আইভীর উপর হামলার বিচার হয়নি চার বছরেও
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৩, ০৪:০২ পিএম
# তৃতীয় মেয়াদে মেয়র হিসেবে সিটি নির্বাচনের এক বছর পার করলেন জনপ্রিয় এই নেত্রী
প্রতিবাদী মানুষের সাহস সাধারণ মানুষের ভবিষ্যৎ মসৃণ করে। আর এটি করতে গিয়ে নিজে মৃত্যুমুখে পড়েও প্রতিবাদী কণ্ঠসর বিসর্জন দেয়না। নারায়ণগঞ্জের মানুষ ভাগ্যবান যে যুগের পর যুগ চলমান অন্যায়, খুন, রাহাজানি আর অনাচারের বিরুদ্ধে ত্রাতা হিসেবে তারা একজন আইভীকে পেয়েছে।
২০১৮ সালের ১৭ ডিসেম্বরের সকালে খবরের পাতায় সারাদেশের মানুষ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় নারায়ণগঞ্জের আইভীর খবরটিই খুঁজছিলেন। কেননা অদম্য আইভীকে থামাতে না পেরে এর আগেরদিন ১৬ জানুয়ারি হকার ইস্যুতে প্রতিবাদ করতে রাজপথে নামায় তাকে হত্যা চেষ্টা করা হয়।
আশার কথা, দুর্দান্ত সাহসী আইভীকে রক্ষায় নারায়ণগঞ্জবাসী যেভাবে মানবঢাল তৈরি করে সেদিন প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল সে ছবি দেশের বাইরেও মানুষের মনে দাগ কেটেছে। আইভী কী করে নারায়ণগঞ্জের মানুষকে জিম্মি দশা থেকে মুক্ত করতে সন্ত্রাস-হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে সেই কথাও মানুষ জানতে পেরেছে।
সময় গড়িয়েছে তবে আক্ষেপ কমেনি। ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি আইভীর উপর হত্যা চেষ্টা করার পরও একের পর এক আক্রমন অব্যাহত রেখেছে সেই অশুভ চক্রটি। সেই ঘটনার চার বছর অতিক্রান্ত হলেও আইভী কিংবা নারায়ণগঞ্জবাসী পায়নি তাদের জননন্দিত মেয়রের উপর প্রকাশ্য হামলা করে হত্যা চেষ্টার বিচার।
বিচার তো দূরের কথা থানায় মামলা করতে না পেরে এক বছর ঘুরে আদালতে মামলা করলেও গ্রেফতার হয়নি কেউ। ঘটনার দিন প্রকাশ্য পিস্তল উঁচিয়ে গুলি করতে যাওয়া নিয়াজুল কিংবা পিস্তল নিয়ে প্রকাশ্যে আতঙ্ক ছড়ানো শাহ নিজাম কাউকেই আনা হয়নি বিচারের আওতায়।
এ ঘটনার পরও আইভীকে দমাতে কম চেষ্টা হয়নি। সর্বশেষ ২০২২ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে আইভীকে থামাতে ওলামা পরিষদের উদ্ভট বিশৃঙ্খল কার্যক্রম এবং সনাতন ধর্মালম্বীদের কিছু নেতার বিশেষ নির্দেশে শহরকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা সেগুলোরও কোন বিচারের আওতায় আসেনি।
তবে সকল অপশক্তিকে পাশ কাটিয়ে জনগণই আইভীকে আবারও তাদের নেত্রী নির্বাচিত করেছেন। আপন আলোয় উজ্জল হয়েছেন মেয়র আইভী। ২০২২ সালের ১৭ জানুয়ারি ছিল আইভীর হ্যাট্রিক মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার প্রথম সকাল। হ্যাট্রিক মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর অত্যন্ত দক্ষ নেতৃত্বে একবছর দায়িত্ব পালন করেছেন মেয়র আইভী। তবে এক বছর পূর্তির আগে আক্ষেপ নিয়েই মেয়র আইভী ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারির ওই ঘটনায় পিস্তল তাক করা দুই ব্যক্তিকে অস্ত্র মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ায় আক্ষেপ করেছেন। এবং তিনি এব্যাপারে আদালতে নারাজিও দেবেন বলে জানান।
চলতি মাসের ৭ জানুয়ারি এক অনুষ্ঠানে মেয়র আইভী বলেন, ‘এক শ্রেণির কর্তৃত্ব এবং রাজত্ব মেনে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের মানুষ চলছে। ভবিষ্যতে এমনও হতে পারে নারায়ণগঞ্জের রাজধানী কুমিল্লা হয়ে যায় কি না? আবার নামও পরিবর্তন হতে পারে! মাঝে মাঝে মনে হয় নারায়ণগঞ্জের নাম পরিবর্তন করে ওসমান নগরী হলে আরও ভালো হত।
তারপরেও তাদের এত অত্যাচার, অবিচার অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ভাবে রুখে দাঁড়িয়েছে নারায়ণগঞ্জবাসী। কারণ দীর্ঘদিন যখন রাজার অত্যাচার বাড়তেই থাকে তখন ক্ষোভে প্রজারা অনেক শক্তিশালী হয়ে উঠেন। সেই শক্তিশালী প্রজা ইতোমধ্যে এই শহরের মানুষ দেখেছে ।
