ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপিতে সয়লাব শহর
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:১৬ পিএম
# অভিযোগ পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো : এডি. এসপি
শাহিন মাহবুব ঝালকাঠির এক প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জ এসেছেন তার পরিবারকে দারিদ্রতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে। কিন্তু গ্রামের সহজ সরল ছেলেটা তখনো জানতো না তার জন্য শহরের কতটা নিষ্ঠুরতম অধ্যায় অপেক্ষা করছে। শহরে এসে তার প্রথমেই দরকার হয় একটা চাকরি। সে চাকরির সন্ধানে শহরের দেয়ালে সাটানো এক নিয়োগ বিজ্ঞতি দেখে ফোন দেয়। অপরদিকে থেকে চাকরিদাতা ফোন ধরে তাকে একটি জায়গায় আসতে বলে। সেখানে গেলে প্রথমেই তাকে বলা হয় প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্রের কথা আর চাকরিতে প্রবেশ ফি হিসেবে ২৫০০ টাকার কথা। শাহিন বাড়ি থেকে টাকা আনিয়ে চাকরিদাতার কথা মতো কাগজপত্রের সাথে ২৫০০ টাকা দেয়। কিন্তু তার পরেই বেরিয়ে আসে আসল চিত্র। সে ফোন বন্ধ করে দেয়। তখন শাহিন বুঝতে পারে সে প্রতারিত হয়েছে।
এমন গল্প শুধু শাহিনের নয়। একটু সচ্ছলতার আশায় শহরে আসা হাজার মানুষের গল্প এটা। বিশাল একটা সংখ্যা রয়েছে যারা জিবনের কোনো না পর্যায়ে এমন প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এমন প্রতারণা কোনো কোনো ক্ষেত্রে আরো ধাপ এগিয়ে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যায় জামানতের পরিমাণ কয়েক গুণ বেশি নেওয়া হয়। আবার চাকরির নাম করে চাকরি প্রার্থীদের দিয়েই আরো অনেকের সাথে প্রতারণা করার কাজ দেওয়া হয়। প্রতারণায় সফল হলেই মেলে টাকা।
যুগের চিন্তা প্রতিনিধির কয়েকদিনের অনুসন্ধানে জানা গেছে, শহরের চাষাড়া, খানপুর, জামতলা, ফতুল্লা কিংবা কাশিপুর সর্বত্রই রাস্তার পাশের দেয়াল কিংবা বৈদ্যুতিক খুটিতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে ও এমন বিজ্ঞাপন অহরহ। তারা সিকিউরিটি গার্ড, অফিস সহকারি, ডিপিএস, ইউনিট ম্যানেজার, রিসিপসনিষ্ট ইত্যাদি পোস্টে চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রতারিত করে আসছে। এর অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই নামসর্বোস্ব। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এতটাই আকর্ষণীয়ভাবে দেওয়া হয় যা সবারই মনোযোগ আকৃষ্ট করে ফেলে নিমিষেই। তুলনামূলক কম যোগ্যতায় লোভনীয় বেতনের ফাঁদে পা দেয় অনেকে। প্রতারকরা টার্গেট করে মূলত বেকার ছাত্র ও গ্রামের সহজ সরল ছেলেদের।
এমন কয়েকটা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির প্রদত্ত নাম্বার থেকে যুগের চিন্তা প্রতিনিধি কয়েকজনকে ফোন দিলে তারা ২ হাজার ৫০০ টাকা ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র নিয়ে কোনো একটি স্থানে দেখা করতে বলে। টাকা দেয়ার পর দিনই চাকরিতে জয়েন করিয়ে দিবেন বলে জানান তিনি। তখন আর বুঝতে বাকি নেই যে অন্যদের মতো সে আমাকেও প্রতারিত করার চিন্তায় মগ্ন। কোনো কোনো প্রতারক আবার অফিস নিয়ে বসেছে। কিন্তু সে অফিসে একটা চেয়ার টেবিল ছাড়া আর কিছু নেই। যে কোনো সময় যে অফিস তালা দিয়ে লাপাত্তা হবেন সে আশঙ্কা একেবারে অমূলক নয়। বছরের পর বছর এমন ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে শহর সয়লাব ও প্রতারিত হলে তা দেখার যেন কেউ নেই।
দেয়ালে দেয়ালে সাটানো পোস্টারগুলো আপাত দৃষ্টিতে তেমন ঘোলাটে ব্যাপার মনে না হলেও এগুলোর পিছনে যে অনেক বড় প্রতারকগোষ্ঠী রয়েছে তা এখন অনেকেরই জানা হলেও প্রতিনিয়ত কেউ না কেউ প্রতারণার শিকার হয়ে চলছে। চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রতারণার যে অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে তা প্রতিকারের ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) চাইলাউ মারমা যুগের চিন্তা জানান, আমরা সবসময় সবাইকে এ ব্যাপারে সচেতন করার চেষ্টা করি। কেউ যদি চাকরি দেওয়ার কথা বলে টাকা চায় যেন টাকা না দেয়। এছাড়াও কেউ যদি এসব প্রতারকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তবে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। তবে মানুষ এসব প্রতারকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে চায়। অপরাধমুক্ত শহর চায় ।
এস.এ/জেসি


