Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

ফের ৩ দিনের আলটিমেটাম

Icon

এম সুলতান

প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৩, ০৯:৪৩ পিএম

ফের ৩ দিনের আলটিমেটাম
Swapno


# এই ১ কোটি টাকা ছাড়া কী সিটি করপোরেশন চলে না :  হাজী নুরু উদ্দিন।

 

নারায়ণগঞ্জে মৌমিতা সহ সকল অবৈধ পরিবহন বন্ধের ও চাষাড়া ডাক বাংলোর সামনের রাস্তা পাকা করণ এবং দিনের বেলায় শহরে ট্রাক চলা বন্ধ করা ও সুন্দর নগরী গড়ার দাবীতে মানববন্ধন করেছে ‘আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী’। শনিবার (১৪ জানুয়ারী ) সকাল ১০ টায়। গত ২৭ ডিসেম্বর এক অনুষ্ঠানে অবৈধ পরিবহন মৌমিতা বন্ধের দাবিতে ডিসিকে ১৫ দিনের আলটিমেটাম এর প্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জ চাষাড়া শহীদ মিনারে সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।  

 


নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী সংগঠনের উপদেষ্ঠা এবং সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন,  আমাদের একটি সুন্দর স্বপ্ন আছে সেটা হলো সুন্দর নারায়ণগঞ্জে কোন সন্ত্রাস থাকবেনা যেকানে কোন যানজট থাকবেনা ও ফুটপাত মুক্ত থাকবে যেখানে কোন ট্রাফিক জ্যাম থাকবেনা।

 

 

আমরা সব সময় স্বপ্ন দেখি যদি বাহিরে থেকে কেউ আসে এই নারায়ণগঞ্জ দেখে মুগ্ধ হযে যাবে। আগে আমাদের এই শুনাম ছিলো কিন্তু বর্তমানে নেই। নারায়ণগঞ্জ প্রশাসনের দুর্বলতার কারণে ও সমন্বয়ের অভাবে ধ্বংস স্তুবে পরিনত হয়েছে। যেমন আছে মৌমিতা যার কোন ভিত্তি নাই যার আইনগতভাবে চলাচলের কোন অনুমতি নাই।

 

 

তাদের রোড পারমিট হলো সাইনবোর্ড প্রযন্ত কিন্তু তারা নারায়ণগঞ্জ শহরে রাজার মত করে চলাচল করছে। কোন সুতার টানে কাকে ম্যাননেজ করে কার সাথে লেনদেন করে চলাফেরা করছে এটা আমরা জানতে চাই। ডিসি সাহেব উনি রোর্ড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি এর সভাপতি ও বিআরটিএ সভাপতি ।

 

 

উনার উপরে সরকার থেকে এই দায়িত্ব দেওয়া আছে। উনি হলেন ব্যর্থ। নারায়ণগঞ্জ থেকে যদি অনাবিল চলে যেতে পারে তাহলে মৌমিতা কেন যাবে না ডিসি সাহেব? কি স্বার্থ আছে কাদের কাছে জিমি হয়ে আছেন এটা আমরা জানতে চাই। আমরা আলটিমিটাম দিয়ে ছিলোম, তার পরেও মৌমিতা চলছে আপনি কি নারায়ণগঞ্জের মানুষ চিনেন না আপনি মানুষের পালস বুঝেন না শুধু মাত্র কি ফাইলে সাইন করার জন্য নারায়ণগঞ্জে এসেছেন নাকি এটা আমরা জানতে চাই।

 

 

আমরা আপনার বিরুদ্ধে না আইন বিরুদ্ধে কোন কাজ করবো না শুধু শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করবো। কারণ আপনি যে ব্যর্থ সেটা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়ে দিন আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী থেকে গণস্বাক্ষর নিয়ে তার কাছে পাঠাবো জানিয়ে দেওয়ার জন্য ডিসি ও এসপি সাহেবরা ব্যর্থ।

 

 

