সেলিম ওসমানের আল্টিমেটামে নীরব প্রশাসন
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৩, ০৭:০৩ পিএম
# ব্যবসায়ীরা জিম্মি থাকতে চায় না
# আল্টিমেটামের সময় শেষ
শহরের হোন্ডা ও জুট সেক্টর নিয়ন্ত্রণ গ্রুপকে ঠেকাতে জেলা প্রশাসককে ১৫ দিনের আল্টিমেটাম দিয়ে ছিল নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। গত সপ্তাহ দুয়েক আগে তখন তিনি এক সভায় ডিসি এসপিকে আল্টিমেটাম দিয়ে বলেছেন, জেলা প্রশাসক সাহেব, আপনি প্রশাসনের হেড। নারায়ণগঞ্জে র্যাব আছে, শিল্প পুলিশ আছে, গোয়েন্দা সংস্থা আছে, ১৫ দিনের মধ্যে হোন্ডাবাহিনী, জুট সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। কিছু বড় চুলওয়ালা ছেলেপেলের জন্ম হইছে। তারা উশৃঙ্খলভাবে হোন্ডা দিয়ে শোডাউন করে আমার গার্মেন্টস মালিকদের ফ্যাক্টরীতে ঢুকে ধমকা-ধমকি করে। এই উশৃঙ্খল ছেলেরা কোথা থেকে মোটরসাইকেল পায়, কার ফ্যক্টরিতে ঢুকে কে জুট নিয়ে দেয় তা দেখেন। ১৫ দিনের মধ্যে যদি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেন, তাহলে আমরা নারায়ণগঞ্জে ব্যবসা-বাণিজ্য স্থগিত করে দেবো।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের এমন হুঙ্কারের পর হোন্ডা বাহিনী থেকে শুরু করে বিসিকের জুট সেক্টর নিয়ন্ত্রণকারীরা নড়েচড়ে বসেছে। স্থানীয়দের মতে তারা এখন ঘাপটি মেরে বসে আছে। তবে জুট সেক্টর নিয়ন্ত্রণকারীদের থেকে ব্যবসায়ীরা মুক্তি পায় নাই। জুট সন্ত্রাসীদের কাছে তারা জিম্মি হয়ে আছে। এখানে জুট নিয়ন্ত্রণকারী সিন্ডিকেটের বাহিরে গিয়ে কোন গার্মেন্টস মালিক মাল বিক্রি করতে পারে না। এমনকি এই সিন্ডিকেটের বাহিরে গিয়ে কেউ টাকা দিয়ে ন্যায্য দামে জুট ক্রয় করে নিয়ে আসতে পারে না। কেননা এখানে প্রায় ১শ’ জনের বিশাল সিন্ডিকেট তৈরী করে জুট সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করে রেখেছে কিছু প্রভাবশালী মহলের লোকজন। তবে ব্যবসায়ীরা তাদের থেকে মুক্তি চায়।
অপরদিকে শহরের হোন্ডাবাহিনী নিয়ন্ত্রণের মাঝে জুট সেক্টর নিয়ন্ত্রণের কিছু ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। এদেরকে শহরের প্রভাবশালী পরিবার শেল্টার দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া এই চক্রের মূল হোতারা শহরের জুয়া, মাদককারবারির সাথে জড়িত রয়েছে বলে নগরবাসীর অভিযোগ। সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে শহরের এই অপকর্ম নিয়ন্ত্রণের সাথে কারা জড়িত রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কেন প্রশাসন ব্যবস্থা নেয় না। তাদের সাথে কারা জড়িত রয়েছে। আর এই চক্রের কাছে ব্যবসায়ীরা আর কত জিম্মি হয়ে থাকবে। ব্যবসায়ী মহল থেকে শুরু করে নাগরিক সমাজ চান তাদের অপকর্মের অধঃপতন হোক।
সেলিম ওসমান বলেন, হোন্ডাবাহিনীর সদস্যরা কে কীভাবে কোথা থেকে মোটরসাইকেল কিনলো, কীভাবে মোটরসাইকেল রাস্তায় নামে, কীভাবে বিকেএমইএ'র ফ্যাক্টরিতে ঝুট ব্যবসার সৃষ্টি হয়, যেটা নাকি নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছিল তারা কার শেল্টারে চলে। ব্যবসায়ীদের তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা লিখিতভাবে বিকেএমইএর কাছে জমা তাদের বিরুদ্ধে নাম সহ অভিযোগ জমা দিবেন। সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা রাখেন। ২০০০ সালে যেভাবে শক্ত হয়েছিলেন, সেভাবে শক্ত হন। সাদা পতাকা না, প্রয়োজনে লাল পতাকা নিয়ে আপনাদের দাবি আদায়ে রাস্তায় নামবো। নারায়ণগঞ্জে কোন জুট সন্ত্রাসী চলবে না। মোটরসাইকেল বাহিনী চলবে না।
জেলে প্রশাসকের উদ্দেশে তিনি বলেন, গোয়েন্দা সংস্থাকে ডাকেন। আপনারা নারায়ণগঞ্জকে পরিচালনা করার দায়িত্ব নিয়েছেন। এই জায়গায় কোনরকম ছাড় দেওয়া উচিত হবে না। তবে সেলিম ওসমানের এমন বক্তব্যের পর ব্যবসায়ীদের মাঝে আশার আলো ফিরলেও কিন্তু ১৫ দিন পার হয়ে যাওয়ার পর এখনো তেমন কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় সেই আশার আলোতে হতাশার বালি পড়েছে। তারা প্রশ্ন তুলেন শহরের এই সন্ত্রাস বাহিনীর বিরুদ্ধে কবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। ব্যবসায়ীরা নিজেদের মত করে ব্যবসা চালিয়ে যেতে চান। তারা কারো কাছে জিম্মি থাকতে চায় না।
এস.এ/জেসি


