কর্মসূচি পালনে ঠুঁটো জগন্নাথ ব্যানারে চাঁদাবাজি
সাইমুন ইসলাম
প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৩:২১ পিএম
# অপকর্মে লিপ্তদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি
ক্ষমতাসীন দলের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৮৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি “শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদ” সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠনের মাধ্যমে শিশু শেখ রাসেলের স্মৃতি, মুক্তিযোদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারন করে এই দেশকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।
তাই প্রধানমন্ত্রীর হাতে গড়া এই সংগঠনটির মহাত্ম অশেষ। অথচ মহা গুরুত্বপূর্ন এই সংগঠনটির ফতুল্লা থানা কার্যালয়ের বিরুদ্ধে উঠেছে নানা অপরাধ ও অনিয়মের এর অভিযোগ। তথ্যমতে প্রধানমন্ত্রীর হাতে গড়া সংগঠনটির ফতুল্লা শাখায় পালিত হয়না দলীয় কোনো কর্মসূচি।
এমনকি সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাবাষির্কী পর্যন্ত পালিত হয় না কার্যালয়টিতে। শুধু তাই নয় অভিযোগ রয়েছে পঞ্চবটিতে অবৈধ ষ্ট্যান্ড বসিয়ে মাসিক হারে চাঁদাবাজিতে লিপ্ত রয়েছে এ ক্লাবটির সভাপতি অপু। অথচ এ সংগঠন সৃষ্টির লক্ষ ছিলো সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠনের মাধ্যমে শিশু শেখ রাসেলের স্মৃতি, মুক্তিযোদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারন করে এই দেশকে এগিয়ে নেওয়া।
কিন্তু তারা সামাজিক ,সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়ামূলক কোনো কর্মসূচি তো করে ই না। বরং দলীয় কর্মসূচি ও জাতীয় দিবসগুলোতে পর্যন্ত পালন করেনা কোনো কর্মসূচি। আরোও জানা যায় তারা শুধু মাত্র রাতের বেলায় এই সংগঠনের কার্যালয়টি খুলে থাকে। দিনের বেলা বন্ধ থাকে। রাতের বেলায় চাঁদাবাজদের সাথে আড্ডা জমে বলে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।
দলীয় সাংগঠনিক ও জাতীয় কোনো কর্মসূচিতে অংশ না নিয়ে শুধু মাত্র চাঁদাবাজি করার জন্য অফিস রাখা হয়েছে বলে মনে করেন সচেতন নাগরিকরা। এতে করে প্রধানমন্ত্রীর হাতে গড়া সংগঠনটি ব্যাপকভাবে সমালোচিত হচ্ছে বলে অভিমত সকলের।
এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ সংগঠনটির সভাপতি অপু জানান, অফিসটি দিনে খোলা হয়না। শুধু মাত্র রাতে খোলা হয় একটু আড্ডা দেওয়ার জন্য। তবে এই ক্লাবের বিরুদ্ধে যে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে তা মিথ্যা।
এমন কর্মকান্ডে তারা জড়িত নয়। তবে তিনি স্বিকার করেন আগে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হলেও বর্তমানে কোনো কর্মসূচি এ অফিসের তত্ত্বাবধায়নে পালিত হয়না।
এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বক্তাবলী ইউনিয়ণ পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এম শওকত আলী জানান, সংগঠনটির বিরুদ্ধে উঠা এমন অভিযোগ সম্পর্কে তার জানা ছিলো না। তবে কেউ জাতীয় ও দলীয় কর্মসূচি পালন না করলে কিংবা সংগঠনের ব্যানারে চাঁদাবাজিতে লিপ্ত থাকলে তার বিরুদ্ধে অতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার লুৎফর রহমান স্বপন যুগের চিন্তাকে জানান, শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগটি স্পর্শকাতর।
নেত্রীর হাতের গড়া সংগঠনের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ দুঃখজনক। কেউ এ সংগঠনটি সমালোচিত করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে সচেতন মহলের দাবী যে লক্ষে শেখ হাসিনা এই সংগঠনটি সৃষ্টি করেছিলেন সে লক্ষ দ্রুত বাস্তবায়ন করে সংগঠনটির ইমেজ ফিরিয়ে আনা হোক। যারা এই সংগঠনটিকে সমালোচিত করেছে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এন.হুসেইন/জেসি