নারায়ণগঞ্জ শহরে কোন মেয়াদহীন বাস ও মৌমিতা শহরে ঢুকতে পারবেনা। খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম ডুবাতে চেয়েছিলেন জেলা প্রশাসক আমরা ডুবাতে চাই না আপনি সেগুলাও সরিয়ে  ফেলুন। ট্রাফিক যদি একবার হাত দেখায় তাহলে দুই নাম্বার গেট প্রযন্ত জ্যাম লেগে যায় এটা ১৫/২০ মিনিট এভাবে কেন আটকান ভাই। আপনারা ভালো করে প্রশিক্ষণ নিয়ে আসেন আমরা কোন যানজট চাই না।

 

 

ফুটপাত দিয়ে বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারে না ফুটপাত তো অনেক বড় কিন্তু হকাররা এটা পুরো দখল করে রাস্তায় নেমে গেছে তাই জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার সাহেব এটার জন্য ব্যবস্থা নিন। দুই দির পর পরে উঠিয়ে দিন তারা আবর বসে পরে এটা হতে পারে না । আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী  কোন রাজনেতিক সংগঠন না।

 

 

আমরা নারায়ণগঞ্জ সিটি করর্পোরেশন এর মেয়র কে বলতে চাই আপনি পানির সমস্যা সামাধান করুন । বাড়িতে বাড়িতে সঠিক সময় পানি দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী  প্রথমে আবেদন করেছিলাম যাতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করর্পোরেশন এর কাছে দেওয়া হয়।এখন যদি সিটি করর্পোরেশন যদি ফেল করেন তাহলে আমাদের দুঃখের কোন সীমা থাকবে না।

 

 

তাই মেয়র এর কাছে আমার আবেদন যাতে সুন্দর করে পানির ব্যবস্থা করুন। নারায়ণগঞ্জ যে সকল বাস রয়েছে বন্ধন, উৎসব, মৌমিতা যে সকল পরিবহন রয়েছে তাদেও মেয়াদ উত্তীর্ণ বাস গুলো সরিয়ে দিন। আমরা কিন্তু একটা প্রশ্নে আপোষ করবো না সুন্দর নারায়ণগঞ্জ গড়তে।

 

 

আগামী ৩ দিনের মধ্যে মৌমিতাকে উঠিয়ে দিন তাহলে বুঝতে পারবো আপনার সত্য ইচ্ছে আছে তাহলে আপনার দরজায় আমরা নক করবো । আমরা আপনাকে সহযোগিতা করবো সব কিছুতেই। ডাক বাংলোর সামনে জায়গা ভেঙে দিয়েছে। পুলিশ সুপারের নিয়ন্ত্রণে যে জায়গা আছে সেখানে একটি ডাম্পিং করেছে সেখানে নষ্ট গাড়ি দিয়ে আটকে রেখেছেন।

 

 

আপনি না পারলে মেয়রকে অনুরোধ করেন, এই রাস্তা পাকা করার জন্য। এই রাস্তায় আমাদের এক মহিলা আইনজীবীর মেয়ে মারা গিয়েছে সেটা আমরা ভুলি নাই। আসুন সকলে মিলে প্রশাসনের ব্যর্থতায় আমরা স্বাক্ষর  দিয়ে আমরা সকলকে জানিয়ে দেই। মেয়র সাহেব আপনি আপনার ক্ষমতা পুরো ব্যবহার করুন। পুলিশ সুপার আপনার ক্ষমতা আছে কাজে লাগান। সুন্দর নারায়ণগঞ্জ গড়ে তুলেন ।

 


আমরা নারায়ণগঞ্জবাসীর সভাপতি হাজী মো: নুরুউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, নারায়ণগঞ্জ সব দিক থেকে অবহেলিত হয়ে আছে। নারায়নগঞ্জ জেলাকে ধনী জেলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। কারন এই জেলাই শতকরা ৯৮ জন লোক খেয়ে পরে বেঁচে আছে। মাএ দুজন লোক তিনবেলা খেতে পারে না। সারা বাংলাদেশের মধ্যে নারায়নগঞ্জ শিল্প, বাণিজ্য এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে অবদান রেখে আসছে। 

 

 

আমাদের রাষ্টীয় কোষাগারে যে বার্ষিক আয় হয় তার শতকরা প্রায় ২৮ শতাংশ নারায়ণগঞ্জ থেকে দিয়ে থাকি। রাষ্টীয় কোষাগার নারায়ণগঞ্জ থেকে পরিপূর্ণ হলেও এই জেলাই বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবহেলিত হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিতীয় শ্রেণির জেলায় চিহ্নিত আছে। কারন এই জেলায় পাচটি উপজেলা রয়েছে বলে এটিকে দ্বিতীয় শ্রেণির জেলা বলা হয় ।

 

 

এছাড়া গাজীপুরকে বিশেষ শ্রেণির জেলার মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। নারয়নগঞ্জ কী গাজীপুর থেকে কোনো অংশে কম। আমরা কী সরকারের কোষাগারে রাজস্ব কম দিয়ে থাকি। আমাদের জেলার মধ্যে যে ছয়টি নদী রয়েছে এই নদী গুলো কলকারখানার বর্জ্যে দূষিত হয়ে মরা ড্রেনে পরিনত হয়েছে। এভাবে আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েও কোষাগার পূর্ণ করার পরেও আমরা দ্বিতীয় শ্রেণির জেলায় পরে আছি।

 

 

কাউকে ছোট করার জন্য আমাদের এই মানববন্ধন নয়। আজ থেকে প্রায় সাত মাস পূর্বে চাষাড়ার ডাক বাংলোটি এবং পুলিশ ফাড়ির যে অংশটি দীর্ঘ সংগ্রামের পর তারা সড়িয়ে নিয়েছিল। কিন্তু আজ প্রায় সাত মাস কোনো কতৃপক্ষ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, জেলা পরিষদ এমনকি সিটি করপোরেশন এর কোনো প্রয়োজন অনুভব করলেন না।

 

 

যেভাবে তারা সড়িয়ে নিয়েছে সেভাবেই জায়গাটা পরে রয়েছে। সেখানে প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনা ঘটছে। আজ থেকে ১৫ দিন পূবে সেখানে এক যুবক দূর্ঘটনার কবলে পরে মৃত্যু বরণ করেছে। আমরা আজকের এই সভা থেকে আহ্ববান রাখবো অতি দ্রুত এই সড়কটি পাকা করন করতে হবে। যাতে এই দূর্ঘটনা থেকে আমরা রক্ষা পাই এবং যান চলাচলে আরো বেগবান হয়।

 

 

সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলেছে চাষাড়া থেকে গঞ্চবটি পযন্ত ছয লাইনের রাস্তা করা হবে। যখন ছয় লাইনের এই রাস্তা করা হবে সেইদিন কী এই ডাক বাংলো এবং পুলিশ ফাড়ির রাস্তা এই রকম পরিত্যক্ত থাকবে। আজকে যেহেতু জায়গাটি পরিত্যক্ত হয়ে রয়েছে সে রাস্তাটি অনতবিলম্বে পাকা করে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হোক।

 


 
আজকে যেভাবে স্বাভাবিক ভাবে গাড়ি ও জনগন চলাচল করছে প্রতিদিন যেনো এই ভাবেই রাস্তাগুলো দিয়ে চলাচল করতে পারি। আজকে নারায়ণগঞ্জে পাচটি জায়গায় যানজট অনেক ঘনীভূত হয়েছে । মীর জুমলা রোডকে প্রশাসক সাহেব ইজারা দিয়েছেন। ১ কোটি টাকা ইজারা দিয়েছেন।

 

 

কেন এই ১ কোটি টাকা ছাড়া কী সিটি করপোরেশন চলে না। এই রোডে বিভিন্ন ধরনের দোকানের হাট বসেছে। আমি সংশ্লিষ্টের কাছে বিনীত অনুরোধ রাখবো এই রাস্তাটাকে যান চলাচল এবং জন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এছাড়াও সিরাজউদ্দৌলা সড়কটির দুপাশে ফুটপাত দখল করে দোকান তো বসেছেই এমনকি রাস্তার মাঝ খানে টলি গাড়ি বসিয়ে সেখানে তারা ব্যবসা করছে। সেখানে কোনো গাড়ি, মানুষ হাটতে পারে না।

 

 

