সংবাদ প্রকাশের পর টনক নড়ল কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০২২, ০৫:৪৮ পিএম
সিদ্ধিরগঞ্জে মহাসড়কে দাবড়ে বেড়াচ্ছে লক্কর ঝক্কর লেগুনা, ৩৬ লাখ টাকা চাঁদা আদায়” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর টনক নড়েছে কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের। বৃহস্পতিবার সংবাদটি প্রকাশ হলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয় কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের কর্মকান্ড নিয়ে। সেই সাথে চাঁদাবাজ চক্রদেরও শুরু হয় লম্ফঝম্প।
সংবাদ প্রকাশের পর হাইওয়ে পুলিশ অনুনোমোদিত, অবৈধ ও নিষিদ্ধ পরিবহনের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে। এদিকে অভিযানের খবর পেয়ে সড়ক থেকে সটকে পড়ে লক্কর ঝক্কর লেগুনা। কিছু কিছু লেগুনা সানাড়পাড়, মৌচাক ও মাদানীনগর পর্যন্ত আসলেও শিমরাইল মোড়ে না এসে যাত্রী নামিয়ে উল্টোপথে চলে যায়।
অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে ২৪টি গাড়িকে মামলা দিয়ে জরিমানা করা হয়। এসব গাড়ির মধ্যে মহাসড়কে চলাচলে নিষিদ্ধ ৪ টি লেগুনাও ছিলো। অপরদিকে লেগুনার চাঁদাবাজ চক্রদের দেখা যায় মহাসড়কে দিকবিদিক ছুটোছুটি করতে পুলিশের অভিযান এড়িয়ে লেগুনার চলাচল তৎপর রাখতে। এদের আবার বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে সংবাদ নিয়ে অনুযোগ, অনুরোধ ও আক্ষেপ করতে দেখা যায়।
অন্যদিকে সাধারণ মানুষ বলছে কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশ সচেতনা, নিষ্ঠা ও সততার সহিত দায়িত্ব পালন করলে সড়কে সর্বদা শৃংখলা বিরাজ করতো এবং মহাসড়কে চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম থাকতোনা। এতে নির্বিঘ্নে যানজটমুক্ত পরিবেশে নিয়মিত বৈধ গাড়ি দিয়েই সাধারণ মানুষ যাতায়াত করতে পারবে। প্রশংসিত হবেন হাইওয়ে থানা পুলিশ।
এর আগে হাইকোর্টের নির্দেশনা অমান্য করে রহস্যজনক কারণে মহাসড়কে লেগুনা চললেও সংবাদ প্রকাশের পর এগুলো নির্মুলে মাঠে নেমেছে কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের। একটি সূত্র বলছে, মরণঘাতি পরিবহণ লেগুনার মহাসড়কে অবাধ বিচরণের মুলে রয়েছে একটি চাঁদাবাজ চক্র। এর হোতারা হচ্ছে চাঁদাবাজ পলাশ, পরশ ও আতিক। এরা পুলিশসহ বিভিন্ন পেশার লোকজনদের ম্যানেজ করে চাঁদা তুলে এ পরিবহন চালায়।
বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজের কথা বলে এই পরিবহন থেকে কোম্পানি ও সমিতির নাম দিয়ে প্রতি মাসে প্রায় ৩৬ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছে ওই চাঁদাবাজ চক্র। প্রায় গাড়িরই নেই কোন বৈধ কাগজপত্র। হাতেগোনা ৪/৫ টি ড্রাইভারের ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকলেও বাকি গাড়ি গুলি চালাচ্ছে অপ্রাপ্ত বয়স্ক হেলপাররা। যাদের অধিকাংশই আবার মাদকাসক্ত।
অধিকাংশ লেগুনা লক্কর ঝক্কর। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো লেগুনা চলাচলের কোন রুট পারমিট নেই কর্তৃপক্ষের। তবুও রহস্যজনক ভাবেই সিদ্ধিরগঞ্জে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের পাশে শিমরাইল সড়কের উপর অবৈধভাবে বসানো হয়েছে লেগুনা স্ট্যান্ড। তীব্র যানজটে কবলে ভোঙ্গান্তির শিকার এলাকায় সাধারণ মানুষ। এছাড়াও সড়কের দুই পাশে দখল করে গড়ে উঠেছে ফুটপাত মরার উপর যেন খারার ঘাঁ।
শিমরাইল এক্সপ্রেস লিমিটেড (এসইএল) নামক কোম্পানির ব্যানারে গাড়িগুলো চললেও নিয়ন্ত্রন করছে যাএাবাড়ীর পলাশ নামে একজন চাঁদাবাজ। পলাশ নিজেই সভাপতি হয়ে লেগুনা মালিক সমিতি নামে মনগড়া একটি কমিটি করে ওই চাঁদা আদায় নিয়ন্ত্রন করছে। প্রতিটি লেগুনা থেকে দৈনিক ৭৫০ টাকা চাঁদা কলেকশন করে তারা। তবে সব গাড়ি প্রতিদিন চলেনা গড়ে ১৬০টি হিসেবে দৈনিক চাঁদা আদায় হয় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা যাহা মাসে দাড়ায় ৩৬ লাখ টাকা। এছাড়াও লাইনে নতুন গাড়ি প্রবেশ করতে হলে সালামি দিতে হয় ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গাড়ির মালিক জানান, মাসিক ১ হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে গাড়ির সামনে গ্লাসে ষ্টিকার লাগাতে হয়। এটা বাধ্যতামূলক। ষ্টিকার না লাগিয়ে গাড়ি সড়কে চলাচল করতে পারেনা। করলে চালকদের মারধর, গাড়ি ভাংচুর ও আটকিয়ে রাখে সমিতির নেতারা।
অভিযানের বিষয়ে কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের শিমরাইল পুলিশ বলেন দায়িত্বরত টিআই শরফুদ্দিন বলেন- সিএনজি, ইজিবাইক, অটো রিক্সা ২০টি ও ৪ টি লেগুনা আটক করে ওইসব পরিবহণের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়াসহ জরিমানা আদায় করা হয়। তিনি আরো বলেন এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।


