Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

ব্যর্থতা ঢাকতে পারবে কী প্রশাসন

Icon

অর্ণব হাসান

প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৩, ০৮:৪০ পিএম

ব্যর্থতা ঢাকতে পারবে কী প্রশাসন
Swapno

 

# জনপ্রতিনিধি-ব্যবসায়ী-সচেতন মহলের নানা অভিযোগ

 

 

এই বছরের শুরুটাই যেন উদ্বিগ্ন আর উৎকন্ঠার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে নারায়ণগঞ্জবাসী। হঠাৎ করেই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সেলিম ওসমান হোন্ডাবাহিনীরি বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনকে আল্টিমেটাম প্রদান করেন। একই সাথে এই গ্রুপই আবার গার্মেন্ট নীট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাদাঁবাজি করছে বলে অভিযোগ করছে বলা হচ্ছে। সেই সাথে সাংসদ প্রশ্ন রাখেন এরা কারা? তার এই বক্তব্য টক অব দ্যা টাউনে পরিণত হয়। এর রেশ কাটতে না কাটতেই এক সভায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী প্রশাসনের নানা ব্যর্থতা নিয়ে মুখ খুলেন।

 

এর আগে ২৭ ডিসেম্বর এক অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনকে আল্টিমেটাম দেন নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও মানবাধিকার কর্মী এড. মাহবুবুর রহমান মাসুম। তার রেশ কাটতে না কাটতেই সন্ত্রাস-নির্মূল ত্বকী মঞ্চের অনুষ্ঠানে সেই আল্টিমেটামের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনকে ব্যর্থ হিসেবে আখ্যায়িত করেন তিনি। তাদের এই বক্তব্যের মাধ্যমে উঠে আসা কথাগুলো নগরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। কিন্তু কিছুতেই এসবের সুরাহা হচ্ছে না। এদিকে নগরবাসী চান নারায়ণগঞ্জে কোন সন্ত্রাস, চাদাঁবাজ লুটতোরাজ, টেন্ডারবাজি, হকার দিয়ে ফুটপাতের সাথে রাস্তা দখল থাকবে না। জনপ্রতিনিধিসহ সচেতন মহল অভিযোগ তুলেছেন এই শহরে সকল অপকর্ম চালিয়ে একটি শ্রেনীর লোক সুবিধা নিচ্ছে। এমনকি প্রতি দিন কোটি কোটি টাকা চাদাঁ তুলে নিয়ে যাচ্ছে। যেখানে প্রশাসেনর লোকজন জড়িত থাকার কথা অভিযোগ তুলছে সচেতন মহল।

 

এছাড়া সম্প্রতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মডেল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদুজ্জামান মাসুদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নারায়ণগঞ্জ শহর যেন হকারের নগরী হয়ে গেছে। তাছাড়া শহরে এখন ইজিবাইক মিশুক ও অটো চালকদের অত্যাচারে কেউ চলাচল করতে পারে না। আমরা নগরবাসী এর থেকে কবে পরিত্রাণ পাবো বলে তিনি প্রশ্ন রাখেন। তার এই মতের সাথে সাংবাদিক সমাজও একমত প্রকাশ করেন। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, এসপি হারুন যখন নারায়ণগঞ্জে দায়িত্ব পালন করেছে তখন গতানুগতিক পুলিশি ব্যবস্থা ভেঙ্গে দিয়ে কাজ করে দেখিয়ে দিয়েছেন।

 

প্রজাতন্ত্রের চাকুরীজীবি হিসেবে কাজ করে গেছেন। তিনি কোন দলের লোক কিংবা কাউকে না দেখে পূর্বের সকল রেকর্ড ভেঙ্গে অন্যায় অপরাধের বিরুদ্ধে কাজ করে গেছেন। তিনি শহরের ফুটপাত মুক্ত রাখার পাশা পাশি নানা অপরাধ কমিয়ে এনেছেন। অথচ তিনি চলে যাওয়ার এই শহর আর ফুটপাত মুক্ত নেই। এটাকে তিনি বলেন এসপি হারুন পারলে পুলিশ প্রশাসনের বাকিরা কেন পারবেন না। একটি শহরের বঙ্গবন্ধু সড়ক ফুটপাত পরিস্কার রাখা যাবে না এটা কেমন কথা। ধনী জেলার শহর হিসেবে এখান থেকে কোটি টাকা কিছু লোকজন নিয়ে যাচ্ছে।

 

সরকারি কর্মচারী, কর্মকর্তা থেকে শুরু করে এমন কেউ নাই যে নারায়ণগঞ্জ থেকে টাকা নেয় না। টাকা নেয়া একদম ওপেন সিক্রেট হয়ে গেছে। তাহলে প্রজাতন্ত্রের সরকারি চাকরী জীবিরা কেন কাজ করবেন না। এসপি হারুনের সময়তো ফুটপাতে হকার বসে নাই। এছাড়া বিভিন্ন মোড়ে ট্রাক স্ট্যান্ড বসে নাই। তিনি তার লোকজন নিয়ে প্রায় রাস্তায় বের হতেন। আর তখন পুলিশের সকলে কাজ করতেন। এখন কেন করতে পারেন না। পুলিশ প্রশাসনের কিসের জুজুর ভয়। এসপি হারুনের সময় তো এই এমপি সাহেবরাই ছিল। তখন কেন ভয় পেলেন না, এখন ভয় কিসের। আমি মনে করি এখানে কোন ভয় না, সমঝোতা। সমঝোতা করে এই শহরে আদান প্রদান চলে। আর আদান প্রদান চলে বিধায় শহরে কোটি কোটি টাকা চাদাঁবাজি হচ্ছে। আর এই টাকা যায় কই। এতে পরিস্কার বুঝা যাচ্ছে এখানে প্রশাসনের বর্থ্যতা রয়েছে।  

 

তিনি বলেন, অথচ ডিসি-এসপি সাহেবদের যখন যা দরকার তখন সব কিছু ব্যবসায়ীরা করে দিচ্ছেন। তাহলে তারা কেন আমাদের সার্ভ করবেন না। আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী কেন সাফার করবো। প্রশাসন কি করে। কেন আমরা এই শহরে ভালো ভাবে কাজ করতে পারবো না। কেন জনপ্রতিনিধিদের সার্বক্ষণিক এই শহরের মানুষের রোষানলে আমাদের পড়তে হবে। এছাড়া জেলা প্রশাসনকে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি এড মাহবুবুর রহমান মাসুম ব্যর্থ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

 

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসককে মৌমিতা পরিবহনকে বন্ধ করার জন্য আমরা আলটিমেটাম দিয়েছি। ১৫ দিনের মধ্যে মৌমিতাকে সরানোর জন্য বলেছি। যদি না সরান তাহলে আমরা তো রাস্তায় নামবোই। আমরা চাই সুন্দর শান্তিময় নারায়ণগঞ্জ। এখানে ফুটপাত ফাঁকা থাকবে, মানুষ ফুটপাতে হাঁটবে, হকারমুক্ত থাকবে। শহরে কোন যানজট থাকবে না। এখানে মৌমিতা থাকবেনা, এখানে বন্ধন থাকবেনা, মেয়াদ উত্তীর্ণ বাস থাকবে না। এখাকে অনেক কিছুই থাকবে না যেটা প্রশাসনের করা উচিৎ ছিল। আমি বলবো আজকে জেলা প্রশাসন সম্পূর্ণ ব্যর্থ। সম্পূর্ণ ব্যর্থ নারায়ণগঞ্জ উপহার দিয়েছে প্রশাসন। আমি বলতে চাই আইন শৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষ বরাবরই নারায়ণগঞ্জে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।

 

জেলা প্রশাসনকে নিয়ে এমপি, মেয়র সচেতন মহলও শহরের নানা সমস্যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এমনকি প্রশাসনকে ব্যর্থ বলে আখ্যায়িত করেছে। তাই সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেন, প্রশাসন কী তাদের দিকে ব্যর্থতার আঙুল তোলার বিষয়টি ডাকতে পারবে। তারা কি এসপি হারুনের মত সেই আগের নারায়ণগঞ্জ তথা শান্তিময় নারায়ণগঞ্জ গড়ে তুলতে পারবেন। নাকি ব্যর্থতার অপবাদ নিয়ে তারা চলে যাবেন। সেই দিকে তাকিয়ে আছে নগরবাসী তথা শহরের মানুষ। সব কিছুর উর্ধ্বে গিয়ে এই শহরের মানুষ সুন্দর শান্তিময় নারায়ণগঞ্জ চান। যেখানে কোন হোন্ডাবাহিনী, সন্ত্রাস, চাদাঁবাজ লুটতরাজ থাকবে না।  

 

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ বলেন, আগামীকাল অফিসে আসেন সামনা-সামনি কথা বলবো। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেলের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন কল রিসিভ করেননি।

এস.এ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন