Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

মাসদাইরে ওএমএস পণ্য বিতরণে ডিলার জহিরের নয়-ছয়

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৬:৪৭ পিএম

মাসদাইরে ওএমএস পণ্য বিতরণে ডিলার জহিরের নয়-ছয়
Swapno

 

# একটু অনিয়ম না করে পারিনা : জহির
# বিষয়টি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক : ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর এডি

 

 

খাদ্য অধিদপ্তর পরিচালিত নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির অংশ হিসেবে খোলা বাজার কার্যক্রম (ওএমএস) এর চাল ও আটা বিতরনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে সিটি কর্পোরেশন এর মাসদাইর ১৩ নং ওয়ার্ড শেরে বাংলা রোডের ওএমএস দোকানের ডিলার জহিরের বিরুদ্ধে। প্রতিবেদকের ছদ্মবেশের অনুসন্ধানে সকল অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিজনকে ৩০ টাকা কেজি দরে ৫ কেজি চাল ও ২৪ টাকা কেজি দরে ৩ কেজি আটা দেওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু ডিলার ৫ কেজি চাল দিলেও ৩ কেজির পরিবর্তে আটা দিচ্ছে ২ কেজি করে। শুধু তাই নয় বরাদ্দ পাওয়া চালের আংশিক বিতরণ করে বাকি চাল বস্তা হিসেবে বাহিরে উচ্চ দামে বিক্রি করে দেয়ার প্রমাণ পেয়েছে প্রতিবেদক।

 

চাল বিতরণের সময় সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত হলেও ডিলার সকাল সাড়ে দশটা থেকে সাড়ে এগাড়োটা পর্যন্ত চাল বিতরণ করে কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এতে করে একটু দেরি করে আসা মানুষরা তো পায় ই না। মাঝে মাঝে দেখা যায় দীর্ঘক্ষন লাইনে দাড়িয়ে থাকা মানুষরাও চাল আটা না পেয়ে মন খারাপ করে একটা অনিশ্চয়তা নিয়ে বাড়ি ফেরে কারন দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতির এই বাজারে  তার পরিবারের সদস্যরা এই ওএমএস এর চালের দিকেই শত আশা নিয়ে তাকিয়ে থাকে। অথচ চাল দেয়া শুরু করার পূর্বেই কয়েকজন লোককে বলতে শোনা যায় ডিলার সাহেব আমার জন্য এক বস্তা রেখে দিয়েন। চাল নিতে আসা বেশ কয়েকজনের সাথে কথা বললে তারা বিতরণ নিয়ে বিস্তর অভিযোগ তুলে ধরে তাদের অসুন্তুষ্টির কথা জানান।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী জানান, বাসায় রান্না করার মতো সকালের চাল আছে কিন্তু বিকেলের চাল নেই। চাল নিতে এসেছি কিন্তু তারা বলে চাল নেই। শেষ হয়ে গেছে। অনেক অনুরোধ করেছি তবুও দেয়নাই। জিনিসপত্রের যে দাম দোকান থেকে কিনে খাওয়ার সামর্থ্য নেই। রাতে কি খাবো জানিনা। এ নারীর মতো আরো অনেক নারী চাল না পেয়ে বাসায় না গিয়ে এখানেই দাঁড়িয়ে ছিলো যদি ডিলার মায়া করে তাদের কিছু চাল দেন। কিন্তু এ চাল তো তাদের ন্যায্য অধিকার তবুও কেনো অন্যের সহানুভূতির আশায় থাকতে হবে মনে প্রশ্ন জাগবে যে কারোরই। এদের মতো অসাধু কিছু মানুষদের জন্য তৃনমূল পর্যায়ে সরকারের দেয়া সুবিধে পরিপূর্ণভাবে পৌঁছাতে পারেনা। অনাহারে, অর্ধাহারে থাকতে হয় অসচ্ছল মানুষদের। এদের শুধু জরিমানাই নয়। আরোও কঠিন শাস্তির মুখোমুখি না করলে এমন অবস্থার পরিবর্তন হবে না বলে মন্তব্য করেন সচেতনরা। এমন এক জহিরকে দেখে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের শুধরে নিবে হাজারো জহির।

 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত জহিরের সাথে প্রতিবেদক কথা বললে তিনি জানান, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য। যেহুতু আপনি নিজ চোখে দেখেছেন সেহুতু এখানে অস্বীকার করার কিছুই নেই। তিনি আরোও বলেন এই পন্যগুলো দোকান পর্যন্ত নিয়ে আসতে অনেক যায়গায় ঘুষ দিতে হয়। তাই একটু অনিয়ম না করে পারিনা। ওএমএস এর চালের ভোক্তাশ্রেণি মূলত একটু অস্বচ্ছল প্রকৃতির। এমন অসচ্ছল ভোক্তাদের ঠকানোর বিষয়টি জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, নারায়ণগঞ্জ জেলার সহকারী পরিচালক (এডি) মো. সেলিমুজ্জামানকে অবহিত করলে তিনি বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। অতি শীঘ্রই অভিযুক্ত ডিলারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এলাকাবাসী চায়, ওএমএস পণ্যের সুষ্ঠু বন্টন। যেনসরকারের এই উদ্যোগের সত্যিকারের সুফল পাওয়া যায়।

এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন