Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

পুরাতন সড়কে চাঁদাবাজির মহোৎসব

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:২৯ পিএম

পুরাতন সড়কে চাঁদাবাজির মহোৎসব
Swapno


 # এক প্রভাবশালী শ্রমিক নেতার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ
 # জনপ্রতিনিধি-প্রশাসনের পকেট ভারী


একটা সময় ছিলো যখন ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কটি অন্যতম ব্যস্ততম। তবে লিংক রোড চালু হবার পর ঢাকাগামী যানবাহন এর চলাচল অনেকটা কমে গেলেও এই রুটে যানবাহনের ব্যস্ততায় এতটুকুও ভাটা পড়েনি। আর এই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে এই রুটে চলাচল করা।

 

 

ছোট মাঝারি বড় সব ধরনের  গাড়ি থেকে বছরের পর বছর দৈনিক ও মাসিক নির্দিষ্ট হারে চাঁদাবাজি করে একপ্রকার শোষন করছে গাড়িচালকদের আর শহরের ট্রাফিক পরিস্থিতিকে ফেলছে বেকায়দায়। এহেন কর্মকান্ডের ফলে সড়কে সৃষ্টি হচ্ছে জটিলতা, বাড়ছে যানজট, ভোগান্তিতে পড়ছে সাধারণ জনগণ, নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান কর্মঘন্টা।

 

 

কারা করছে এমন চাঁদাবাজি? এর নেপথ্যে কে? ওরা কারা যাদের জন্য বছরের পর বছর শহরবাসীকে ভোগান্তি পোহাতে হয়? উত্তরটা হয়তো কারোই অজানা নয়। ব্যাটারি চালিত রিক্সা কিংবা সিএনজি তে উঠে বসলেই আর মিনিট পাঁচেক ষ্ট্যান্ডে বসলেই সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে।

 

 

বাহনগুলোর সামনের গ্লাসে তাকালেই দেখা যাবে নারায়নগঞ্জ সদর উপজেলা রিক্সা চালক ইউনিয়ন নামের একটি ষ্টিকার অথবা নাম্বার প্লেট। যা এক শ্রমিক নেতার রেফারেন্সে ইস্যু করা বলে নিশ্চিত করে শ্রম অধিদপ্তর। এসব বাহন থেকে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমান টাকা নেয় সেই শ্রমিক নেতার অত্যন্ত কাছের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত আজিজুল।

 

 

যার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে পত্রিকায় চাঁদাবাজির অভিযোগে নিউজও করা হয়েছে। এই নাম্বার প্লেট ব্যবহার করা প্রতিটি গাড়ি পঞ্চবটি ও পাগলায় ভাসমান স্ট্যন্ড তৈরি করে দিব্যি পুলিশি বাধা ছাড়াই গাড়ি চালাতে পারে। কেউ এই নাম্বার প্লেট না নিলে তার সিট রেখে দেয় আজিজুল এর লোকজন। শুধু মাসিক চাঁদাই না।

 

 

এমন ভাসমান স্ট্যান্ড এর সুবিধা পেতে প্রতিদিন নিয়ম করে চালকদের পঞ্চবটি ও পাগলা স্ট্যান্ডে দিতে হয় ২০ টাকা করে। যা ষ্ট্যান্ডে থাকা যানজট নিরসন কর্মীদের মাধ্যমে উঠানো হয়।  মাসিক ও দৈনিক চাঁদার ফলে অনিয়ম ই যেনো নিয়ম হয়ে নিরবিছিন্ন ও যানজটমুক্ত সড়কের পরিবর্তে শহরবাসীকে ভোগান্তি ফেলছে।

 

 

সড়কের এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের দায়িত্ব ট্রাফিক পুলিশের থাকলেও অভিযোগ আছে তারা নিজেরাই  এমন ভাসমান স্ট্যান্ড এর গাড়িচালক থেকে টাকা নিচ্ছেন। বিনিময়ে গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রি উঠানোর সুযোগ করে দিচ্ছে। ঘটনার সত্যতা পেতে যুগের চিন্তা প্রতিনিধি ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত ট্রাফিকের কার্যক্রম পর্যবেক্ষন করে এবং এর সত্যতা পায়।

 

 

স্ট্যান্ডে ট্রাফিক পুলিশকে কত টাকা দিতে হয় জবাবে সবাই বলেন প্রতিদিন ট্রাফিককে ২০ টাকা করে দিতে হয়। না দিলে যাত্রি উঠানোর জন্য স্ট্যান্ডে গাড়ি দাঁড় করানো যায় না। পাগলা বাজার এলাকা পর্যবেক্ষণে গিয়ে দেখা যায়  সড়কটি অত্যন্ত ব্যস্ততম সড়ক হলেও গাড়ির তুলনায় সড়কটি সংকীর্ন।

 

 

তবে এ সড়কটির সংকীর্নতা আরো সংকীর্ন করে দেয় সড়কের দুপাশে গড়ে উঠা অবৈধ ভাসমান ষ্ট্যান্ড । দৈনিক ও মাসিক চাঁদার বিনিময়ে সড়কে কৃত্রিম যানজট সৃষ্টি করে এর ফায়দা নিচ্ছে স্থানীয় নেতারা। পাগলা বাজার থেকে দেলপাড়া পর্যন্ত সড়কের চাঁদাবাজির ফলে সৃষ্ট ভোগান্তি কারো অজানা নয়। এত সংকীর্ণ একটা সড়কে ও স্ট্যান্ড বসিয়ে চলে চাঁদাবাজি।

 

 

এখানে চাঁদাবাজির ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যবসায়ীরা। তবে কারো দুঃখ দুর্দশাকে পরোয়া না করে চাঁদাবাজরা নিজেদের স্বার্থে বাধাহীনভাবে চালিয়ে যাচ্ছে এই চাঁদাবাজি। এছাড়াও এ রাস্তায় প্রবেশ ও বাহির হওয়া প্রতিটি ট্রাক থামিয়ে চলে চাঁদাবাজি। একপ্রকার জিম্মি করেই চলে এ চাঁদাবাজি।

 


কে বা কারা নেয়াচ্ছে এই টাকা জানতে চাইলে একজন বলেন আলিগঞ্জের মোজামে¥ল এর কথায় তারা টাকা নিচ্ছেন । এসব চাঁদাবাজদের নানা সময় গ্রেফতার করা হলেও আসল শেল্টারদাতারা সবসময় থাকে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। ফলে বন্ধ করা সম্ভব হয়নি চাঁদাবাজি। পঞ্চবটির চাঁদাবাজির দৃশ্য যেনো আরো এক ধাপ এগিয়ে।

 

 

এখানে পঞ্চবটি থেকে চাষাড়া , পাগলা , বক্তাবলি , বিসিক বা মুক্তারপুর যে রুটেই গাড়ি চালানো হোক না কেনো এখানে ভাসমান ষ্ট্যান্ড বসিয়ে প্রকাশ্যে চলে চাঁদাবাজি। ত্রিমুখী এই জায়গার তিনদিকেই ভাসমান ষ্ট্যান্ড করে চলছে চাঁদাবাজির রমরমা বাণিজ্য। এ ব্যস্ততম সড়কটির চারপাশেই স্ট্যান্ড বসিয়ে সড়ক সংকীর্ণ করে সৃষ্টি করা হয়েছে কৃত্রিম যানজট।

 

 

ভাসমান ষ্ট্যান্ড বসিয়ে চাঁদাবাজির ব্যাপারে যানজট নিরসন কর্মীদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন  টিআই হারুন তাকে এই দায়িত্ব দিয়েছে। আরেকজন বলেন এনায়েতনগর চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান তাকে এ দায়িত্ব দিয়েছেন। তবে তারা কারো কাছে জোড় করে টাকা নেন না। কেউ খুশি হয়ে যা দেয় তাই তারা নেয়।

 

 

এ ব্যাপারে জানতে হারুন ডিউটির সুবাদে অন্যত্র চলে যাওয়ায়  পাওয়া না গেলে চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান এর সাথে যোগাযোগ করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে পাগলার যানজটের ব্যাপারে কুতুবপুরের চেয়ারম্যান সেন্টুর সাথে কথা বললে তিনি জানান, অনেক আগে থেকেই এখানে চাঁদাবাজি চলে আসছে।

 

 

এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন ব্যবস্থা নিলে কিছুদিন চাঁদাবাজি বন্ধ থাকে কিন্তু আবার তা শুরু করে চাঁদাবাজ চক্র। কিন্তু সবাই তো আর চাঁদাবাজদের ধরা নিয়ে ব্যস্ত থাকে না। উচ্ছেদ চলে। কিছুদিন বাদেই আবারও সক্রিয় হয়ে এসব করে চাঁদাবাজরা।

 

 

পঞ্চবটি ও পাগলা বাজারের যানজটের নেপথ্যে চাঁদাবাজির বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সোহান সরকার এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন এই গাড়ি গুলোতো সাধারন মানুষরা ই ব্যবহার করছে। তবে পুলিশ ও যানজট নিরসন কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন কোনো গাড়ি চালক এই চাঁদাবাজির ব্যাপারে অভিযোগ দিলে আমরা ব্যবস্থা নিবো।

 

 

তবে সাধারণ মানুষ এসব চাঁদাবাজি ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে আপোষ করতে নারাজ। তারা সুশৃঙ্খল শহর প্রত্যাশা করে। আর প্রশাসনের উচিত জনগণের নায্য প্রত্যাশার দাবির সুরে সুর মিলিয়ে শহরকে চাঁদাবাজমুক্ত শহর হিসেবে গড়ে তোলা।   এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন