Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

আমরা স্মার্টবাংলাদেশ বাস্তবায়নে কাজ করছি:প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০২:২০ পিএম

আমরা স্মার্টবাংলাদেশ বাস্তবায়নে কাজ করছি:প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
Swapno

 

# রূপগঞ্জের পূর্বাচল নতুন শহর হবে দেশের প্রথম স্মার্ট সিটি

 

 

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার সুফল চেয়েছিলেন, আর আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নে সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এমপি। বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের পূর্বাচলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-কমলাপুর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার পাতাল রেললাইন ও রাজধানীর নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত প্রায় ১১ কিলোমিটার উড়াল রেললাইন প্রকল্পের নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় প্রকল্পের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন ঘোষণা করেন তিনি। এরআগে বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় পূর্বাচলের ৪নং সেক্টর এলাকায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে এ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি। এ সময় উদ্বোধন অনুষ্ঠান লক্ষাধিক লোকের জনসমাবেশে পরিণত হয়।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমপি তাঁর বক্তব্যে বলেন, দেশের উন্নয়ন করাই আমার স্বপ্ন। বর্তমান প্রকল্প শেষ হলে নারায়ণগঞ্জে আরও একটি মেট্রোরেল প্রকল্প বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। নারায়ণগঞ্জকে স্পেশালজোন হিসেবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। আরও সময়োপযোগী উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। রূপগঞ্জের পূর্বাচল নতুন শহর দেশের প্রথম স্মার্ট সিটি হিসেবে তৈরী হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, মেট্রোরেল পরিবেশ বান্ধব পরিবহন। যাতে জনগণের সময় ও কর্মঘণ্টা বাঁচবে। আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের নানা প্রান্তে ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। ফলে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকলে আরও উন্নয়ন করবে এটা জনগণ জানে। ফলে আমরা উন্নয়নের স্বার্থে পুনরায় জয়ী হওয়ার আশা করি। তিনি আরও বলেন, সারাদেশে কোন নাগরিক ভুমিহীন থাকবে না। আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের আশ্রয় দেয়া শুরু হয়েছে। তিনি আরও উন্নয়নের কথা শেষে ২০৪১ সালে দেশকে উন্নয়ন সমৃদ্ধশালী দেশ রূপান্তরের জন্য কাজ করি বলে জানান। এ সময় জাপান সরকার ও জাইকা কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

 

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতিক), নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াত আইভী, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সেলিম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, সড়ক মহাসড়ক যোগাযোগ ও পরিবহন সচিব এবিএম আমিন উল্লাহ নূরী, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ, নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল, রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল হক, রূপগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি এএফএম সায়েদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দসহ গণ্যমান্যরা। এছাড়াও আওয়ামী লীগের জেলা ও উপজেলার নেতা কর্মীরা মিছিল নিয়ে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেন।  

 

স্বাগত বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচীব এবিএম আমিন উল্লাহ নূরী বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ হবে ৫২ হাজার কোটি টাকা। ২০২৬ সালে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার টার্গেট রয়েছে। মেট্রোরেলের পর এবার পাতাল রেলের যুগের প্রবেশ করছে বাংলাদেশ। এই প্রকল্প থেকে দুটো রেললাইন নির্মাণ করা হবে। একটি লাইন হযরত শাহজাহাল (রহ.) বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ১৯ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার অংশ। এটি মাটির নিচ দিয়ে যাবে। আর নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত ১১ দশমিক ৩৬ কিলোমিটার রেললাইন উড়ালপথে যাবে।

 

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের তাঁর বক্তব্যে বলেন, ঢাকা শহরের মানুষের চলাচলের জন্য দেশের প্রথম পাতাল রেলের ডিপো নির্মাণ করা হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পিতলগঞ্জে। এ ডিপোর নির্মাণ কাজের মাধ্যমে প্রকল্পের উদ্বোধন করলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। সরকারের এই প্রকল্পটি ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট লাইন-১ বা এমআরটি লাইন-১ নাম হিসেবে আপনারা জানেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন কাজের ফিরিস্তি দেখে বিএনপি জামায়াতের অন্তর জ্বালা ধরেছে। ১শ সড়ক, ১শ ব্রিজ, কর্নফুলি ট্যানেল, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল বাস্তববায়ন করার তাদের গাঁ জ্বালা ধরেছে। আরও সামনে পায়রা বন্দর, রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ যখন হবে তখন তাদের চোখে আন্ধা দেখবে। তারা জনগণের সামনে দাড়াতে পারবে না। তাদের বলবো, আগুন সন্ত্রাসী করে নয়, ভুয়া আন্দোলন করে নয়, সঠিক পদ্ধতিতে নির্বাচনের দিকে আসুন। সেদিন ফলাফল যা হয় মেনে নেব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জোর করে ক্ষমতায় থাকবে না।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের দুটো লাইন থাকবে। হযরত শাহজালাল (রহ.) বিমানবন্দর থেকে মাটির নিচ দিয়ে কমলাপুর পর্যন্ত এই পাতাল পথে রেলের স্টেশন থাকবে ১২টি। স্টেশনগুলোর নির্ধারিত জায়গাগুলোর মধ্যে রয়েছে-কমলাপুর, রাজারবাগ, মালিবাগ, রামপুরা, আফতাবনগর, বাড্ডা, উত্তর বাড্ডা, নতুন বাজার, নর্দা, খিলক্ষেত, বিমানবন্দর টার্মিনাল-৩ এবং বিমানবন্দর। আর এমআরটি লাইন-১ এর অপর অংশ নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত উড়ালপথে। স্টেশন থাকবে ৭টি। সেগুলোর নির্ধারিত জায়গা হলো-জোয়ার সাহারা, বোয়ালিয়া, মস্তুল, শেখ হাসিনা ক্রিকেট স্টেডিয়াম, পূর্বাচল সেন্ট্রাল, পূর্বাচল পূর্ব এবং পূর্বাচল টার্মিনাল। এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের দৈর্ঘ্য হবে ৩১ দশমিক ২৪১ কিলোমিটার। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট খরচ হবে ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। এরমধ্যে ৪০ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। বাকি ১২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা খরচ করবে বাংলাদেশ সরকার। ২০২৬ সালে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, মেট্রোরেলের লাইন-১-এর ডিপো নির্মাণ হবে নারায়ণগঞ্জের পিতলগঞ্জে। এই কাজের জন্য জাপানের টোকিও কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড ও দেশীয় ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। পুরো প্রকল্পের কাজ ১২টি প্যাকেজের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে প্যাকেজে সিপি-১-এর আওতায় ডিপো এলাকায় ভূমি উন্নয়ন কাজ শুরু হবে।

 

দেশের প্রথম মেট্রোরেল বা এমআরটি লাইন-৬-এর একাংশ ২৮ ডিসেম্বর চালু হয়েছে। উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অংশ সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চলাচল করছে। এমআরটি-৬ দেশের প্রথম মেট্রোরেল এবং এমআরটি-১ দেশের প্রথম পাতাল রেল। ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকায় ৬টি মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চায় সরকার। এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঢাকায় ১৩০ কিলোমিটার শক্তিশালী মেট্রো নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে চায় সরকার। তখন মেট্রো নেটওয়ার্কে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ যাত্রী চলাচল করতে পারবে।

 

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রূপগঞ্জে আগম ঘিরে স্থানীয়দের মাঝে উৎসবমুখর মুখর পরিবেশ তৈরী হয়েছে। জেলার বিভিন্ন আওয়ামীলীগ নেতারা হাজারের অধিক নেতা কর্মী নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর জনসমাবেশে যোগ দেন। এ সময় স্থানীয় ও আশপাশের জেলার লাখো লোকের সমাগম ঘটে। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা জোরদার রয়েছে।

এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন