বিশ বছর যাবৎ স্ত্রী কন্যার খবর রাখেন না চেয়ারম্যান মাকসুদ
এল আর আকাশ
প্রকাশ: ২২ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:৪২ পিএম
# অন্তত আমার মেয়ের প্রাপ্যটুকু বুঝিয়ে দিতে হবে : দ্বিতীয় স্ত্রী
স্ত্রী নার্গিস মাকসুদ এবং বহু বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের হোতা পুত্র মাহমুদুল হাসান শুভকে নিয়ে বেশ আয়েশেই আছেন বন্দরের কুখ্যাত রফিক রাজাকারের পুত্র মুসাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন। তবে বিতর্কিত কর্মকাণ্ড অনেকটা তাদের পারিবারিক ঐতিহ্য বলেই জেনে আসছেন মুসাপুর ও ধামগড় ইউনিয়ন পরিষদবাসীসহ সমগ্র বন্দরবাসী।
এমনকি মুসাপুর ইউনিয়ন থেকে তিনবারের নির্বাচিত এই চেয়ারম্যান একটি চিহ্নিত রাজাকার পরিবারের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও এবং তার বাপ-চাচা, ভাই-ব্রাদার ও পুত্রসহ পরিবারের প্রায় সকল পুরুষের বিরুদ্ধেই হত্যা, খুন, ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক সিন্ডিকেট, ধর্ষণে সহযোগিতা ইত্যাদি ইত্যাদি বিভিন্ন কুকর্মে আছে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা ও অভিযোগ আছে বলে জানেন পুরো বন্দরবাসী।
স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এবং জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের কিছু সুবিধাবাদী নেতৃবৃন্দের সাথে আঁতাত করে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়াসহ বিভিন্ন অপকর্ম করেও ছাড় পেয়ে যায় মাকসুদ ও তার পরিবার। তার ভয়ে তটস্থ থাকে এলাকাবাসী। যেকোন অপকর্ম করে উল্টো তারাই আবার ভুক্তভোগীদের পুলিশ দিয়ে হয়রানী করে বলেও বিভিন্ন সময় সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশ পেয়েছে। সেই ভয়ে তটস্থ থাকেন তার স্ত্রী ও ঔরষজাত সন্তানও।
দ্বিতীয় বিয়ের প্রায় দুই যুগ পেরিয়ে গেলেও সেই স্ত্রী এবং সন্তান এখনও পাননি প্রাপ্য অধিকার। বিষয়টি স্বীকার করেছেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী। তারা কিভাবে চলে, তাদের কি প্রয়োজন এমনকি থাকার জন্য কোন ব্যবস্থাও করেননি বন্দর উপজেলার মুসাপুর ইউনিয়নের দাপুটে চেয়ারম্যান মাকসুদ। বিত্তশালী মাকসুদ চেয়ারম্যানের আলিশান বাড়ি, গাড়ি ও আরাম আয়েশে তার প্রথম স্ত্রী নার্গিস মাকসুদ ও পুত্র মাহমুদুল হাসান শুভ ভোগ করলেও বঞ্চিত হয়ে আছেন দ্বিতীয় স্ত্রী মোসাম্মৎ সুলতানা ও তাদের মেয়ে।
সূত্র মতে মাকসুদের স্ত্রী (প্রথম স্ত্রী) নার্গিস মাকসুদ বর্তমান থাকাবস্থায়ই ১৯৯৮ সালে বিয়ে করেন সম্পর্কে চাচাতো বোন সুলতানাকে। ’৯৮ সালের ৭ জুলাই ২লাখ ১ টাকা দেনমোহরে মাকসুদ চেয়ারম্যানের সাথে মোসাম্মৎ সুলতানার বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করা হয়। যার উশুল হিসেবে ধরা হয় ২৫ হাজার টাকা। বিয়ের পর স্ত্রীর অধিকার নিয়ে আর মাকসুদের বাড়িতে যাওয়া সম্ভব হয়নি দ্বিতীয় স্ত্রী সুলতানার। বিবাহের প্রায় দুই বছর পর তাদের সংসারে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। বর্তমানে সেই কন্যার বয়স ২২ বছর।