এই হকারদের সেখান থেকে উচ্ছেদ করে তাদেরকে কীভাবে পূর্ণবাসিত করা যায় তা ভাবতে হবে। বঙ্গবন্ধু সড়কও আজকে হকারদের দখলে চলে গেছে। মন্ডলপারা থেকে নিতাইগঞ্জ পযন্ত ট্রাক এবং কভার্ড ভ্যানের রাজত্ব চলছে। তারা দুই, তিন লাইন এমনকি চার লাইন করেও মাল উঠা নামা করে। কেনো রকমে একটি গাড়ি সেখানে চলতে পারে। বাকি রাস্তা তারা দখল করে জনগনকে দূর্ভোগের শিকারে ফেলছে।

 

 

তাই আমি অনুরোধ রাখবো এই রাস্তাটি যাতে যানজট মুক্ত হয়। আমি ডিসি এসপির কাছে অনুরোধ রাখবো ফুটপাত গুলো যাতে হকার মুক্ত থাকে। এসপি হারুন সাহেব যদি রাস্তা যানজট মুক্ত রাখতে পারে তাহলে আপনি কেন পারেন না আপনার কাছে তো সেই লোকজন আছে,যানবাহন আছে আপনি আইন দ্বারা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত তার পরও আপনি কেনো পারছেন না।

 

 

এটা অবশ্যই আপনার ব্যর্থতা। তো আপনার এই ব্যর্থতা ঢাকার জন্য ফুটপাত হকার মুক্ত রাখা উচিত। এছাড়াও ব্যাটারি চালিত রিকশা গুলো দিব্যি চলাচল করছে। প্রেডেল চালিত রিকশাগুলো যদি অনুমোদন দিয়ে মূল সড়ক গুলোতে চলতে দেওয়া হয় তাহলে কেন ব্যাটারি চালিত রিকশা গুলোকে অনুমোদন দেওয়া হয় না। তাহলে যানজট আরো মুক্ত হবে ইনশাল্লাহ।

 

 

আমরা সকলেই ব্যাটারি চালিত রিকশায় চলাচল করি কিন্তু এটা অবৈধ ভাবে চলাচল করছে। মাসিক হারে কার্ড দিয়ে চলছে তারা। তো কারা এই কার্ড দেয়। তাই আমরা বলবো এগুলোকে আইনি শৃঙ্খলায় নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে রাস্তায় চলাচলের সুযোগ করে দেওয়া হোক। যাতে শৃঙ্খলায় ফিরে আসে।

 

 

বঙ্গবন্ধু সড়ক হতে ডিআইটি পযন্ত বিভিন্ন ডায়াগনিস্টিক সেন্টারের পাশে অবৈধ ভাবে মোটর সাইকেল বসে থাকে ঘন্টার পর ঘন্টা। সেখানেও মানুষ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। এমন কি ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের সামনেও ২০ টার মতো অটোরিকশা দাড় করিয়ে রাখে। এগুলোকে সড়িয়ে দিতে হবে। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জের প্রায় সপ্তাহখানেকের মতো গ্যাসের সমস্যা আমি তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে বলবো গ্যাসের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করুন।

 

 


বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহর আলী চোধুরী বলেন, এই নারায়ণগঞ্জ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। অবৈধ দখল, শহর অপরিছন্ন, সুস্থ সুন্দর যাতায়াত ব্যবস্থা ,পানি , বিদ্যুৎ, ড্রেন অপরিস্কার, মাদক সব দিক দিয়ে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। আমরা কি দাবি আদায় করতে পারি না। আমরা কি যুদ্ধে জয় লাভ করি নাই।

 

 

আজকের প্রশাসনকে আমি সরন করে দিতে চাই মনে করুন জানার চেষ্টা করুন তারা কি করতে পারে। কতগুলো গুরুতপূর্ণ দাবী ঝুলে আছে এটা কেনো হবে। আপনারা কি চাইছেন আমরা সকলে নিয়ে রাস্তায় নামি। যদি সকলকে নিয়ে রাস্তায় নামি তখন যদি কিছু হয়ে যায় তাহলে আপনারা দায়ী থাকবেন। গাজীপুর যদি মেটোপলিটন সিটি হতে পারে তাহলে আমার নারায়ণগঞ্জ কি দোষ করছেন। আমাদের দাবী মানা না হলে আমরা রাস্তায় নামবো।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন