Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

চাঁদার বিনিময়ে আবাসিক এলাকায় নীলাচল বাসের স্ট্যান্ড

Icon

রাকিবুল ইসলাম

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৫:৩৪ পিএম

চাঁদার বিনিময়ে আবাসিক এলাকায় নীলাচল বাসের স্ট্যান্ড
Swapno

 

# ইয়াছিনের সাঙ্গপাঙ্গরা চাঁদা নেন অভিযোগ এলাকাবাসীর  
# চলাফেরায় ঘটে দুর্ঘটনা, প্রশাসন নীরব

 

 

পরিবহনে চাদাঁবাজির অভিযোগ নতুন কিছু নয়। এই সেক্টরে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের শেল্টারে চাদাঁবাজি হয়ে থাকে বলে অভিযোগ পরিবহন মালিকদের। তারই চিত্র যেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিনের বেলায় ফুটে উঠেছে। এবার নারায়ণগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিনের শেল্টারে মিজমিজি উত্তরপাড়া শহীদ আ: মতিন সড়কে বাইতুন নাজাত জামে মসজিদের সামনে নীলাচল বাস রাখা হয়। অভিযোগ রয়েছে প্রতি মাসে মোটা অংকের চাদাঁর বিনিময়ে সিদ্বিরগঞ্জের মত আবাসিক এলাকায় এই বাস রাখা হয়। আর এতে করে স্থানীয় ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে এলাকার মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে।

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, এখানে নীলাচলের বড় বড় ৫০টিরও বেশি বাস চলাচলের কারণে কয়েক দিন পর পর দুর্ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ নেতা ইয়াছিনের শেল্টারে এখানে বাস রাখে বলে কেউ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায়না। এদিকে এর আগে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াছিন মিয়ার বিরুদ্ধে নানা অপকর্মের অভিযোগ তুলে মুখ খুলেছে ওই এলাকার লোকজন। আবার মসজিদের ওয়াকফকৃত জায়গায় জালিয়াতের মাধ্যমে নিজের নামে করে নেয়ার আত্মসাৎ করায় তার বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলা হয়েছে। যার মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ প্রশাসন তাকে প্রতারণার দোষী সাব্যস্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। যার কোর্ট পিটিশন মামলা নম্বর ২৯/২২। কোর্টের স্বারক নং ৫১৯৩(৪)।

 

এই মামলার চার্জশীটে তদন্তকারী পুলিশ পরিদর্শক রেজাউল করীম উল্লেখ করেন, প্রতারণার মাধ্যমে জাল দলিল করে মসজিদের ওয়াকফকৃত জায়গা প্রতারণা করায় তার সত্যতা পাওয়ায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। মসজিদের ঘটনার নিয়ে নারায়ণগঞ্জ শহর থেকে শুরু করে পুরো জেলা জুড়ে ইয়াছিনের অপকর্ম নিয়ে আলোচনা তখন তুঙ্গে ছিল। সেই সাথে তাকে নিয়ে সচেতন মহল ধিক্কার জানান। তার রেশ কাটতে না কাটতেই ক্ষমতাসীন দলের পদধারী নেতা ইয়াছিনের শেল্টারে সিদ্ধিরগঞ্জ মিজমিজি আ: মতিন সড়কে নীলাচল বাস রেখে এলাকার পরিবেশ দূষণ করছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

 

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মিজমিজি আবদুল মতিন সড়কের বাইতুন নাজাত মসিজেদের সামনে সারিবদ্ধভাবে নীলাচল বাস গুলো রাখা হয়। এখানে বাস রাখার বিনিময়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মিয়ার সন্ত্রাস বাহিনীর অন্যতম সদস্য তারই ভাই আবুল হোসেন, রহমত উল্লাহ, জজ মিয়া, এজেন্ট রাসেল এখান থেকে টাকা নিয়ে থাকে বলে অভিযোগ। চাঁদার বিনিময়ে নীলাচল বাস এখানে রাখা হয়। তাছাড়া এজেন্ট রাসেলের শেল্টারে এখানে মাদক ব্যবসা চলে।

 

দিন ইসলাম নামের এক ব্যক্তি জানান, এখানে বাস রাখার কারনে মানুষের বসবাস করতে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়। এছাড়া বাসের কালো ধোয়া পরিবেশ দূষন করছে। এখানে প্রায় দের’শ বাস রাখা হয়। যাত্রীদের থেকে সিট ভাড়া কাটার সময় ড্রাইভারদের থেকে এই চাঁদার টাকা কেটে নেন বাস মালিকরা। কিন্তু সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিনের শেল্টার থাকায় কেউ ভয়ে প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। তিনি আরও বলেন, এই নীলচল বাস আবাসিক এলাকার ছোট রাস্তা দিয়ে চলাচল করায় এখানকার মাদ্রাসা থেকে শুরু করে স্কুলের ছাত্র ছাত্রীরা দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ হন। বিশেষ করে এর পাশেই রয়েছে দুটি মাদ্রাসা থাকায় তারা বেশি এক্সিডেন্ট হন।  

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানদার বলেন, এখানে পুরুষ এবং মহিলা মাদরাসা রয়েছে। ছোট রাস্তা দিয়ে বাসচলাচলের কারণে ছাত্র ছাত্রীরা দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তাছাড়া ক্ষমতাসীন দলের নেতা ইয়াছিন থেকে শুরু করে তার সাঙ্গপাঙ্গরা এখান থেকে মোটা অংকের চাঁদা পায় বলে বাস মালিকরা আবাসিক এলাকায় এইভাবে বীরত্বের সাথে বাস রেখে এলাকা দূষিত করছে। এতে করে মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে। এছাড়া নীলাচল বাসের ড্রাইভাররা বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর কারনে কয়েক বার বাইতুন নাজাত মসজিদের দেয়াল ভেঙে ফেলে। পরে তারা আবার ভাঙ্গা অংশটুকু করে দেয়। এইভাবে দিনের পর দিন ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের চাদাঁ দিয়ে তারা অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। যা মানুষ মুখ বোঝে সহ্য করে যাচ্ছে।  

 

অপরদিকে আরেকজন অভিযোগ করে বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জ হাজ্বী দীন মোহাম্মদ ঈদগাহ থেকে বছরের দুই ঈদে উন্নয়নের কথা বলে এই ঈদগাহ কমিটিরি সভাপতি আওয়ামী লীগ নেতা ইয়াছিন মিয়া সভাপতি প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা তুলে থাকেন। কিন্তু এই টাকা পরবর্তীতে কোন কাজে খরচ করা হয় তার হিসেব তিনি কাউকে দেন না। এই ভাবে সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন সেক্টর থেকে নিজের লোক দিয়ে আবার কোন জায়গায় নিজের প্রভাব বিস্তার করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের এই নেতা। তার বিশাল বাহিনী থাকায় কেউ ভয়ে প্রতিবাদ করতে সাহস পায়না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এদের মত কিছু দায়িত্বশীল নেতার কারণে আওয়ামী লীগের সুনাম ক্ষুন্ন হয়। তাদের অত্যচারে দলের ভোট ব্যাংক কমে। যার জন্য নির্বাচনের সময় তার খেসারত দিতে হয়।

 

আওয়ামী লীগ নেতা ইয়াছিনের ভাই আবুল হোসেন বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ সম্পুর্ণ মিথ্যা বানোয়াট। তবে এখানে মাদকের বেচাকেনা চলে। আর এ বিষয় নিয়ে আমি থানার ওপেন হাউজডেতে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলেছি। আমাদের বিরুদ্ধে অনেকে শত্রুতা করে এই ধরনের মিথ্যা অভিযোগ করতে পারে। ঈর্ষান্বিত হয়ে নিউজ করলে আমরা মামলা করবো। সেই সাথে আল্লাহর কাছে জবাব দিতে হবে।’

 

সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মিয়ার সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।  

এস.এ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন