সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের সেহাচর তক্কার মাঠটি একটি জনপ্রিয় এবং বহুল পরিচিত মাঠ। একটা সময় ছিলো যখন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্রিকেট , ফুটবলে মেতে থাকতো তক্কার মাঠ ও মাঠ সংলগ্ন এলাকা। আশেপাশের প্রায় ১০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্টুডেন্টসরা এই মাঠকে ঘিরে ক্রীড়া চর্চা করতো।
১৩৬ শতাংশের বিশাল মাঠটি একটা সময় অযন্ত ও অবহেলায় পরিত্যাক্ত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে গিয়েও ২০১৫ সালে এলাকার স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তি ও চেয়ারম্যান এর উদ্যোগে মাঠটিকে খেলার উপযোগী করে তোলা হয়েছিলো। তখন আনন্দের বন্যা বয়ে গিয়েছিলো গোটা এলাকায়। এলাকায় তখন কিশোরগ্যাং বলে কিছু ছিলো না।
কারণ কিশোররা তখন সন্ত্রাসী কার্যক্রম করার পরিবর্তে খেলাধুলায় মেতে থাকতো। তাদের মন ও সাস্থ্য উভয়ই ভালো ছিলো। তখন কিশোরদের ধ্যান ছিলো পড়াশোনা আর খেলাধুলা। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। গুরুত্বপূর্ন এই মাঠটি আবার ও মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে। সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায় মাঠটি খেলার জন্য একেবারে অনুপযোগী।
মাঠের মাঝখানে ও চারপাশে উচু নিচু মাটির স্তুপ। প্রায় সমগ্র মাঠেই ময়লা আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। বাহির থেকে দেখলে মনে হবে খুব দৃষ্টিনন্দন একটি মাঠ। কিন্তু কেউ ভিতরে ঢুকলে মনে হবে এ যেনো ময়লার ভাগাড়। অথচ তক্কার মাঠ এলাকার নামটি মূলত এই মাঠ এর নামেই হয়েছে এবং এ মাঠের নামেই পরিচিত।
এত গুরুত্বপূর্ন একটি মাঠের এই বেহাল দশা দেখে হ্রদয়ে রক্তক্ষরণ হবে যে কারোই। এলাকাবাসী জানায় প্রায় দুই বছর যাবৎ মাঠের এ ভঙ্গুর দশা। খাল পরিষ্কারের ময়লা এখানে ফেলা হয়েছে। এর জন্য মাঠটি ব্যবহারের অনুপযোগী। আগে সবাই এখানে খেলাধুলায় মেতে থাকতো। কিন্তু এখন মাঠে না খেলতে পেরে তারা বিভিন্ন অপরাধের সাথে নিজেদের যুক্ত করছে।
মাঠটি আবারো খেলার উপযোগী হলে অপরাধ কমে আসতো। এ মাঠের অকাল প্রয়ানে যেনো মাঠের সাথে সাথে এলাকাটাও মরে গেছে। কারন সেই অতিতের হই হুল্লোর নেই। নেই আনন্দের কল্লোল। সকলেই চায় মাঠটি খেলার উপযোগী হউক।
তবে কে জীবিত করবে এ মাঠকে? কে দায়িত্ব নিয়ে এলাকার ক্রীড়া চর্চার এই আতুরঘরে প্রাণ ফিরাবে। কারণ ক্রীড়া চর্চা না থাকলে এলাকার সার্বিক উন্নতি সাধন সম্ভব নয়। বিপথে যাবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। এন. হুসেইন/ জেসি


