আদালতে জাকির খান, সাব্বির হত্যা মামলায় তৈমূরের সাক্ষ্য
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৬:২১ পিএম
নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় সাব্বির আলম খন্দকার হত্যা মামলার অন্যতম আসামি নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খান সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আবারও হাজির করা হয়েছে। মামলায় নিহত সাব্বির আলম খন্দকারের বড় ভাই এড. তৈমুর আলম খন্দকার সাক্ষী প্রদান করেন। সাক্ষ্য শেষে এ মামলার বাদী বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা এড. তৈমূর আলম খন্দকার আসামীদের সর্বোচ্চ সাজা জানিয়ে ফাঁসির দাবি করেন।
এছাড়া খন্দকার সাব্বির আলমের কন্যা এড. সবনম তার বাবার হত্যাকারীদের উপযুক্ত শাস্তি কামনা করেন। অপরদিকে জাকির খানের কর্মী সমর্থকরা সকাল থেকে নারায়ণগঞ্জ আদালাতপাড়ায় অপেক্ষমান ছিল। জাকির খান আদালতপাড়া উপস্থিত হলে নানা স্লোগানের মাধ্যমে জাকির খানের কর্মী সমর্থকরা জাকির খানের মুক্তি কামনা করেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২ আদালতের বিচারক শাম্মী আক্তারের আদালতে ডান্ডাবেড়ি পরা অবস্থায়ও জাকির খানকে হাজির করার মাধ্যমে সাব্বির আলম খন্দকার হত্যা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। জাকির খান ছাড়াও মামলার আরও দুই আসামি নাজির হোসেন ও মোক্তার হোসেন আদালতে হাজির ছিলেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আগামী ৬ মার্চ আবারও সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য্য করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী সাব্বির আলম খন্দকার হত্যার পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ২০০৬ সালের ৮ জানুয়ারি আদালতে জাকির খান, তার দুই ভাই জিকু খান, মামুন খানসহ মোট ৮ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলার প্রধান আসামি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিনকে মামলা থেকে বাদ দেওয়ায় মামলার বাদী তৈমুর আলম খন্দকার সিআইডির দেওয়া অভিযোগ পত্রের বিরুদ্ধে ওই বছরের ২৪ জানুয়ারি আদালতে নারাজি পিটিশন দাখিল করেন। পরে অক্টোবর মাসে তৈমুর আবার এ নারাজি প্রত্যাহার করে নেন। এই মামলায় দীর্ঘদিন ধরে সাক্ষীরা আদালতে সাক্ষ্য দিতে আসছিলেন না বলে বিচার কার্যক্রমে স্থবিরতা ছিল ।
সাক্ষ্য প্রদান শেষে বের হয়ে তৈমূর আলম খন্দকার গণমাধ্যমকে বলেন, জাকির খান কী কী অপকর্ম করেছে তা তুলে ধরেছি আমরা। নারায়ণগঞ্জের ৩২টি সংগঠনের মিটিংয়ে অপারেশন ক্লিন হার্টের সময় জিজ্ঞেস করা হয়েছিল আপনারা কে আছেন যে সন্ত্রাস করে না, তার পরিবারেও কেউ সন্ত্রাস করে না। তখন সাব্বির বলেছিল আমি সন্ত্রাস করি না, আমার পরিবারেও কেউ সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত নন।
তখন আর্মি অফিসাররা তাকে বলেছিল, তাহলে আপনি বলেন। এরপর সাব্বির বলেছিল, আমার জানাজায় শরীক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আমি আমার বক্তব্য শুরু করলাম। তখন এই জাকির খানরা কীভাবে সন্ত্রাস করে নাম উল্লেখ করে এগুলোর ব্যাখ্যা করেছিল সে (সাব্বির)। তারপরেই তারা সাব্বিরকে হত্যার পরিকল্পনা করে। আমি সন্ত্রাসীদের সর্বোচ্চ সাজা চাই ফাঁসি চাই।
মামলার আইনজীবী খন্দকার সাব্বির আলমের মেয়ে এড.সবনম বলেন, আমার বাবার মৃত্যুর বিশ বছর হয়েছে এতদিন পর মূলত এই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে এতদিন পর্যন্ত ঝুলেইছিল। আবার বাবার মৃত্যুর অন্যতম কারণ ছিল আমার বাবার কাছে জাকির খানের বিরুদ্ধে একটি রেকর্ড বই ছিল। যার কারণেই মূলত তাকে হত্যা করা। আমার বাবা খুবই স্পষ্টভাসী ছিল সৎ সাহসী লোক ছিল তিনি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছিল বলেই আজকে আমার বাবা নেই আমাদের মাঝে।
জাকির খানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রবিউল হোসেন বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ একজন সাক্ষীকে উপস্থিত করেছে। তিনি মামলার বাদী। তিনি তার বক্তব্য দিয়েছেন। তার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা জাকির খানের পক্ষে জেরা করেছি আইনগতভাবে। আজ জেরা শেষ হয়নি। আরও একদিনের জন্য আদালত সময় মঞ্জুর করেছেন। সেদিন সেই সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হবে।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুর রহিম বলেন, এই মামলায় আজ একজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হলো। মামলার আরও ২৭/২৮ জন সাক্ষী রয়েছেন। পর্যায়ক্রমে তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ চলবে। সাব্বির হত্যার বিচার আগেই শুরু হয়েছিল। আজ তৈমূর সাহেব বাদী হয়ে এসেছেন। তিনি সাক্ষী দিয়েছেন এবং আসামি পক্ষ তাকে জেরা করেছেন। আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। আগামী ৬ মার্চ আবারও সাক্ষ্যগ্রহণ হবে।
কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, পরিস্থিত স্বাভাবিক ছিল। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আমাদের নিয়মিত ডিউটি হচ্ছে কোনো হাজতি আদালতে আনা হলে পরিস্থিতি যেন স্বাভাবিক থাকে সেদিকটা খেয়াল রাখা। সে অনুযায়ী আমরা প্রস্তুত ছিলাম।
জাকির খানকে আদালতে আনা হবে বলে সকাল থেকেই আদালতপাড়ায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আদালতে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সদস্যদের। একদিন আগেই সাক্ষ্যগ্রহণে উপস্থিত করার জন্য কাশিমপুর কারাগার থেকে নারায়ণগঞ্জ কারাগারে এনে রাখা হয় জাকির খানকে।


