বিএনপি গণতন্ত্রের কথা বলে পরিবেশ গরম করার চেষ্টা করেছে
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৩, ০৮:৪২ পিএম
রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, বিএনপি গণতন্ত্র নষ্ট করেছে, জনগণের ভোটাধিকার নষ্ট করেছে, এখন তারা গণতন্ত্রের কথা বলে পরিবেশ গরম করার চেষ্টা করেছে। এদেরকে জনগণ চিনে, এরা কোথায় থেকে এসেছে, এদের ব্যাকগ্রাউন্ড কি, এরা একটা সামরিক ক্যান্টনমেন্ট থেকে ক্ষমতায় এসেছে।
এরা জোড় করে মানুষ হত্যা করে ক্ষমতা গ্রহণ করেছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে ক্ষমতায় এসেছে, এরা মানুষ হত্যা করে ক্ষমতায় আসতে চায়। শনিবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জ রেল স্টেশন এলাকায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেলপথের ডাবল লাইন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
রেলমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা গণতন্ত্র উদ্ধার করেছি। জনগণ আগে বলতো, আমার ভোট আমি দিবো, যাকে খুঁশি তাকে দিবো। এখন এসেছে আমার ভোট আমি দিবো, দেখে শুনে বুঝে দিবো। কাজেই জনগণ এখন দেখছে, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে, এটার ব্যাপারে আমরা সব সময় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
বিরোধী দলের কাছে আহ্বান তারা গণতান্ত্রীক পন্থায় ফিরে আসবে, জনগণের মতামত নিয়ে রাজনীতির পথে চলবে। তিনি বলেন, আগামী জুন মাসের মধ্যে ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত পদ্মা সেতু অতিক্রম করে আমরা এটি চলাচলের জন্য উপযোগী করতে পারবো। তবে, মূল প্রকল্প ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত শেষ হবে ২০২৪ সালে।
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেলপথ নিয়ে মন্ত্রী বলেন, একটি দেশের ভারস্যমপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ছাড়া টেকশই উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। ঢাকা নারায়ণগঞ্জ রেলপথে ডাবল লাইন কাজ শেষ হলে প্রতিদিন এই পথে ৫০ বার ট্রেন আসা যাওয়া করবে। নারায়ণগঞ্জবাসীর সুবিধার জন্য দ্রুত এই প্রকল্পের কাজ শেষ করা হবে।
তিনি বলেন, যেহেতু ভাঙ্গা পর্যন্ত আমাদের পুরণ রেলপথ আছে, আমরা পুরণ রেল লাইনের সাথে এটি যাতে সংযুক্ত করতে পারি। সেই জন্য ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেলপথ আপাতত বন্ধ রয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ করে পুনরায় ট্রেন চলাচল চালু করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জে রেলওয়ের জমি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, রেলওয়ের জমি ব্যবহার হচ্ছে না বলে, যে হবে না; এমনটা নয়। বাংলাদেশ রেলওয়ের কার্যক্রম বাড়ছে, সাথে অনেক নতুন লোক নিয়োগ দিচ্ছে। তাদের বাসবাসের জন্য পরিত্যক্ত জমি ব্যবহার করা হবে।
শেখ রাসেল নগর পার্ক পরিদর্শন শেষে রেলমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় রেলপথকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই রেলেও কার্যক্রম বাড়ছে, সাথে রেলের জন্য আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারী বাড়ছে। আরও বাড়বে। তাদের থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। এখন ব্যবহার হচ্ছে না, তাই বলে ব্যবহার হবে না, এমনটা নয়। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হতেও পারে। উন্নয়নশীল কাজ প্রতিনিয়ত হচ্ছে, এবং সমন্বয় করেই হচ্ছে।
এ সময় নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, রেলওয়ে ও সিটি করপোরেশন সরকারেরই সংস্থা। আমরা সকল সরকারি সংস্থার সাথেই সমন্বয় করে কাজ করি। এবং আমরা একটি নীতিতে এগিয়ে চলি। যে জমি গুলো আমাদের উন্নয়নের কাজে লাগবে, সেই জমি আমরা সরাসরি উচ্ছেদ করবো। কিন্তু যে সমস্ত জায়গা, আমরা ব্যবহার করতে পারছি না, বিভিন্ন ভাবে বেদখল হয়ে আছে। সেই সমস্ত জমির ব্যাপারে সরকারি অন্য সংস্থা আবেদন করলে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তবে, জোড়া জুড়ির মাধ্যমে করাটা ঠিক হবে না। আলোচনার মধ্যদিয়ে সমস্যার সমাধান করা উচিৎ। এ সময় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক কামরুল আহসান, প্রকল্প পরিচালক আব্দুর রউফসহ রেলওয়ে ও জেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


