Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে বিতর্কিত মাকসুদের ছেল শুভ

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:৩২ পিএম

বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে বিতর্কিত মাকসুদের ছেল শুভ
Swapno

 

মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব প্রদানকারী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শাসনামলে রাজাকার পরিবারের ভয়ে তটস্থ থাকেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। কথাটা আজব শোনালেও গুজব নয়। আর এই ঘটনাটি আওয়ামী লীগ নামক রাজনৈতিক দলের প্রাতিষ্ঠার স্থান হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ জেলায়। জেলার বন্দর উপজেলার মুসাপুর ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার চেয়ারম্যানও সেই রাজাকারের পুত্র।

 

স্বাধীনতার যুদ্ধে ও যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে সরাসরি পাকিস্তানীদের হয়ে যে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছে, সেই রফিক রাজাকারের পুত্র মাকসুদ চেয়ারম্যান ও তার পুত্র মাহমুদুল হাসান শুভ’র দাপটে যখন স্থানীয় বাসিন্দাসহ ভয়ে তটস্থ হয়ে থাকেন সেখানকার আওয়ামী লীগের নেতা, কর্মী ও সমর্থকগণ। তখন সেই রাজাকার পুত্র মকসুদ ও নাতি শুভকে বাহবাসহ নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের অনেক হাই প্রোফাইল নেতারাও সমর্থন যুগিয়ে যান বলে স্থানীয় তৃণমূলের অভিযোগ।

 

আর সেই প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দকে খুশি করাসহ রাজাকার পরিবারের কাছ থেকে প্রচুর অর্থের বিনিময়ে স্থানীয় প্রশাসনও তাদের অপরাধ ও অপকর্ম দেখেও না দেখার অভিনয় করে থাকে বলেও বিভিন্ন সময় অভিযোগ করে থাকেন। অপর দিকে এখানকার তৃণমূল আওয়ামী লীগের এতই দুর্ভাগ্য যে, তারা সেই বিষয়ে কোন কথা বলারও সুযোগ পান না। এরই মধ্যে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মামলার হুলিয়া নিয়েও তারা থাকেন বীরদর্পে প্রকাশ্যে, আর অভিযোগকারীরা থাকেন বাড়ি-ঘর ছাড়া।

 

ধর্ষণ মামলায় ধর্ষক পক্ষের আসামী হলেও তারা সাঙ্গপাঙ্গসহ এলাকা দাপিয়ে বেড়ালেও ধর্ষিতারা থাকেন বাড়ি ছাড়া। তবে এবার মদপ্য অবস্থায় প্রকাশ্যে কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে আহত করায় পুলিশ বাদি মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন সেই রফিক রাজাকারের নাতি ও বহু মামলার আসামী মাকসুদ চেয়ারম্যানের পুত্র মাহমুদুল হাসান শুভ। এই গ্রেফতারের ঘটনায় মুসাপুরসহ আশেপাশের ইউনিয়নবাসি চোখে-মুখে আনন্দের হাসি। তবে তাদের মতে টাকার বিনিময়ে তারা যেকোন কিছু করতে পারে। তাই এক অজানা শঙ্কায়ও আছেন তারা।

 

নাম না বলার শর্তে স্থানীয় একাধিক নেতৃবৃন্দ জানান, রফিক রাজাকারের ছেলে মাকসুদ ও তার ভাইদের অপকর্মের কথা এখানকার এমন কোন মানুষ নেই যারা জানে না। কিন্তু জানে না শুধু সুবিধাবাদী ও অর্থ লোভী আওয়ামী লীগের কিছু নেতা এবং প্রশাসনের লোকজন। মজার বিষয় হলো সেই রাজাকার পরিবারের এই দাপটে কিংবা স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে পরাজিত করে পরপর কয়েকবার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হওয়ার বিষয়ে সব সময় ভূমিকা ছিল নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী পরিবারের।

 

আর সেই পরিবারের ভক্ত হিসেবে পরিচিত স্থানীয় আওয়ামী লীগের বেশ কিছু প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দও সুপরিকল্পিতভাবে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের হারিয়ে সেই রাজাকার পুত্রকে জয়ের রাস্তা পরিস্কার করে দিয়েছেন। আর তাইতো শুধু নির্বাচনে জয় লাভেই ক্ষ্যান্ত থাকেনি সেই রাজাকার পরিবার। হত্যা, খুন, ধর্ষণ, মাদক বাণিজ্য, লুট, ভূমিদস্যুতা, অবৈধ বালু ব্যবসাসহ একাধিক অভিযোগ ও মামলা আছে তাদের বিরুদ্ধে। বিভিন্ন থানায় এসব বিভিন্ন ঘটনায় মাকসুদ তার ভাই-ব্রাদার এবং তার গুণধর পুত্র মাহমুদুল হাসান শুভ’র নামে একাধিক মামলা আছে।

 

এই পরিবারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলাকালীন সময় ও পরবর্তী সময়ে বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করার ইতিহাস এখনও বন্দরবাসীর মুখে মুখে। বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা এর প্রতিবাদ করতে চাইলেও দল থেকে কোন প্রকার সাপোর্ট না পাওয়ায় প্রশাসনও তাদের সহযোগিতা করেন না। যদিও কখনও তৃণমূল আওয়ামী লীগের কোন নেতা এই বিষয়ে মুখ খুলেন, তাহলে তাদের আওয়ামী লীগে না রাখার ভয়সহ সুবিধাবাদী সিন্ডিকেট তাদের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি করে তাদেরকে সেই বক্তব্য ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করে বলেও জানান তারা।

 

স্থানীয় সূত্র মতে অনেক মামলার আসামী হয়েও বারেবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন রাজাকারপুত্র মাকসুদ। এরফলে আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে একমঞ্চে বসে স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসসহ বিভিন্ন দিবস পালন করেন রাজাকার পরিবার। এতে করে সেই অর্থলোভী নেতৃবৃন্দের কোন সমস্যা হয় না, কিন্তু তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ও সমস্যা হলেও তা তাদের হজম করতে বাধ্য করা হয়।

 

সম্প্রতি সময় মাকসুদ পুত্রের বিরুদ্ধে মালামাল লুট, অপহরণ, টর্চার সেলে নিয়ে নির্যাতন করার বিষয়ে বিভিন্ন অভিযোগ উঠে। তারপরও এক অজানা রহস্যে প্রশাসনের হাত থেকে রেহাই পেয়ে যান রাজাকারের পরিবার। বিভিন্ন সময় তার সাঙ্গপাঙ্গরা জালে ধরা পড়লেও ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকে মাকসুদ ও তার পুত্র। তাই এবারের গ্রেফতারে অনেকটাই আশার আলো দেখছেন তাদের হাতে নির্যাতিত একাধিক ভূক্তভোগী।

এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন