Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

বেঁচে থাকার যুদ্ধে দিশেহারা পান বিক্রেতা আজিম বক্স

Icon

আবু সুফিয়ান

প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০২৩, ০৪:৫৫ পিএম

বেঁচে থাকার যুদ্ধে দিশেহারা পান বিক্রেতা আজিম বক্স
Swapno



বেঁচে থাকার জন্য মানুষ বিভিন্ন ভাবে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। তেমনি বেঁচে থাকার যুদ্ধে পান বিক্রি করে পরিবারের অভাব দূর করতে উত্তরের সুদূর লালমনিরহাট থেকে ধনী জেলা নারায়ণগঞ্জের বিসিক শিল্পাঞ্চলে এসেছেন মো. আজিম বক্স। দুই সন্তান আর স্ত্রী নিয়ে মোট চার সদস্য নিয়ে আজিম বক্সের পরিবার।

 

 

পরিবারের সবার মুখে দুই বেলা দু’মুঠো খাবার দিতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গলায় পানের ডালা ঝুলিয়ে তিনি রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে পান বিক্রি করেন। এভাবে সারাদিন ঘুরে ঘুরে পান বিক্রির টাকা দিয়েই কোন রকম সংসার সচল রেখেছেন তিনি।

 

 

আজিম বক্সের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শত চেষ্টা করেও তিনি নিজের গ্রামে কোন রকম উপার্জনের ব্যবস্থা করতে পারেননি। তাই কোন উপায় না পেয়ে পরিবার নিয়ে নারায়ণগঞ্জে এসেছেন। মো. আজিমের ভাষায়, “গ্রামোত কাম করিয়্যা যে ট্যাকা পাং, তাক দিয়ে মোর সংসারে চলেনা।

 

 

জিনিস পাতির যে দাম নুনে কেনং না মরুচ কেনং ভাই”। আজিম বক্স বলেন, “একজন মানসের কামাই দিয়্যা চাইর জন চলে। উয়্যাতে কাপর, উয়্যাতে ভাত। তাতে ফির সোগ জিনসের দাম বাড়ছে।” সাংবাদিক পরিচয় দিলে আজিম বক্স বলেন, “সরকারের কাছে কইবেন, জিনিস পাতির দাম যেন কমে দেয়।

 

 

এক বেলা খাইলে আরেক বেলা খাবার পাই ন্যা। নুন আনতে পন্তা ফুর‌্যায় হামার। ছাওয়া পোয়ার হাউস মিটপ্যার পাইন্যা। যে ভাবে সোগ কিছুর দাম বাড়ছে হামাক মনে হয় না খায়্যা থাকা নাগবে বাহে”। পান বিক্রেতা আজিম বক্স-এর সাথে কথা বলে জানা গেছে, উত্তরের মঙ্গা এলাকার দরিদ্র পরিবারে জন্মেছেন তিনি।

 

 

ছোটবেলা থেকেই অভাব-অনটনের সংসারে খেয়ে না খেয়ে জীবনের সাথে যুদ্ধ করে বড় হয়েছেন তিনি। তার নিজ জেলা লালমনিরহাট মঙ্গা অঞ্চল হওয়ায় জীবিকার খোঁজে ধনী জেলা নারায়ণগঞ্জ-এ এসেছেন। গ্রামে যা আয় করতেন তা দিয়ে তার সংসার চলতো না। স্ত্রী সন্তান নিয়ে তিনি খুব কষ্টে দিন অতিবাহিত করতেন।

 

 

তিনি জানান, অভাব দূর করতে নারায়ণগঞ্জে এসেছেন তিনি। কিন্তু বর্তমান তার ব্যবসার যে অবস্থা তাতে তিনি দিশেহারা। পান বিক্রি করে যে টাকা তা দিয়ে এখন তার সংসার চলছে না। আজিমের সাথে কথা বললে তিনি আরোও বলেন, “আগোত পান ব্যাচে এক হাজার টাকার উপর‌্যা পাচনুং। আর এলা তিনশো ট্যাকাও হয়না ভাই। ব্যাচা কেনা একে বারে নাই।

 

 

খুব কষ্টে দিন যাবার নাগছে ভাই। এইভাবে চললে হামাক না খায়্যা মরা নাগবে।” আজিম জানান, আগে তিনি গলায় পানের ডালা ঝুলিয়ে সকল খরচ বাদ দিয়ে দিনে হাজার টাকা আয় করতেন। আর এখন দিনে ৩০০ টাকাও আয় করতে পারছেন না। তাই তিনি সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

 

 

এই পান বিক্রেতা জানান, একজনের আয় দিয়ে চার জনের জীবন চলা ভীষণ কষ্টের। ছোট বাচ্চাদের কোন আবদারই তিনি পূরণ করতে পারেন না। অসুখ হলে পরিবারের কারোর চিকিৎসা করাতে পারেন না। সন্তানরা ভালো কিছু খেতে চাইলেও তাদের সেই আসা পূরণ করতে পারেন না তিনি।

 

 

এভাবেই চলছে তার স্ত্রী সন্তান নিয়ে তার প্রতিদিনের জীবন। মো. আজিম বলেন, সারাদিন পান বিক্রি করে ৩০০ টাকাও হয় না। এই টাকা দিয়ে চাল কিনবো বাজার করবো। জিনিস পত্রের যে ভাবে দাম বাড়ছে। চাল কিনলে বাজার করার টাকা হয় না। তারপর মাস শেষে ঘর ভাড়া দেয়ার জ্বালা।

 

 

প্রতি মাসে ঠিক মতো ঘর ভাড়া দিতে পারছি না। এভাবে আর কতদিন চলে ? শেষে তিনি জানান তার এক স্বপ্নের কথা। আজিমের ভাষায়, মোর খুব শখ মোর ছাওয়ারা যেন লেখা পড়া শিখি মানুষের মত মানুষ হয়। মোর মত কষ্ট না করে।”    এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন