# আশেপাশে উচ্ছেদ করলেও চোখে পড়েনি ইউপি চেয়ারম্যানের মার্কেট
# সওজের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
# বিষয়টির প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো : নির্বাহী প্রকৌশলী
# এখানকার দোকানীরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে : ইউপি চেয়ারম্যান
গত ১০ অক্টোবর উদ্বোধন করা হয় শীতলক্ষ্যা নদীর উপর নির্মিত তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু। যা নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রয়াত সংসদ সদস্য একেএম নাসিম ওসমানের নামে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম নাসিম ওসমান সেতু’ নামকরণ করা হয়। আর এই সেতু চালু হওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই এর সাথে সম্পৃক্ত সড়কগুলো প্রশস্ত করার প্রয়োজন পড়ে। সেই সূত্র ধরেই মদনগঞ্জ-মনদপুর সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু সেই প্রজেক্টটি অনেক বড় ও সময় সাপেক্ষ হওয়ায় আপাতত সমস্যা সমাধানে দুই পাশে তিন ফুট করে ছয় ফুট প্রশস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় সড়ক ও জনপথ (সওজ) নারায়ণগঞ্জ বিভাগ।
সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সড়কের পাশে থাকা স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে সওজ। মদনগঞ্জ হতে মদনপুর পর্যন্ত সড়কটি ২৫ মিটার প্রশস্তের লক্ষ্যে উভয় পাশে সমান দুরত্ব বজায় রেখে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেয় সংস্থাটি। অনেকেই স্বউদ্যোগে তাদের স্থাপনা সরিয়ে নেয় এবং বাকিগুলো সওজ’র উদ্যোগে ভেঙে দেওয়া হয়। কিন্তু নবীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের চৌরাস্তা এলাকার দক্ষিণ-পশ্চিম কোনে (মূল সড়কের পশ্চিম পাশে) সরকারী জায়গায় অবস্থিত একটি বিশাল মার্কেট এখনও দাঁড়িয়ে আছে সদর্পে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায় মার্কেটটি স্থানীয় এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন আহমেদের। তার কাছ থেকে বড় মাপের আর্থিক উপঢৌকন পেয়ে কিছু অসাধু কর্মকর্তা আশেপাশের সব কিছু উচ্ছেদের চেষ্টা চালালেও তাদের চোখে পড়েনি এমন বিশাল একটি মার্কেট। এমনকি একই এলাকায় সড়কের দক্ষিণ-পূর্ব কোনে (মূল সড়কের পূর্ব পাশে) থাকা বেশ কয়েকটি স্থাপনা উচ্ছেদ করার পর গত দু’তিন দিন যাবৎ আবারও পুণঃনির্মাণ করা হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায় এই স্থাপনাও একই চেয়ারম্যানের লোকজনের। তাই নির্মাণ করতে কোন অসুবিধা হচ্ছে না।
সম্প্রতি বেশ কয়েকটি মিডিয়ায় এই উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে সওজের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসিম ওসমান সেতুর উদ্বোধনের পর থেকেই সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতায় পুরোদমে চলছে মদনগঞ্জ-মদনপুর সড়কেরও উন্নয়ন কাজ। কিন্তু বৃহৎ সড়কের দু’পাশের সরকারি জায়গা থেকে সকল প্রকার স্থাপনা উচ্ছেদ নিয়ে চলছে সড়ক ও জনপথের ভেল্কিবাজী চলছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠে। যার কারণে এখানকার অনেক পরিবারেরই পথে বসার উপক্রম হয়ে পড়েছে বলেও দাবি করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
১২কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের দু’পাশে দীর্ঘ দিন যাবৎ স্থাপনা নির্মাণ করে ব্যবসা করে আসছে বলে জানান তারা। এখানে কিছু কিছু জায়গা আবার বিভিন্ন নামে লীজ নিয়েও স্থাপনা তৈরি করা হয় বলে জানান অনেক ভূক্তভোগী। কিন্তু বীরমুক্তিযোদ্ধা নাসিম ওসমান সেতুকে কেন্দ্র করে সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ হতে সড়ক প্রশস্ত করণের জন্য স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। তারা প্রাথমিক অবস্থায় ৩ফিট করে দু’পাশে ৬ফিট ছেড়ে দেয়ার কথা বললেও পরবর্তীতে ৬ ফিট করে ১২ফিট করে ছাড়তে বলেন। কিন্তু দ্বিতীয় দফা ভাঙ্গার পরও সওজ’র লোকজন তাদেরকে তৃতীয়বারে আবারও কয়েক ফুট দূরে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। পর পর তিন দফা স্থাপনা পিছিয়ে নেয়ার কারণে দোকান মালিকদেরকে ব্যাপক ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। এদিকে বার বার দোকান উচ্ছেদ করায় সেখানকার সাধারণ দোকানীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
এই বিষয়ে মিডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সওজ’র দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন আহমেদ বলেন, এই সড়কটির দুইপাশে দোকানদারী করে বেশ কয়েকটি সংসার চলছে, তারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সড়কের জন্য যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু ছেড়ে দিয়ে তারা নতুন করে দোকান মেরামত করে আবারও ব্যবসা শুরু করার প্লান করেছে এবং অনেকে শুরুও করেছে। তাই কর্তৃপক্ষ তাদের যতটুকু জায়গা দরকার তার চেয়ে বেশি নিলে এই ভাঙার কারণে এরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে। দেখা যাবে ৬ মাস পর তারা পুনরায় এখানে দোকানপাট তুলে ব্যবসা করছে। মাঝখান থেকে কিছু লোক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দোকানপাট ভেঙে খালি জায়গা তৈরি করা, আবার কিছুদিন পর সেই জায়গা দখল করা, তা না করে একেবারে নির্দিষ্ট করে দিক। যেন বারেবারে তারা ক্ষতিগ্রস্থ না হয়।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নারায়ণগঞ্জ অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহানা ফেরদৌস বলেন, আমরা সড়কটি প্রশস্ত করণের জন্য সড়কের সেন্টার থেকে দুই পাশে সাড়ে ১২ মিটার করে ২৫ মিটার জায়গা ছেড়ে দিতে নোটিশ দিয়েছি। আমরা কোন জায়গা বারেবার ভাঙ্গার কথা বলিনি। অনেকে তাদের স্থাপনা আমাদের নির্দেশনা না মেনে অল্প জায়গা ছেড়ে স্থাপনা সরিয়ে নেয়, তাই আমরা তাদের জায়গা নির্দিষ্ট সীমানা থেকে সরিয়ে নিতে বলেছি। স্থানীয় চেয়ারম্যানের মার্কেট ভাঙার বিষয়ে এবং সওজের কর্মকর্তাদের আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি বিষয়টি জানি না।
তবে আগামীকাল আমি সেখানে লোক পাঠিয়ে খবর নিব। কারও কোন অনিয়ম ধরা পড়লে কিংবা কেউ কারও বিরুদ্ধে কোন প্রমাণসহ অভিযোগ দিতে পারলে আমরা অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। তিনি আরও বলেন, আমাদের পক্ষ হতে তাদের স্থাপনা সরিয়ে নিতে বারবার আলাদা কোন সীমানার কথা বলা হয়নি। বর্তমান সড়কের মাঝখান থেকে দুই পাশে সাড়ে বারো মিটার করে জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্য তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী আমাদের লোকেরা নির্দিষ্ট সীমানা নির্ধারণ করে চিহ্নও দিয়ে এসেছে। যারা এই নির্দেশ না মেনে তাদের স্থাপনা ভেঙে ৩/৪ ফুট দূরে সরিয়ে নিয়েছে তাদেরকে বলা হয়েছে নির্দিষ্ট সীমানা পর্যন্ত খালি করতে। তবে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান তিনি।
এস.এ/জেসি