২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারির কালো অধ্যায়ের ঘটনা সকলেরই মনে আছে। ওই দিন মাসুম ভাইসহ অনেকেই আহত হয়ে ছিলেন। সেদিন আমাকে মারার জন্য গুলি করা হয়েছিল। তখন আমার কিছু অকুতভয় কর্মী মানবঢাল তৈরী করে আমাকে বাঁচিয়ে ছিল।
জানেন ওই ঘটনার রিপোর্ট পুলিশ কি দিয়েছে ? অস্ত্রধারী নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজামের অস্ত্র দেখেছে কিন্তু সেই অস্ত্রকে লাইসেন্স করে আপাতত তাকে পাওয়া গেল না বিধায় কিংবা তার সাক্ষাৎ না পাওয়া অস্ত্র মামলা থেকে খালাস দেয়া হলো।
গত ৩ দিন আগে পুলিশ এই রিপোর্ট দিয়েছে। আমরা আদালতে সেই রিপোর্টে নারাজি দিয়েছি। মামলার জন্য থানায় দুই বছর ঘুরেছি এই ঘটনায় পুলিশ মামলা নেয় নাই। পরে আমরা হাই কোর্টের অনুমতি নিয়ে মামলা করেছি। আর এখন অনেকে অনেক কিছু বলে। এই সামলাও, ওই সামলাও।
এদিকে এমন ঘটনা ঘটায় আক্ষেপ নারায়ণগঞ্জবাসীরও। আইভীর হাত ধরেই নারায়ণগঞ্জে অস্ত্রের ঝনঝনানি ও খুন-খারাবি অনেক কমে এসেছে। সরকার দলীয় মেয়রের উপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার সঠিক বিচার হবে এমনটাই প্রত্যাশা ছিল সকলের।
তবে এই মামলার তদন্তকারী সংস্থা আবেদন করেছে, ঘটনার সময় ধারণ করা ভিডিও পর্যবেক্ষণে ২ আসামির হাতে পিস্তল দেখা যায়। একজনের নামে লাইসেন্স থাকলেও অপরজনের ছিল না। তদন্তে এমনটা পেলেও অভিযোগপত্রে ২ আসামিকেই অস্ত্র আইনের ধারা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক।
অভিযোগপত্রে তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, পিস্তল জাতীয় আগ্নেয়াস্ত্র ভিডিও ফুটেজে দেখা গেলেও আসামি জামিনে থাকায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে না পারায় অস্ত্রটি উদ্ধার করা যায়নি। অপরজনের অস্ত্রটি তার নামে লাইসেন্স করা। এ কারণে তাদের অস্ত্র আইনের ধারা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
গত ২৩ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল হয়। অস্ত্র আইনের ধারা থেকে আসামিদের অব্যাহতি দেওয়ায় অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি দেবেন বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তিনি বলেন, ভিডিও ফুটেজে অস্ত্র দেখা গেছে। এসব ফুটেজ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে সারা পৃথিবীর মানুষ তা দেখেছে। আসামি পক্ষের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে তদন্তকারী সংস্থা এমন অভিযোগপত্র আদালতে জমা দিয়েছে।
২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে হামলা হয়। এতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, আওয়ামী লীগ নেতা ও সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনায় সিটি মেয়র নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি অভিযোগ দিলে তা সাধারণ ডায়েরি হিসেবে রেকর্ড করা হয়।
ঘটনার ২২ মাস পর আদালতের নির্দেশে এটিকে মামলা হিসেবে গ্রহণ করে পুলিশ। মেয়র আইভীর পক্ষে মামলার বাদী হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা জিএম সাত্তার। ওই মামলায় সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের অনুসারী ৯ ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৯০০-১০০০ জনকে আসামি করা হয়।
মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। দীর্ঘসময় তদন্ত শেষে গত ২৩ নভেম্বর মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। অস্ত্র আইনের ধারা থেকে অব্যাহতি দিলেও হত্যাচেষ্টা, জখম, ভাঙচুর ও নাশকতা সৃষ্টির অভিযোগে পেনাল কোডের একাধিক ধারায় ১২ জনকে অভিযোগপত্রে আসামি করেছে পিবিআই।
এ ছাড়া, এজাহারে থাকা আসামির তালিকা থেকে ৭ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, যুবলীগ নেতা নিয়াজুল ইসলাম খান, হকার নেতা রহিম মুন্সি, আসাদুল ইসলাম ওরফে আসাদ, সায়মন, ইকবাল হোসেন, মাসুদ পাটোয়ারী ওরফে শুক্কুর, তোফাজ্জল, পলাশ মিয়া, মহসীন বেপারী, সালাউদ্দিন ওরফে সালাউদ্দিন গাজী এবং সাদেকুল ইসলামকে। তাদের মধ্যে কেবল শাহ নিজাম ও নিয়াজুল ইসলাম খান এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন। বাকিরা এজাহার বহির্ভূত আসামি। আসামিরা সবাই নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ অনুসারী।
এজাহারভুক্ত আসামি মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া সাজনু, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি জুয়েল হোসেন, যুবলীগ নেতা জানে আলম বিপ্লব, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সুজন, যুবলীগ কর্মী নাসির উদ্দিন ওরফে টুন্ডা নাসির ও চঞ্চল মাহমুদকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করেছে পিবিআই। তাদের মধ্যে মিজানুর রহমান সুজন ২০১২ সালের ৯ জানুয়ারি মারা গেছেন।
মামলার বাদী জিএম সাত্তার বলেন, ‘শহরের ফুটপাত হকারমুক্ত করার উদ্যোগের একপর্যায়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান হকারদের পক্ষে অবস্থান নেন। তবে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ফুটপাত দখলমুক্ত করে দিতে নির্ধারিত সময় বেঁধে দেওয়া হয়।
সময় পেরিয়ে গেলেও হকাররা ফুটপাত না ছাড়লে মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী শান্তিপূর্ণ মিছিল নিয়ে চাষাঢ়ার সায়াম প্লাজার সামনে এলে হামলার শিকার হন। এসময় এক নম্বর আসামি নিয়াজুল ইসলাম খান ও ২ নম্বর আসামি শাহ নিজামসহ অন্যান্য সন্ত্রাসীরা গুলি করেন। মেয়র আইভীকে মানবঢাল তৈরি করে রক্ষা করা হয়।
অভিযোগপত্রে পিবিআই উল্লেখ করেছে, মামলাটি শুরুতে সদর মডেল থানা পুলিশ তদন্ত করে। পরে তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। মামলার তদন্তে নিয়াজুল ইসলাম খান ও শাহ নিজামের হাতে ঘটনার দিন পৃথক দুটি আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলে জানা যায়। ঘটনাস্থলে ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করেও আসামিদের হাতে পিস্তল দেখা যায়।
তবে তদন্তে জানা যায়, নিয়াজুল ইসলাম খানের পিস্তলের লাইসেন্স রয়েছে। ঘটনার দিন ওই পিস্তলটি গুলিসহ খোয়া যায় বলে তার ভাই রিপন থানায় একটি জিডিও করেছিলেন। পরবর্তীতে ৭ দশমিক ৬ বোরের পিস্তলটি ঘটনাস্থলের অদূরে একটি ফুলের টবের ভেতর পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ১০ রাউন্ড গুলিসহ উদ্ধার করে পুলিশ। পিস্তলটির প্রকৃত মালিক নিয়াজুল ইসলাম খান হওয়ায় অস্ত্র আইনের ১৯ (ক) ধারায় তার বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ করা যায়নি বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছে পিবিআই।
শাহ নিজামের হাতে থাকা পিস্তলের বিষয়ে পিবিআই অভিযোগপত্রে জানিয়েছে, শাহ নিজামের নামে একটি বন্দুকের লাইসেন্স থাকলেও পিস্তলের লাইসেন্স নেই। ভিডিও ফুটেজে আসামি শাহ নিজামকে বিনা লাইসেন্সে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও পিস্তল জাতীয় আগ্নেয়াস্ত্র নিজ দখলে রাখতে দেখা গেলেও আসামি জামিনে থাকায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়নি। ফলে ওই অস্ত্র সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করাও সম্ভব হয়নি। তদন্তকালে অস্ত্রটি উদ্ধারও সম্ভব হয়নি।
এ কারণে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনের ১৯ (ক) ধারায় অপরাধ প্রমাণ করা যায়নি। একইসঙ্গে মেয়র আইভীকে হত্যার উদ্দেশ্যে ওই ২ আসামি গুলি করেছেন বলে এজাহারে উল্লেখ থাকলেও তদন্তে এ সংক্রান্ত কোনো আলামত ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি এবং পরবর্তীতেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পিবিআই।
