Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

রূপগঞ্জে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ককটেল বিস্ফোরণ, আহত-১২

Icon

রূপগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০২৩, ০৪:৫১ পিএম

রূপগঞ্জে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ককটেল বিস্ফোরণ, আহত-১২
Swapno



রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল আনন্দ মেলায় দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মাঝে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। এসময় মেলায় আগত ব্যবসায়ী ও দর্শনার্থীদের মাঝে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।

 

 

রোববার (২৯ জানুয়ারী) দুপুরে গোলাকান্দাইল হাটে অবস্থিত আনন্দ মেলায় ঘটে এ ঘটনা। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, গত বিএনপির শাসনামলে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোলাকান্দাইল আনন্দ মেলার যাত্রাপালায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার পর থেকে মেলার অনুমোদন মিলেনি। পুরনো ঐতিয্য এ মেলা প্রতি বছর এ সময়ে মাসব্যপী হয়ে থাকে।

 

 

এ বছর স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও যুবলীগ মিলে মেলার আয়োজন করেন। মেলা গত এক সপ্তাহ ধরে চলে আসছিলো। মেলায় সার্কাস, মটরসাইকেল খেলাসহ নানা ধরনের বিনোদনসহ হরেক রকমের দোকান বসেছে। রোববার দুপুরে ভুলতা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ওমর ফারুকের লোকজন মেলায় একটি দোকান বসাতে গেলে গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি প্রার্থী ইমন হাসানের লোকজন বাধা দেয়।

 

 

এ নিয়ে উভয় গ্রুপের লোকজন বাকবিতন্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটায়। এক পর্যায়ে মেলা কমিটির লোকজন উভয় পক্ষকে দোকান বসাতে বাধা দিলে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের লোকজন ধারালো অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এসময় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মেলায় আতঙ্কের সৃষ্টি করা হয়।

 

 

দুই দফা সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে ভুলতা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ওমর ফারুক ও ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল রাজ্জাককে মুমুর্ষ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে, ককটেল বিস্ফোরণ ও সংঘর্ষের ঘটনায় মেলায় আগত ব্যবসায়ী ও দর্শনার্থীদের মাঝে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ভুলতা ফাঁড়ি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

 

 

এ বিষয়ে মেলা কমিটির পক্ষে গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন যুবলীগ সাধারন সম্পাদক আলামিন বলেন, গোলাকান্দাইল আনন্দ মেলাটি একটি ঐতিয্যবাহী মেলা। দীর্ঘ সময়ের পর এ বছর মেলাটি চালু করা হয়েছে। ছাত্রলীগের দ্বন্ধে মেলা বন্ধ করে দিলে আমরা মেলা কমিটি ফের মেলা চালু করেছি।

 

 

ভুলতা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ওমর ফারুক বলেন, আমরা একটি দোকান বসাতে গেলে সম্পূর্ণ অন্যায় ভাবে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ মিলে আমাদের লোকজনের উপর অতর্কিত হামলা করে অন্তত ১০ জনকে আহত করেছে। এ হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। সেই সাথে হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি করছি।

 

 

পাল্টা অভিযোগ করে গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি প্রার্থী ইমন হাসান বলেন, আমরা একটি দোকান বসাতে গেলে ওমর ফারুকসহ তার লোকজন অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমাদের উপর অতর্কিত হামলা করে আহতের ঘটনা ঘটিয়েছে। ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মাঝে মারামারি হয়েছে এটা সত্য ।

 

 

তাৎক্ষনিক পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল হক বলেন, জুয়া, যাত্রাপালা, হাউজিসহ অন্যায়মুলক কর্মকান্ড ব্যতিত মেলার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনাটি খোজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।   এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন