Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

বন্দরে ইট ভাটার কবলে প্রাথমিক বিদ্যালয়

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৫:২২ পিএম

বন্দরে ইট ভাটার কবলে প্রাথমিক বিদ্যালয়
Swapno


# কোমলমতি শিশুরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে
# ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করবো : উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার

 


প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠ নিচ্ছে ছোট ছোট কোমলমতি শিশুরা। পাশেই ইটের ভাটায় পোড়ানো হচ্ছে ইট। সেই ইট নিতে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে ট্রাক। একের পর এক হরেণ দিয়ে নিজেদের উপস্থিতিসহ সিরিয়ালে আগে থাকার হুশিয়ারী দিয়ে যাচ্ছেন ট্রাকের চালকরা। ট্রাকের সাথে থাকা শ্রমিকেরা হৈ হুল্লোড় করে ট্রাকে ইট বোঝাই করছে।

 

 

অন্যদিকে ইটভাটার শ্রমিকেরা চুলোয় (ইটভাটার চুল্লিতে) আগুন দিয়ে ইট পুড়ছে। সেই ইট সারি সারি করে রাখা হচ্ছে ইটভাটার খোলা মাঠে। চুল্লির ধোঁয়া, মাটির ধুল কণা, গাড়ির শব্দ ও ইটভাটার শ্রমিক এবং ট্রাক শ্রমিকদের হৈ হুল্লোড় মিলে সৃষ্টি হওয়া এক ভয়ানক পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই চলছে এসব কোমল মতি শিশুদের পাঠ গ্রহণ চলছে বিদ্যালয়ের মাঠে খেলাধুলা।

 

 

অথচ ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন আইন ২০১৩ অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক কিলোমিটারের মধ্যে কোনো ভাটা স্থাপন করা যাবে না। তারপরও এমনই এক পরিস্থিতিরি মধ্যেই চলছে বন্দর উপজেলার মুসাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ড এলাকার ১৩নং দাসেরগাও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ফনকুল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আরও বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুদের শিক্ষাদান।

 

 

বন্দর উপজেলার মদনপুর-মদনগঞ্জ সড়কের দাসেরগাও বাস স্ট্যান্ডের দাসেরগাও লাঙলবন্দ সড়ক দিয়ে প্রায় আধ কিলোমিটার পূর্বদিকে গেলেই ১৩নং দাসেরগাও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থান। বিদ্যালয়টি মুসাপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে ১৯৩৫ সালে স্থাপিত হয়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে অবস্থান করছে বিবিসি নামের ইটভাটা।

 

 

এরপর থেকেই সারি সারি আরও অনেকগুলো ইটের ভাটার অবস্থান। এই বিবিসি নামক ইটের ভাটাটি এই ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার মানান্ন মিয়ার। মান্নান মিয়া স্থানীয়ভাবে খুব প্রভাবশালী। তার উপর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের খুব ঘনিষ্ঠ লোক বলে এলাকাবাসী তার বিরুদ্ধে কিছু বলার সাহস পায় না। এর আরও একটু সামনে আগালে ফনকুল জামে মসজিদ ও ফনকুল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়।

 

 

এই বিদ্যালয়ের একটু সামনে থেকেই শুরু ইটভাটার সারি। যেদিকেই তাকাই সেদিকেই দেখা যাচ্ছে কৃষি জমির উপর গড়ে উঠা এই সব ইটভাটা ও তার চিমনি। দূরদুরান্তেও সেসব চিমনির উকি মারার দৃশ্য ছাড়া আর তেমন কিছু নজরে আসবে না। আর এসব ইটভাটাগুলো স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বর্তমান এবং সাবেক মেম্বারদের নামেই বেশি।

 

 

এসব ইটভাটার কালো বিষাক্ত ধোঁয়া, যানবাহন ও ইটের ধুলাবালিসহ যেভাবে বিদ্যালয়ের ছোট ছোট বাচ্চাদের শারীরিক অসুস্থতাসহ মানসিক বিকাশে সমস্যার সৃষ্টি করছে সেদিকে কারও নজর নেই। বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাকরাও এসব বিষয়ে মুখ খুলতে সাহস করছে না। কারণ এসব ইটভাটার মালিকরা প্রভাবশালী এবং প্রশাসনের সাথে তাদের নাকি খুবই ভাব আছে।

 

 

এই বিষয়ে কথা বলার জন্য মুসাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাকসুদ আহমেদের মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি। এসব বিষয়ে কথা বললে বন্দর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রেজাউল করিম বলেন, এই বিষয়ে আমি কিছুই জানি না, আমাকে এই বিষয়ে কেউ কোন কিছু জানায়নি।

 

 

তবে এখন আমি যেহেতু বিষয়টি জানতে পারলাম, বিষয়টি নিয়ে আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) স্যারের সাথে কথা বলে একটি ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করবো। আমি বিষয়টি ইউএনও স্যারকে বুঝিায়ে বলবো, তারপর দেখি কি করা যায়। এই বিষয়ে বিবিসি ইটভাটার মালিক আব্দুল মান্নান জানান, এখানে শুধু আমার ইটভাটা একা নয়, এখানকার প্রত্যেকটি ইটভাটাই স্কুলের কাছাকাছি।

 

 

আমারটা যদি স্কুলের পরিবেশ ক্ষতি করে তাহলে আরও অনেক ইটভাটা আছে যেগুলো এমনই স্কুলের কাছাকাছি। সেগুলোর জন্য কি আলাদা আইন এবং শুধু আমারটার জন্য কি আবার আলাদা আইন? অন্যগুলো যেমন অবৈধ তেমনি আমারটাও অবৈধ। তাই অন্যগুলোর যা অবস্থা হবে আমারটাও সেই একই অবস্থা হবে।   এন. হুসেইন/ জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন