হয়ে যায় এবং সংশোধিত না হয়ে  পূর্বের ন্যায় অপরাধে যুক্ত থাকে। এ যেনো এক ভয়ঙ্কর শহর। এমন শহর নিয়ে আতঙ্কিত সকলেই।

 

 


সুধিজনরা বলছেন গ্রেফতারের চেয়ে তাদের চিকিৎসা করে পুনর্বাসিত করতে পারলে বেশি ফলপ্রসু হবে। তারা প্রশ্ন তুলেছেন শহরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের কার্যক্রম নিয়ে। আসলে কতটা কার্যকরী শহরের মাদক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে। জনগণের এ প্রশ্নের উত্তর খুজতে  মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মামুন এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, মাদকাসক্তদের নিরাময়ে  সরকারি কোনো চিকিৎসালয় নেই শহরে।

 

 

আমরা বেসরকারিভাবে তাদের চিকিৎসা করছি। আমরা প্রতি মাসে গড়ে ৭ জন মাদকাসক্তকে চিকিৎসা দিয়ে পুনর্বাসিত করছি। এছাড়াও আমরা প্রতিটি উপজেলায় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে কর্মশালার আয়োজন করে সকল শ্রেনি পেশার মানুষের মাদক সম্পর্কিত অভিযোগ এর প্রেক্ষিতে আমরা অ্যাকশান নেই। স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দুরে রাখতে আমরা ব্যাপকভাবে গনসচেতনতা সৃষ্টি করেছি। যেকোনো সময়ের চেয়ে আমরা এখন অনেক বেশি তৎপর। তবে মাঠে এ বক্তব্যের  আউটপুট দেখতে চায় সাধারন মানুষ। তারা সুস্থ ও মাদকমুক্ত সমাজ চায়।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন