ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জে অবৈধ ফার্মেসির ছড়াছড়ি
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৩, ০৫:০৫ পিএম
ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে গড়ে উঠেছে অনুমোদনবীহিন ফার্মেসী। একই সাথে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ফার্মেসী গড়ে উঠেছে। শহরের বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানির ফার্মেসীগুলোতে কিছুদিন চাকুরির সুবাধে নিজ এলাকায় গড়ে তুলেন নাম সর্বস্ব ফার্মেসী।
ড্রাগিষ্টের কোন ধরনের অনুমতি ব্যতিত অবৈধ এ ফার্মেসীগুলো থেকে ঔষধ সরবরাহ করায় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে স্থানীয় মানুষ। সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন মিজমিজি সিআই খোলা এলাকায় অবৈধ ভাবে গড়ে উঠেছে শতাধিক ঔষধের ফার্মেসী। প্রশাসনের তদারকি না থাকার কারণে এসব ফার্মেসী ব্যবসায়ীরা দিনদিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
এছাড়া আবার অনেকের ফার্মাসিস্ট কোর্স করা নেই। অনেকের ঔষধের যে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই সেই বিষয়ে অনেকের আবার জ্ঞান নেই। ভেজার ঔষধ বিক্রির দ্ধায়ে মাঝে অভিযান পরিচালনা হলে তা জরিমানা পর্যৗল্প সিমাবদ্ধ। এদিকে অভিযোগ রয়েছে. ফার্মেসী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অবৈধ ইন্ডিয়ান ঔষধ বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সিআই খোলা এলাকায় গিয়ে দেখা যায় যত্রতত্র ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠেছে শতাধিক ঔষধের ফার্মেসী। সরকারী কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এসব অসাধু ব্যবসায়ীরা দেদারছে ব্যবসা করে যাচ্ছে। আর এতে করে স্থানীয়রা অপচিকিৎসার ভোগান্তিতে পরছে।
খোজঁ নিয়ে জানাযায়, ফতুল্লাল ভোলাইল, কুতুবপুর এনায়েত নগর এলাকার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ফার্মেসির ছড়াছড়ি রয়েছে। একই সাথে সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ফামেসি গড়ে উঠেছে। আর যেসব ফার্মেসী কোন ধরনের বৈধ কাগজ পত্র নাই সেগুলো হলো, সিয়াম ফার্মেসী মালিক আলম পাটোয়ারী, পারভীন ফার্মেসী, ওয়াসীম মিয়া, সাদ ফার্মেসী মালিক আঃ রহমান সরকার।
নুরুন নাহার মেডিকাল হল মালিক মোতাহার হোসাইন, সিনহা মেডিকেল কর্নাও মালিক আব্দুস সালাম, চাঁদনী মে হল মালিক জামাল উদ্দিন, মুন্সি ফার্মেসী মালিক নুরুজ্জামান, মা ফার্মেসী মালিক আঃ মোতালেব, মক্কা ফার্মেসী মালিক ছারোয়ার হোসেন, মা মনি ফার্মেসী মালিক ছাত্তার মিয়া, আস্ সেফা ফার্মেসী মালিক ছানাউল্যাহসহ অনেকেই ড্রাগ লাইসেন্স ছাড়া অবৈধ ভাবে ফার্মেসীর ব্যবসা করে যাচ্ছে।
এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২ হাজার ১০৩টি ফার্মেসি রয়েছে। এছাড়া তার বাহিরে বিনা লাইসেন্স ও শিক্ষাগত যোগ্যতাবিহীন ফার্মেসিস্ট ছাড়াই কয়েক হাজার ফার্মেসি গড়ে উঠেছে। লাইসেন্সধারী বেশিরভাগ ফার্মেসিগুলোর ড্রাগ লাইসেন্স থাকলেও এক তৃতীয়াংশ লাইসেন্স পুনরায় নবায়ন করা হয়নি।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, রোগীদের মানসম্পন্ন ঔষধ পাওয়ার এবং ঔষধের যৌক্তিক ব্যবহারের সুযোগ বৃদ্ধি করতে ফার্মেসি এবং ঔষধের দোকান স্থাপন ও পরিচালনার জন্য নির্দেশিকা রয়েছে। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী মডেল ফার্মেসিতে (লেভেল-১) কমপক্ষে একজন স্নাতক ডিগ্রিধারী ফার্মাসিস্ট থাকবেন, তাকে সাহায্য করবেন বাংলাদেশ ফার্মাসিস্ট কাউন্সিল থেকে প্রশিক্ষণ নেয়া বিভিন্ন পর্যায়ের ফার্মাসিস্ট।
মডেল মেডিসিন শপে (লেভেল-২) থাকবেন কমপক্ষে ডিপ্লোমাধারী ফার্মাসিস্ট। বাংলাদেশ ফার্মাসিস্ট কাউন্সিল থেকে প্রশিক্ষণ নেয়া বিভিন্ন পর্যায়ের ফার্মাসিস্ট তাকে সহায়তা করবেন। প্রশিক্ষণ নেই এমন কেউ ফার্মেসি বা ঔষধের দোকানে ঔষধ কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারবে না, এমন কঠোর নির্দেশনাও রয়েছে।
ঔষধ প্রশাসনের কড়া নির্দেশনা থাকলেও সরজমিনে কুতুবপুরের একাধিক ফার্মেসিতে ঘুরে ভিন্ন এক চিত্র দেখা যায়, ডিগ্রিধারী, ডিপ্লোমাধারী ফার্মাসিস্ট ও ড্রাগ লাইসেন্স ছাড়াই চলছে শত শত ফার্মেসি। ব্যবস্থাপত্র ছাড়া এসব ফার্মেসি থেকে বিক্রি হচ্ছে ঔষধ। অধিকাংশ ফার্মেসিগুলোতে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের ছারপত্র ও নেই।
এছাড়া বড় বড় ফার্মেসির ড্রাগ লাইসেন্স থাকলেও সেখানে নেই দক্ষ ফার্মাসিস্ট। কুতুবপুর ইউনিয়নে গড়ে ওঠা ফার্মেসিগুলোতে এই চিত্র দেখা যায়। লাইসেন্সবিহীন এসব ফার্মেসি থেকে নিন্ম আয়ের মানুষের চিকিৎসা গ্রহণের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে। কোনো ধরনের কেমিস্ট বা ফার্মাসিস্ট না থাকলেও সব ধরনের রোগের চিকিৎসা দেওয়া হয়।
শহরে মাঝে মধ্যে পরিদর্শন ও ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান পরিচালনা হলেও মোফাস্বলে তদারকির কার্যকর ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। নারায়ণগঞ্জ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতির পরিচালক শাহজাহান খান এ বিষয়ে বলেন, আমরা প্রায়ই প্রশাসনকে এ বিষয়ে জানিয়েছি লাইসেন্স বিহীন ফার্মেসির সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। প্রশাসন থেকে বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করা হয়। কিন্তু এই অভিযানের পরিমান প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এন.এইচ/জেসি