মামলার তদন্তে এজাহারভুক্ত ২ জনকে অভিযুক্ত করে বাকি ৭ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদেরকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। অজ্ঞাত এক হাজার আসামির মধ্যে ১০ জনকে চিহ্নিত করা গেছে বলেও অভিযোগপত্রে জানায় পিবিআই।
পিবিআই বলছে, ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তার আত্মীয়-স্বজনসহ শান্তিপূর্ণভাবে শহর প্রদক্ষিণ করার সময় বঙ্গবন্ধু সড়কের সায়াম প্লাজার সামনের রাস্তায় পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।
একইসঙ্গে এক নম্বর ও ২ নম্বর আসামি যথাক্রমে নিয়াজুল ইসলাম খান ও শাহ নিজাম তাদের কাছে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র মেয়র আইভীর দিকে তাক করে প্রাণনাশের হুমকি দেন। আসামিরা সেদিন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র হাতে বাদীপক্ষের ওপর হামলা চালিয়ে ৮৪ জনকে মারাত্মকভাবে জখম করে। তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ১৪৩, ১৪৪, ১৪৯, ৩২৩, ৩০৭, ৫০৬ (২) ও ৩৪ ধারায় অপরাধ সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে।
মামলার বাদী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা জিএম সাত্তার বলেন, ‘অস্ত্রের বিষয়টি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। অথচ অস্ত্র আইনের ধারা থেকে আসামিদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এর বিরুদ্ধে আমরা নারাজি দেবো। আগামী ২৯ জানুয়ারি এই মামলার শুনানির তারিখ আছে। সেদিন আদালতে আমরা নারাজির আবেদন জানিয়ে মামলাটি পুনরায় সুষ্ঠু তদন্তের আবেদন জানাব।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই নারায়ণগঞ্জের পরিদর্শক আতাউর রহমান বলেন, ‘ঘটনার তদন্তে যতটুকু পাওয়া গেছে সেটাই অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। আসামি নিয়াজুল ইসলাম খানের কাছে থাকা অস্ত্রটি তার নামে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ছিল। ঘটনার দিন ওই অস্ত্র দিয়ে কাউকে আঘাত করা হয়েছে এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, শাহ নিজামের অস্ত্রটি ভিডিওতে দেখা গেলেও সেটি উদ্ধার করা যায়নি বলে অস্ত্র আইনের ধারায় তাকেও সংযুক্ত করা যায়নি। তবে আসামিদের বিরুদ্ধে হুমকি, হত্যাচেষ্টা, জখম, নাশকতা ও ভাঙচুরসহ অরাজকতার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
এ বিষয়ে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি বলেন, ‘সেদিন মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর ওপর সশস্ত্র হামলা করে শামীম ওসমানের অনুগত বাহিনী। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে অস্ত্রসহ হামলার ছবি ছাপা হওয়ায় সারাদেশের মানুষ তা দেখেছে। এমন অভিযোগপত্র ওসমান পরিবারের প্রতি পুলিশ এখনো অনুগত বলেই প্রমাণ করে। তারা একটি পরিবারের হয়ে কাজ করে বলেই এমন প্রতিবেদন দিয়েছে।
হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে এই সংঘাতের ঘটনায় পুলিশের করা মামলায় আসামিদের কাউকে শনাক্ত করা যায়নি উল্লেখ করে আগেই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। একই ঘটনায় জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি একাধিকবার মেয়াদ বাড়ালেও আলোর মুখ দেখেনি সেই তদন্ত প্রতিবেদনের। তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া কর্মকর্তারা পর্যায়ক্রমে জেলা থেকে অন্যত্র বদলি হয়ে যাওয়ার পর এ নিয়ে আর কোনো আলোচনাও হয়নি। যদিও এই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল সরকারের ঊর্ধ্বতন মহল।