তবে দুঃখজনক হলেও সত্যি সেই মেয়ে হওয়ার পর তাদের আর কোন খোঁজ খবর রাখেননি মাকসুদ। পরে স্ত্রী সুলতানা বিষয়টি নিয়ে একটি মামলা দায়ের করলে বিভিন্ন লোক মারফত সমঝোতায় আসে তারা এবং বছর দুই তাদের প্রতিমাসে কিছু টাকা দিয়ে সাহায্য করতো মাকসুদ। এরপর সমাঝোতা হিসেবে তাদেরকে কিছু জায়াগ কিনে সেখানে ঘর-বাড়ি তৈরি করে বাড়ি ভাড়া বাবদ কিছু টাকা যাতে আসে সেই উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু পরে সে একটি উছিলা দিয়ে সেই উদ্যোগ থেকেও ফিরে আসে। এরপর প্রায় বিশ বছর যাবৎ মাকসুদ চেয়ারম্যান তার কন্যা ও স্ত্রীর আর কোন খোঁজ নেননি বলে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে অভিযোগ পাওয়া যায়।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে মাকসুদ চেয়ারম্যানের দ্বিতীয় স্ত্রী সুলতানা মাকসুদ বিয়ে ও কন্যা সন্তানের কথা স্বীকার করে বলেন, হ্যা, আমাদের বিবাহ হয়েছে। ওনারতো আগের একটি বিবাহ আছে। তাই আমার মেয়ে হওয়ার পর ওনি নেই নিচ্ছি করতেছিল। এভাবে প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এর প্রথম দিকে কোন খোঁজ খবর ছিল না। পরে আমি একটি মামলা করি। এরপর ওনি লোকজন ধরে সবকিছু ঠিক করে দিবে বলে এবং জায়গাসহ বাড়ি করে দিবে বলে একটি সমঝোতা হয়। এরপর আমাদের খরচপাতি হিসেবে প্রায় দুই বছর প্রতি মাসেই কিছু টাকা পয়সা দিয়েছিল।
এরপর এখানে আড়াই লাখ টাকা দিয়ে আমার নামে সাড়ে আট শতাংশ জায়গা বায়না করে। তখন জায়গার দাম ছিল শতাংশ প্রতি ৬০ হাজার টাকা। রেজিস্ট্রেশন করার জন্য জমির মালিক থেকে ৬ মাসের সময় নিয়েছিল মাকসুদ। কিন্তু রেজিস্ট্রি করার সময় আমার নামে রেজিস্ট্রি করবে না বলে জানায়। এই বিষয়টির মধ্যস্ততা করেছিলেন ওনার (মাকসুদ চেয়ারম্যানের) বোন ও বোন জামাই (যারা মিরপুরে বসবাস করেন)। তিনি বলেন, সম্পর্কে সে আমার চাচাতো ভাই। তার বোন ও বোন জামাইসহ তারা বলেছিলেন কোন ঝামেলার দরকার নাই।
বাড়ি-ঘর করে দিলে সেখান থেকে যদি মাসে ২০/৩০ হাজার টাকা পাওয়ার একটি ব্যবস্থা হয়, তাহলে তাদের চলতে আর সমস্যা হবে না। এরপর আমি আমার মেয়ে এবং মাকসুদ মিলে ঢাকায় তার বড় বোনের বাসায় যাই। সেখানে মাকসুদ তার বোন জামাইকে বলে, জায়গাটা এখন দেওয়া যাবে না, একটা ঝামেলা হয়ে গেছে, জায়গাটা আমি আমার মেয়েকে দিব। জায়গাটা এখন আমার নামে (মাকসুদ চেয়ারম্যানের নামে) রেজিস্ট্রি হোক। তিনমাস পর যখন কাগজ বের হয়ে আসবে তখন আমাদের মেয়েকে লিখে দিবে। কিন্তু অদ্যাবদি সে আর সেই জায়গা দেয়নি। শুধু তাই নয় এতগুলো বছর হয়ে গেলে সে কোন প্রকার ভরণপোষণও দেয়নি।
তিনি আরও বলেন, আমার মেয়ের বর্তমান বয়স ২২ বছর। এখন সে ভার্সিটিতে পড়ে। তাই আমার মেয়ের যা প্রাপ্য তা তাকে বুঝিয়ে দিতে হবে, এখন তিনি বলবেন দিবে আবার ছয়মাস পরে বলবে দিবে না। আমার পক্ষে তো আর বারেবার কোর্ট-কাছারি করা সম্ভব না। তাছাড়া আমার মেয়ে যেহেতু বড় হয়েছে, এখন আমি আমার মেয়েকে নিয়ে আমার বাবার বাড়িতে থাকি। তার বিয়ে সাদির বয়সও হয়েছে। পাত্র পক্ষ আসলে তাদের সামনে বাবার পরিচয় লাগবে, বিয়ে হলে মেয়ে জামাইকে থাকতে দেওয়ার জায়গা নেই। মাকসুদ চেয়ারম্যানের কোন কিছুর অভাব নেই। তারতো কোটি টাকা দেওয়ার মতোও সামর্থ্য আছে। তাই আমরা যেন চলতে পারি মেয়ের দায়িত্ব নিয়ে সে রকম একটি ব্যবস্থা করে দেওয়া এখন খুবই জরুরী হয়ে পড়েছে।
এই বিষয়টি জানার জন্য মাকসুদ চেয়ারম্যানের মোবাইলে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ করেননি তিনি।
এস.এ/জেসি


