জাহাঙ্গীরের কারিশমায় উচ্ছেদ থেকে রেহাই পেল অবৈধ দখলদাররা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৩, ০৭:৩৫ পিএম
# উচ্ছেদ থেকে বাঁচানোর কথা বলে দোকান প্রতি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা নেয়ার অভিযোগ
গত বুধবার শহরের ২নং রেলগেট এলাকা থেকে গলাচিপা সুগন্ধা বেকারী পর্যন্ত অবৈধ স্থাপনা-দোকান ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। জানা যায়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ডাবল রেললাইন প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। এ ডাবল লাইন প্রকল্পের কাজের জন্য রেলওয়ের নিজ জায়গা উদ্ধারের জন্য গত বছর কয়েকবার উচ্ছেদ অভিযান চালায়। উচ্ছেদ অভিযানের কয়েক মাস পরেই রাতের আধারে রেলওয়ের সেই জায়গা আবার দখলে চলে যায়। শহরের ২নং রেল গেটস্থ থেকে চাষাঢ়া রেল স্টেশন পর্যন্ত রেল লাইনের দু’পাশে প্রায় ৫শত অবৈধ দোকান রয়েছে। এর মধ্যে সব কয়টি দোকানই হচ্ছে থান কাপড় ব্যবসায়ীদের।
গত ৪ জানুয়ারি ২নং রেল গেট থেকে গলাচিপা মোড় পর্যন্ত বাংলাদেশ রেলওয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ডিভিশনাল এস্টেট অফিসার মো.সফি উল্লাহ এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুবাইয়া খানমের নেতৃত্বে প্রায় দুই শতাধীক অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হয়। এ উচ্ছেদে ভাসমান দোকানগুলো ভেঙে গুঁড়িয়ে দিলেও ২নং রেলগেট এলাকায় দুই পাশের থান কাপড়ের মার্কেটগুলো উচ্ছেদ করা হয়নি। গত বছর এ মার্কেটের সামনের অংশ ও মিউচিয়াল ব্যাংকের বিল্ডিং এর সামনের অংশ রেলওয়ে উচ্ছেদ করেছিল, কিন্তু এবার তা উচ্ছেদ করে নাই। গত বছর উচ্ছেদের পরে রাতের আধারে ২নং রেল গেটস্থ এলাকার দু’পাশে প্রায় শতাধিক দোকান স্থাপনা করেন কিছু প্রভাবশালী লোক। জানা যায় তার রেলওয়ের কিছু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এসব দোকান গুলো স্থাপন করেন।
কিন্তু গত বার যে সকল দোকান রেলওয়ে উচ্ছেদ করেছে এবার তা উচ্ছেদ করা হয়নি। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একজন থান কাপড় ব্যবসায়ী জানান, আমাদের এখানে সমস্ত দোকানের দেখা-শোনা করেন আওয়ামীলীগ নেতা জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য জাহাঙ্গীর আলম। আমরা এবার প্রতি দোকান থেকে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে দিয়েছি, রেলওয়ে যে কর্মকর্তা আছে তাদের ম্যানেজ করার জন্য। জাহাঙ্গীর ভাই ও দুলাল ভাই এই সব দেখবেন। তাই মনে হয় এবার দোকান ভাঙা পড়ে নাই। তার অপর পাশে মিউচিয়াল ব্যাংকের সাথে যে দোকান রয়েছে সেটি বীর মুক্তিযোদ্ধা সামির উল্লাহ মিলন এর নামে। তিনিও ঐ দোকানগুলো দেখবেন যাতে না ভাঙে।
টাকা তোলার বিষয়ে আওয়ামীলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম যুগের চিন্তাকে বলেন, আমি এই মার্কেটের একজন ব্যবসায়ী, আমারও এই খানে দোকান রয়েছে। এই জায়গাটি নিয়ে ৩টি মামলা চলমান আছে। তাই রেলওয়ে ভাঙে নাই। আর টাকার যে বিষয়টি সেটি মিথ্যা, মামলা থাকাতে তা ভাঙা হয় নাই, মামলা থাকলে সরকারও ভাংঙ্গতে পারে না। এবিষয়ে গত ৪ জানুয়ারি উচ্ছেদ অভিযানে নারায়ণগঞ্জ রেল পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোখলেসুর রহমান বলেন, এরই মধ্যে আমরা শতাধিক অবৈধ স্থাপনা-দোকান উচ্ছেদ করেছি। অভিযান চলছে ঠিক কতগুলো উচ্ছেদ হবে তা এখনি বলা যাচ্ছে না। অবৈধ স্থাপনা বা দোকান কোনোটাই ছাড় দেওয়া হবে না।
রেলওয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো.সফি উল্লাহ বলেন, এখানে ডাবল লাইন প্রকল্পের মালামাল আসবে। যার কারণে আমরা এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছি। রেললাইনের দুই পাশে যত স্থাপনা রয়েছে সকল স্থাপনাই অবৈধ।
এস.এ/জেসি


